শেখ ভানু
১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দ (১২৫৮ বঙ্গাব্দ) -১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ (১৩২৬ বঙ্গাব্দ)।
এরপর তাৎক্ষণিক নৌকার অন্যদের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে বাড়ি ফেরেন শেখ ভানু। অনেকটা ঘোরের মধ্যেই কিছুদিন কাটে তার। এ সময় শেখ ভানু সুফিবাদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য বাগদাদ থেকে বাংলাদেশে আগত দরবেশ মীরান শাহের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। যার বয়ান 'আশরারুল এশক' গ্রন্থে তিনি ত্রিপদি ছন্দে উল্লেখ্য করেছেন-মুরদা মানুষ এক ভাসে দরিয়ায়
উপরে বসিয়া কাকে চক্ষু তার খায়
মাছ-মাছালি টাইনে খায় জলের উপরে
সোনার তনু জলে ভাসে কোথায় গেল দম।
এরপর তিনি ধীরে ধীরে প্রবেশ করেন মরমী গানের জগতে। এই আদর্শ অনুসরণে তিনি একের পর এক গজল, মুর্শিদি, দেহতত্ত্ব, মনশিক্ষা, নিগূঢ়তত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব, বাউলগান, বিচ্ছেদ, কাওয়ালি, বৈষ্ণব পদাবলি ও বারোমাসি পর্যায়ভুক্ত গান রচনা করতে থাকেন। তার লিখা গানের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি।মুর্শিদ মোর মীরাণ শাহা, মরি মরি আহা আহা
কি কহিমু গুণের বাখানী।
বড়পীর বোগদাদেরই, বহুত দিন খাদেম করি
দেশে দেশে করিলেন ছফর।
(একদিন) গরিব খানাতে আসি, জাগিয়া পোহাইলেন নিশি
নছিয়ত করিলেন বহুতর।
মুরিদ করিয়া মোরে, চলিয়া গেলেন ঘরে
রাখিয়া আমারে একাশ্বর।
দেশে দেশে আছে জারী, তাতার মুল্লুক হয় বাড়ী
জন্ম আদি সৈয়দ খান্দান।
১. আমি পাড়লাম না-রে আমার মনকে বুঝাইতে
২. নিশিতে যাইও ফুল বনে।
১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে মনসুর উদ্দীন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েক হাজার বাউল গান সংগ্রহ করেন।
এই গানগুলো 'হারামণি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এই কবিকে নিয়ে সৈয়দ মোস্তফা কামাল, দেওয়ান নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, ডঃ আসরাফ সিদ্দিকী, মোস্তফা জামান আব্বাসী, নন্দলাল শর্মা, তরফদার মোহাম্মদ ইসমাইলের মতো গুণিজনেরা গবেষণা করেছেন।
'সুফী দার্শনিক কবি শেখ ভানু' শিরোনামে একটি গ্রন্থ ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
১৩২৬ বঙ্গাব্দের ৩ কার্তিক (সোমবার, ২০ অক্টোবর ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
[শেখ ভানুর রচিত গানের তালিকা]
[শেখ ভানুর গানের শ্রেণিকরণ]
- সিলেটের মরমী মানস। সম্পাদক সৈয়দ মোস্তফা কামাল। প্রকাশনা: মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ, প্রকাশ। ২০০৯।
- সিলেটের আঞ্চলিক গান 'শেখ ভানু প্রবন্ধ'। মোহাম্মদ খালেদ মিয়া। প্রকাশক: সাইদুর রহমান, মে ২০০৫।
- বাউল-ফকির পদাবলি শেখ ভানু। সুমনকুমার দাশ। প্রকাশক: মোঃ শাহাদাত হোসেন। ২০১৭।
- শেখ ভানু শাহ'র কালাম ও বিশ্লেষণ। মোঃ বদিউল আলম। ২০১১।