সিলোম
ইংরেজি : Coelom
প্রাণীদেহের দেহ প্রাচীরের প্যারাইটাল
আবরণী ও পৌষ্টিকনালির ভিসেরাল আবরণীর মধ্যবর্তী স্থানের তরলে পূর্ণ গহ্বরকে সিলোম
বলে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন ভ্রূণীয় মেসোডার্ম থেকে সিলোমের সৃষ্টি হয়। সিলোম দেহের
অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ ধারণ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। এ ছাড়া সংবহন, বর্জ্য পদার্থ
ধারণ ও নিষ্কাশন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে।
প্রাণীদেহে সিলোমের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির বিচারে সমগ্র প্রাণীকূলকে তিনটি ভাগে
ভাগ করা হয়। এই ভাগগুলো হলো−
সিলোমবিহীন
(Acoelomate)
প্রাণী:
যেসব প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে তরলে পূর্ণ গহ্বরের পরিবর্তে অন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ
এবং বিভিন্ন ধরনের কোষ বা কলায় পরিপূর্ণ থাকে তাদেরকে সিলোমবিহীন প্রাণী বলে।
অর্থাৎ এদের সিলোম অনুপস্থিত। যেমন−
নিডোরিয়া (Cnidaria)
পর্বের জেলিফিশ, প্লাটিহেলমিনথিস
(Platyhelminthes)
পর্বের ফিতাকৃমি।
অপ্রকৃত সিলোম
বিশিষ্ট (Pseudocoelomate)
প্রাণী:
যেসব প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে তরলে পূর্ণ গহ্বর উপস্থিত কিন্তু তা প্যারাইটাল
আবরণী ও ভিসেরাল আবরণী দ্বারা আবৃত নয় তাদেরকে অপ্রকৃত সিলোম বিশিষ্ট প্রাণী বা
প্রাণী বলে। এজাতীয় সিলোমে মেসোডার্মাল আবরণ (প্যারাইটাল আবরণী ও ভিসেরাল
আবরণী) অনুপস্থিত থাকায় একে প্রকৃত সিলোম হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। নিমাটোডা
(Nematoda)
পর্বের প্রাণীসমূহে অপ্রকৃত সিলোম দেখতে পাওয়া যায়। যেমন−
গোল কৃমি।
প্রকৃত সিলোম
বিশিষ্ট (Eucoelomate)
প্রাণী:
যেসব প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে দেহ প্রাচীরের প্যারাইটাল আবরণী ও পৌষ্টিকনালির
ভিসেরাল আবরণীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে তরলে পূর্ণ গহ্বর তথা প্রকৃত সিলোম বিদ্যমান
তাদেরকে প্রকৃত সিলোম বিশিষ্ট প্রাণী বলে। অ্যানিলিডা
(Annelida)
থেকে কর্ডাটা (Chordata)
পর্বের প্রাণীসমূহে প্রকৃত সিলোম দেখতে পাওয়া যায়।