হযরত সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)
মাইজভাণ্ডারী তরিকার
সাধক
১৮৬৫-১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ
তিনি 'বাবা ভাণ্ডারী' নামে সমধিক পরিচিত। তরীকার প্রসারে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ অক্টোবর (১২৭২ বঙ্গাব্দের ২৭ আশ্বিন, ১২৮৪ হিজরীর ১২ জিলহজ)
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা
ছিলেন হযরত গাউছুল আজমের ছোট ভাই সৈয়দ আব্দুল করিম শাহ আল মাইজভাণ্ডারী। মায়ের নাম
সৈয়দা মোশাররফ জান। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। তাঁর চাচা
হযরত গাউছুল আজম তাঁকে বিশেষ স্নেহ করতেন এবং "আমার বাগানের গোলাপ ফুল" বলে সম্বোধন
করতেন।
তাঁর স্ত্রীর নাম সৈয়দা কাওসারুন্নেছা ।
তাঁর পুত্র ছিলেন- হযরত সৈয়দ আবুল বাশার মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)।
কন্যার নাম ছিল -সৈয়দা সাজেদা খাতুন।
তিনি গ্রামের মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে ফরকানিয়া
মাদ্রাসা ও চট্টগ্রাম সরকারি মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির
এবং সুফি শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবনে অসাধারণ প্রতিভার
অধিকারী ছিলেন।
২৩ বছর বয়সে সংসারের প্রতি উদাসীন হয়ে তিনি
আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন হন। তাঁর পীর ছিলেন হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ
উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ), যাঁর কাছে তিনি দীক্ষা লাভ করেন। ১২ বছর ধরে তিনি
চট্টগ্রামের বন-জঙ্গল, পাহাড় এবং নদী-সাগরে ভ্রমণ করে কঠোর সাধনা করেন।
১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে
গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর
মৃত্যর পর মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের দ্বিতীয় সাজ্জাদানশীন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মাইজভাণ্ডারী তরিকাকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান এবং মিয়ানমারে ছড়িয়ে দেন। তাঁর নেতৃত্বে জিকির মাহফিল, মিলাদ এবং আধ্যাত্মিক সমাবেশ ব্যাপকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
ফারসি ভাষায় একটি বিখ্যাত মুনাজাত রচনা করেন, যা তাঁর আধ্যাত্মিক গভীরতার প্রমাণ। এটি ইংরেজিতেও অনুবাদিত এবং তরিকার অনুসারীদের মধ্যে প্রচলিত।
দারিদ্র্য, শিক্ষা এবং সামাজিক সেবায় অবদান রাখেন। তাঁর শিক্ষা অনুসারে, তরিকার অনুসারীরা মানবতাবাদী কাজে নিয়োজিত থাকেন।
তিনি সাধারণ জীবন যাপন করতেন, কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করতেন এবং মানুষের প্রতি দয়া ও নম্রতার উদাহরণ স্থাপন করেন।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫ এপ্রিল (বাংলা ১৩৪৩ সালের ২২ চৈত্র) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে
মৃত্যবরণ করেন। তাঁর মাজার দরবারের মধ্যে অবস্থিত, যা ভক্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র হযরত সৈয়দ আবুল বাশার মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এবং পৌত্র হযরত সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) তরিকার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন। তাঁর শিক্ষা মাইজভাণ্ডারী তরিকাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রতি বছর ২২ চৈত্রে তাঁর বার্ষিক ওরশ শরীফ গাউসিয়া রহমান মঞ্জিল এবং অন্যান্য মঞ্জিলে মহাসমারোহে পালিত হয়, যাতে লক্ষাধিক ভক্ত অংশগ্রহণ করে। পরবর্তী দিনে চাহরাম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।