বিষয়: নজরুল সঙ্গীত। শিরোনাম: আমি কেমন ক'রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা
আমি কেমন ক'রে কোথায় পাব কৃষ্ণ চাঁদের দেখা।
অন্ধকারে খুঁজি তাঁহার ব্রজের পথ-রেখা॥
মেঘে ঢাকা আকাশ সম
পাপে মলিন হৃদয় মম
সে-আকাশে উঠবে কি সে কৃষ্ণ-শশী-লেখা॥
অশান্ত তার বেণু বাজে
আমার ব্যাকুল বুকের মাঝে,
(আমি) শুনেছি, সে ডাকে তা’রেই যে বিরহী একা॥
ভাবসন্ধান: কৃষ্ণকে পাওয়ার আকুল আকাঙ্ক্ষা এই গানের কৃষ্ণ-অনুরাগীর
বাণীতে উপস্থাপিত হয়েছে। এই অনুরাগিণী মনের কৃষ্ণবিহীন আকাশ গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত।
তাই তিনি তাঁর মনের আকাশে কৃষ্ণ-রূপী চাঁদের অন্বেষণে ঘুরে মরেন। যে বজ্রধামে চলে
কৃষ্ণের লীলা, সে পথ তিনি খুঁজে পান না। তিনি মনে করেন পাপের মেঘে ঢাকা তাঁর মনের
আকাশ। সে পাপের কালিমায় হৃদয় হয়েছে মলিন। তাঁর মনে সংশয় জাগে- এমন পাপ মলিন- মনের
আকাশে কৃষ্ণ তাঁর সকল অন্ধকার দূর করে, চাঁদ হয়ে দেখা দেবেন কি না।
এই অনুরাগিণীর মনে বাজে কৃষ্ণের মোহন বাঁশী। এই বাঁশীর সুর কৃষ্ণদর্শনের আকাঙ্ক্ষাকে
আরো তীব্রতর করে তোলে। তাঁর মন হয়ে ওঠে অশান্ত, ব্যাকুল। অনুরাগিণী শুনেছেন- যিনি
কৃষ্ণবিহীন একাকিনী, তিনিই তাঁকে ডাকেন। কৃষ্ণের সেই ডাক শোনার অপেক্ষায় থাকেন এই
আত্মনিবেদিতা অনুরাগিণী।
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের
ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪) এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি 'বিল্বমঙ্গল' একটি
রেকর্ড নাটক প্রকাশ করেছিল। এই নাটকে গানটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে
প্রকাশিত হয়েছিল।
এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৬ মাস।
গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান
১১০০]