মূত্র
ইংরেজি:
Urine

মানবদেহ থেকে তরল বর্জ্য পদার্থ বিশেষ। মুত্র উৎপন্ন হয় মানবদেহের বৃক্কে। বৃক্কের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। নেফ্রনে বোম্যান্স ক্যাপসুল, গ্লোমেরুলাস এবং বৃক্কীয় নালিকা বিদ্যমান। গ্লোমেরুলাস-এর ভেতর দিয়ে রক্ত প্রবাহকালে রক্ত থেকে গ্লুকোজ, ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, লবণ, পানি ইত্যাদি বোম্যান্স ক্যাপসুলে প্রবেশ করে। বৃক্কীয় নালিকা অতিক্রম করার সময় প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ, পানি, লবণ ইত্যাদি পুনরায় শোষিত হয় এবং অবশিষ্টাংশ মূত্র হিসেবে বের হয়।

নেফ্রনের রেনাল টিউব্যুলের বিভিন্ন অংশ থেকে পুনঃশোষিত হওয়ার পর সামান্য হলুদ বর্ণের, ঝাঁঝালো, অম্লধর্মী পানিসহ যে তরল দেহ থেকে মূত্রপথে নিষ্কাশিত হয়, তাকে মূত্র বলা হয়। এর মাধ্যমেই দেহে নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়। মূত্রে পানির পরিমাণ প্রায় ৯৫%। অন্যান্য উপাদানের মধ্যে ইউরিক এসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়াটিনিন, বিভিন্ন লবণ এবং অন্যান্য উপাদান। মূত্রে ইউরোক্রোম নামক পদার্থের উপস্থিতির কারণে মূত্রের রং হলুদাভ হয়ে থাকে। এর pH এর মান 6, অর্থাৎ এটি আম্লিক। খাদ্যে আমিষ থাকলে তা আম্লিক মূত্র উৎপন্ন করে। আবার ফলমূল ও তরিতরকারি সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র উৎপন্ন করে।

একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মি.লি. মূত্র ত্যাগ করে। মূত্রের পরিমাণ আবহাওয়া, পরিবেশের তাপমাত্রা খাদ্যের পরিমাণ, পানি গ্রহণের পরিমাণ, দৈহিক ও মানসিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। কিছু কিছু দ্রব্য আছে যেগুলো মানুষের মূত্রের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন পানি, লবণাক্ত পানি, চা, কফি ইত্যাদি। এদের ডাইউরেকটিস বলা হয়। আবার, বেশি ঘামলে মূত্রের পরিমাণ কমে যায়।