বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: কত দূরে তুমি, ওগো আঁধারের সাথি
কত দূরে তুমি, ওগো আঁধারের সাথি।
হাত ধর মোর নিভিয়া গিয়াছে বাতি॥
চলিতে চলিতে তোমার তীর্থ-পথে
হারায়ে গিয়াছি অন্ধকারের স্রোতে,
এসে তু'লে লও তোমার সোনা রথে
─
(লহ) প্রভাতের তীরে, শেষ হয় যথা রাতি॥
যে ধ্রুব-তারার পথ দেখাইয়া নীরবে চলেছ তুমি,
সে-পথ ভুলিয়া আসিলাম মায়া-তৃষ্ণার মরুভূমি।
সাড়া নাহি পাই আর আজ ডেকে ডেকে
কাঁদিছ কি তুমি মোরে সাথে নাহি দেখে?
হয়ত ফিরিবে অমৃতের তীর থেকে
─
সেই আশে আছি পথ পানে আঁখি-পাতি'॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে কবি তাঁর পরমসত্তাকে উপস্থাপন করেছেন তাঁর চলার পথের
দিশারী হিসেবে। যিনি কবির নিজের দোষে ত্যাগ করেছেন কবিকে। অজ্ঞানতা, কুসংস্কারের অন্ধকারে নিমজ্জিত পথের দিশাহীন দশায় কবির
একান্ত প্রার্থনা যেন তিনি সখা হয়ে কবিকে হাত ধরে নিয়ে যান আলোর পথে।
তাঁর নির্দেশে চলা যাপিত-জীবনের যাত্রা পথে, কবি পথ হারায়েছেন নানা লোভ লালসার অন্ধকারের স্রোতে।
রাত্রির অন্ধকার শেষে যেমন করে প্রভাতের আলো জগৎকে আলোকিত করে। তেমনি অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে,
তিনি তাঁর সত্য-সুন্দরের
জ্যোতির্ময় স্বরণরথে জ্ঞানতীর্থরূপী প্রভাতের তীরে পৌঁছে দেন কবিকে। এটাই কবির একান্ত কামনা।
কবি মনে করেন- অন্ধকারাচ্ছ্ন্ন জীবনের চলার পথে, পরমসত্তা তাঁকে ধ্রুব-তারার পথ দেখিয়েছেন নীরবে।
সে-পথ ভুলে কবি সংসারের মায়া-তৃষ্ণার মরুভূমিতে দিশাহীন হয়ে ঘুরে
মরেছেন। পথহারা কবি সেই পরমসত্তা থেকে দূরে সরে গেছেন। তাঁর সঙ্গত্যাগের বেদনায়
কবির সাথে তিনিও কি ব্যাথিত, এমন সংশয় জাগে কবির মনে। কবি তাঁর দিশাহীন পথে চলতে
চলতে ভাবেন- হয়তো আবার তাঁর আরাধ্য পরমসত্তা অমৃতের তীর থেকে তাঁকে উদ্ধারের জন্য
ফিরে আসবেন। এই আশা নিয়ে তাঁর আঁধারের সাথির ফিরে আসার প্রতীক্ষায়, পথের দিকে চেয়ে
থাকেন অনির্মেষে।
-
রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র- মাসে, আশ্বিন ১৩৪৬), টুইন রেকর্ড
কোম্পানি থেকে গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪০ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ,[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ১৩৪৮।
-
রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ (ভাদ্র- আশ্বিন ১৩৪৬)।
এফটি ১২৯৬৯। শিল্পী: পারুল সোম]
-
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরম সত্তা। প্রার্থনা