বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম
:
কমলা রূপিণী, শক্তি-স্বরপিণী
কমলা রূপিণী, শক্তি-স্বরপিণী
পতিব্রতা সতী ধর্ম-বিধায়িনী
─ সীতা, জয় সীতা।
জনক দুলারী রাজকুমারী
লব-কুশ-জননী, রাম-কী পিয়ারী
─ সীতা, জয় সীতা॥
আওধ-প্রজাকুল শান্তি-বিধায়িনী
পতি-অনুগামিনী, বন-বনচারিণী,
অশোক-কানন উজ্জ্বলকারিণী
─ সীতা, জয় সীতা॥
বসুমতী-অঙ্ক সমুজ্জ্বল-কারিণী
সতীকে তেজ-বল-অগ্নিনিবারণী,
সুখ-দুখমে পতি-চরম ভিখারিনী
─ সীতা, জয় সীতা॥
- ভাবসন্ধান: রামায়ণের প্রেক্ষাপটে এই গানে কমলা-রূপিণী শক্তি-রূপিণী সীতার
পরিচয় দেওয়া হয়েছে- নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে। উল্লেখ্য ত্রেতাযুগে ভগবান বিষ্ণুর
অবতার হিসেবে রাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীও সীতা
রূপে তাঁর সঙ্গিনী হিসেবে অবতীর্ণ হন। রামায়ণ অনুসারে তিনি ছিলেন- জনকরাজার কন্যা। তিনি ছিলেন রামের প্রিয়তমা এবং লব-কুশের জননী।
তবে তাঁকে পতিব্রতা এবং ধর্ম-বিধায়িনী আদর্শ নারী হিসেবে সনাতন ধর্মীরা
মান্য করে থাকেন।
তিনি ছিলেন আওধের (অযোধ্যার) প্রজাকূলের শান্তি-বিধায়িনী। রামের বনবাস কালে তিনি তাঁর অনুগামিনী হয়ে- বনচারিণী হয়েছিলেন। রাবণ যখন তাঁকে অপহরণ করে লঙ্কার অশোক-কাননে
বন্দিনী করে রাখেন, তখন সে কানন তাঁর সৌন্দর্যমহিমায় মহিমান্বিত হয়েছিল।
তিনি ছিলেন ধরিত্রী দেবী তথা বসুমতীর কন্যা।
তিনি তাঁর মাতা ধরিত্রীর কোলকে
উজ্জ্বল করেছিলেন। তিনি সীতার সতীত্বের পরীক্ষায় তেজস্বী, শক্তিশালী এবং আগুনকে
প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। সুখে-দুখে তিনি তাঁর স্বামীর একজন চূড়ান্ত প্রেমিকা
এবং সেবিকা হয়ে
ভিখারিণীর মতো নিজের সবটুকু সঁপে দিয়েছিলেন। এই গানে
'ভিখারিণী' শব্দের দ্বারা রামের প্রতি সীতার প্রেম ও নির্ভরতার গভীরতম সমর্পণের
মনোভাবকে বুঝানো হয়েছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭
খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৪) মাসে, এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে। সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৮ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট। তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান
১৩৭০]
- রেকর্ড: এইচএমভি [অক্টোবর ১৯৩৭ (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪৪)]। এইচএমভি। এন ৯৯৬৫। মৃণালকান্তি ঘোষ
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। সীতা। বন্দনা।