বিষয়: নজরুলসঙ্গীত।
শিরোনাম:নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী
নিদাঘের খর তাপে ক্লান্ত এ ধরণী।
মাধুরী হারায়ে হল পাণ্ডুল বরণী॥
পিঙ্গল জটাজাল, তেজ তার অশনি।
বৈশাখী ভোরে স্মরি’ রুদ্রাণী জননী॥
ধূলি-ধূসরিত প্রসারিত অম্বর
বুক-ভরা তৃষা তার, চাহে সে নটবর,
শ্যামলী মেঘ-মালা, সেই তার জলধর –
দাহনের অবসানে জুড়াইবে আপনি॥
- ভাবার্থ: গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে ক্লান্ত পৃথিবী তার শ্যামল রূপ মাধুরী
হারিয়ে পাণ্ডুবর্ণ ধারণ করেছে। এ গানের প্রথমাংশে তাপক্লিষ্ট পৃথিবীর রূপকেই উপস্থাপন করা হয়েছে, নানা রূপকতারমধ্য দিয়ে।
রুদ্ররূপী গ্রীষ্ম যেন তার বজ্রের মতো তেজদীপ্ত জটাজাল বিস্তার করে পৃথিবীকে দগ্ধ
করে। তাই কবি (রুদ্রাণী জননী) মাতৃরূপিণী ভবানীকে কল্যাণী রূপে গ্রীষ্ম-প্রভাতে
স্মরণ করছেন।
গ্রীষ্মের ধূলি-ধূসরিত ধরণীর বিস্তৃত হয় আকাশসীমায়। তার বক্ষজুড়ে অসীম তৃষ্ণা, তাই
তিনি নটবরবেশী জলধরকে (মেঘরাশি) শ্যামলী মেঘমালা রূপে গ্রীষ্মের আকাশে আবির্ভূত হওয়ার
প্রার্থনা করছেন। কবি প্রত্যাশা জলধরের বর্ষণে গ্রীষ্মের তীব্র
দহনের অবসান হবে এবং প্রকৃতিতে নেমে আসবে প্রশান্তি।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৫০১। পৃষ্ঠা:
৪৫১]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: প্রকৃতি, গ্রীষ্ম