যাষ্টিক
০০-৫০০ খ্রিষ্টাব্দ
প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম সঙ্গীতজ্ঞ।

যাষ্টিকের  রচিত 'সর্বাগমসংহিতাষাং' নামক একটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। তবে গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায় নি।
রচিত কোনো গ্রন্থের সন্ধান পাওয়া যায় নি।
৫০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে যাষ্টিকের রচিত সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাদি ব্যবহার করেছেন। 

বৃহদ্দেশী গ্রন্থের বিচারে যাষ্টিকের সঙ্গীত ভাবনা
বৃহদ্দেশীতে মতঙ্গ তিনি যাষ্টিকের উদ্ধৃতিতে গীতের তিন প্রকারের কথা উল্লেখ করেছেন।  এগুলো হলো- ভাষা, বিভাষাঅন্তরভাষা। [বৃহদ্দেশী। পৃষ্ঠা: ১৩৪]

তাঁর মতে- ভাষারাগসমূহ গ্রামরাগ থেকে উদ্ভূত হয়েছে ভাষা এবং ভাষা থেকে বিভাষিকা (বিভাষা) রাগসমূহ। আবার বিভাষা রাগরাগগুলো থেকে উৎপন্ন হয়েছে অন্তরভাষা রাগসমূহ। [পৃষ্ঠা: ১৯০]
বৃহদ্দেশীতে [পৃষ্ঠা: ১৯৩] যাষ্টিকের উদ্ধৃতিতে গ্রামরাগ ও এর ভাষারাগের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা হলো-
  • টক্ক (রাগগীতির অন্তর্গত গ্রামরাগ): এই গ্রামরাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১৬টি।এগুলো হলো-  ত্রবণা, ত্রবোণদ্ভবা, বেরঞ্জিকা, ছেবাটী, মালবেসরী, গুর্জরী, সৌরাষ্ট্রিকা, সৈন্ধবী, বেসরিকা, পঞ্চম, রবিচন্দ্রিকা, অম্বাহেরী, ললিতা, কোলাহলী, মধ্যমগ্রামিকা, গান্ধারপঞ্চমী
  • মালবকৈশিক (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৮টি। এগুলো হলো- শুদ্ধা, আদ্যবেসরিকা, হর্ষপুরী, মাঙ্গলী, সৈন্ধবী, আভীরী, খঞ্জরী, গুঞ্জরী।

    তালিকায় পৌরালী ছিল না। বৃহদ্দেশীর রাগ বিষয়ক বিস্তারিত আলোচনায় খঞ্জরী ছিল না। আবার শুদ্ধা রাগকে যাষ্টিক বিভাষা রাগ হিসেবে উল্লেখ করেছন।
     
  • ককুভ (সাধারণী গীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৭টি। এগুলো হলো- কাম্বোজ, মধ্যমগ্রামিকা, সালবাহনিকা (সাতবাহিনী), ভাগবর্ধনী (ভোগবর্ধনী), মধুরী (মধুকরী), শকমিশ্রিতা, ভিন্নপঞ্চমী
  • হিন্দোল (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৫টি। এগুলো হলো- বেসরী, প্রথমমঞ্জরী, ছেবাটী , ষড়্‌জমধ্যমামধুকরী (মধুরী)।
  • পঞ্চম (শুদ্ধ বা চোক্ষ গীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১০টি। এগুলো হলো- আভীরী, ভাবিনী, মাঙ্গালী, সৈন্ধবী, গুর্জরী, দাক্ষিণাত্যা, আন্ধ্রী (অন্ধালী), তানোদ্ভবা, ত্রাবণী (ত্রাপণী) ও কৈশিকী।
  • ভিন্নষড়্‌জ (ভিন্ন গীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৯টি। এগুলো হলো- বিশুদ্ধা, দাক্ষিণ্যাত্যা, গান্ধারী, শ্রীকণ্ঠী, পৌরালী, মাঙ্গলী, সৈন্ধবী, কালিন্দী ও পুলিন্দী।
  • সৌবীর  (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৪টি। এগুলো হলো- সৌবীরী, বেগমধ্যা, সারিতা ও গান্ধারী।
  • ভিন্নপঞ্চম (ভিন্ন গীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৪টি। এগুলো হলো- শুদ্ধভিন্না, বরাটী, ধৈবতভূষিতা এবং বিশালা।
  • মালবপঞ্চম (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১টি। রাগটি হলো- ভাবিনী (লোকভাবিনী)
  • বোট্ট (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১টি। রাগটি হলো- মঙ্গল
  • টক্ককৈশিক (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ৩টি। এগুলো হলো-মালবা, ভিন্নললিতা ও দ্রাবিড়ী
  • বেসরষাড়ব: (রাগগীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ২টি। এগুলো হলো- বাহ্যষাড়ব ও নাদ্যা।
  • ভিন্নতান (ভিন্ন গীতির অন্তর্গত মূল রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১টি। রাগটি হলো-তানোদ্ভবা।
  • গান্ধারপঞ্চম (সাধারণী গীতের অন্তর্ভুক্ত রাগ): এই রাগের অধীনস্থ রাগের সংখ্যা ১টি। রাগটি হলো-গান্ধারী।
  • পঞ্চম ষাড়ব (উপরাগ): এর রাগের উপরাগের অন্তর্গত রাগ শক। এটি রেবাগুপ্ত নামক উপরাগের অধীনস্থ রাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাষ্টিকে মতে- অন্তরভাষা ছিল ৩টি। এগুলো হলো- ভাসবলিতা, কিরণাবলী ও শকনলিতা


তথ্যসূত্র: