মহানির্বাণতন্ত্র
সনতন হিন্দুধর্মের শাক্তধর্মের (দেবী দুর্গা বা কালীর উপাসনা) একটি অন্যতম প্রধান তন্ত্রগ্রন্থ। শিব এবং দেবী পার্বতীর মধ্যকার কথোপকথনের সূত্রে রচিত। অন্যান্য তন্ত্রগ্রন্থের তুলনায় এটি কিছুটা আধুনিক এবং এর দর্শন অনেক বেশি উদার ও সামাজিক সংস্কারপন্থী।

আধুনিক গবেষক (যেমন: আর্থার অ্যাভালন, জে.এন. ফারকুহার) এবং ঐতিহাসিকদের মতে, মহানির্বাণতন্ত্রের বর্তমান রূপটি অষ্টাদশ শতাব্দীর (১৮শ শতাব্দী) শেষভাগে রচিত বা সংকলিত হয়েছে। এই গ্রন্থে সতীদাহ প্রথার বিরোধিতা এবং নারী শিক্ষার ওপর যে জোর দেওয়া হয়েছে, তা ১৮শ শতাব্দীর শেষভাগের বাংলার সমাজ সংস্কার আন্দোলনের সাথে মিলে যায়। এর সংস্কৃত ভাষা অত্যন্ত সরল এবং আধুনিক ছাঁচের, যা প্রাচীন তন্ত্রগ্রন্থগুলোর তুলনায় বেশ আলাদা। এতে শ্রীমদ্ভাগবত গীতা এবং অদ্বৈত বেদান্তের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যা মধ্যযুগের শেষ দিকের তান্ত্রিক সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য।

অনেকে মনে করেন, এই গ্রন্থটি ১৭৭৫ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত হয়েছে বা এর চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। রাজা রামমোহন রায় তাঁর 'ব্রাহ্ম সমাজ' প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবং একেশ্বরবাদ প্রচারের জন্য এই গ্রন্থের অদ্বৈতবাদী শ্লোকগুলোকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিছু কট্টর সমালোচক এমনকি এমনও দাবি করেন যে, রামমোহন রায়ের বন্ধু বা তাঁর সমসাময়িক কোনো পণ্ডিত (যেমন হরিহরানন্দ ভারতী) এই গ্রন্থটি সম্পাদনা বা সংকলন করেছিলেন।  

এই গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য
মহানির্বাণতন্ত্রে চক্র: মহানির্বাণতন্ত্রে প্রধানত দুই ধরনের চক্রের কথা বলা হয়েছে। চক্র দুটি হলো-ভৈরবী চক্র: ও তত্ত্ব চক্র।

সূত্র: