বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ফিরদৌসের শিরনি এলো ঈদের চাঁদের তশতরীতে
ফিরদৌসের শিরনি এলো ঈদের চাঁদের তশতরীতে।
লুট ক’রে নে বনি আদম ফেরেশ্তা আর হুপরীতে॥
চোখের পানি হারাম আজি
চলুক খুশির আতস বাজি,
(তার) মউজ লাগুক দূর সেতারা জোহরা আর মোশ্তরীতে॥
দুশমনে আজ দোস্ত মেনে নে তারে তুই বক্ষে টেনে
হস্নে নারাজ দরাজ হাতে দৌলত তোর বিলিয়ে দিতে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে ঈদ উৎসবের আনন্দ, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমাশীলতা এবং মানবকল্যাণের চিরন্তন আদর্শ কাব্যিক রূপে
উপস্থাপিত হয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের হৃদয়ে যে আনন্দ, উদারতা ও মিলনের বাণী জাগ্রত হয়, কবি সেই সার্বজনীন মানবিক চেতনাকেই রূপায়িত করেছেন।
গানের শুরুতেই কবি ঈদের আগমনকে স্বর্গীয় আশীর্বাদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। ‘ফিরদৌসের শিরনি’ বলতে জান্নাতের অমৃতসম উপহার বা পরম আনন্দের প্রতীককে বোঝানো হয়েছে, যা ঈদের চাঁদের ‘তশতরী’ বা থালায় ভরে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে। এই আনন্দ কেবল মানুষের জন্য নয়; বরং ফেরেশতা ও হুরপরীরাও যেন এতে অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন, স্বর্গীয় এবং সীমাহীন বলে চিত্রিত করা হয়েছে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি বলেছেন, ঈদের দিনে দুঃখ ও অশ্রুর কোনো স্থান নেই। ‘চোখের পানি হারাম আজি’ কথাটির মাধ্যমে তিনি শোক, হতাশা ও বেদনা ভুলে আনন্দকে বরণ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘খুশির আতসবাজি’ এবং ‘সেতারা
(নক্ষত্র), জোহরা (শুক্রগ্রহ) আর মোশতরী (বৃহস্পতি গ্রহ)’—এই চিত্রকল্পগুলোর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে,
ঈদের আনন্দ, উল্লাস ও বরকত যেন শুধু পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দূর
আকাশের নক্ষত্র, শুক্র গ্রহ এবং বৃহস্পতি গ্রহ ছড়িয়ে পড়ুক। এটি ঈদের আনন্দের
সর্বব্যাপী ও মহাজাগতিক বিস্তারের একটি কাব্যিক অতিশয়োক্তি।
গানের শেষাংশে ঈদের প্রকৃত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কবি আহ্বান জানিয়েছেন—শত্রুকেও আজ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে, তাকে বুকে টেনে নিতে এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ ভুলে যেতে।
শত্রুকেও আজ বন্ধু করে বুকে টেনে নাও, আর উদার হাতে নিজের ধন-সম্পদ বিলিয়ে দাও। অর্থাৎ ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষ ক্ষমা, ভালোবাসা, দানশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শকে জীবনে ধারণ করে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি থেকে এই গানটির একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৫৫৯। পৃষ্ঠা:
৪৬৮]
- রেকর্ড: এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)। এন ৯৮২৫। শিল্পী:
লুৎফাউন্নিসা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। ধর্মাচার। ঈদ