বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম।
ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম।
দেশ-বিদেশে পথে ঘাটে হাঁকি সুব্হ-শাম॥
কলমা শাহাদরেত বাণী
যে বারেক বলে একটুখানি,
সে চাওয়ার অধিক দেয় আমারে মোর সওদার দাম॥
দাম দিয়ে সব দুনিয়াদারীর দামি জিনিস চায়,
অমূল্য এই আল্লারই নাম কেউ চাহে না হায়।১
আল্লাহ্ নামের ফেরিওয়ালায়
ডাকে ওরা শেষের বেলায়,
ঐ নাম দিয়ে সে আখেরে পায় বেহেশ্তী আরাম॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে কবি নিজেকে আল্লাহ্র নামের ফেরিওয়ালার প্রতীকী
চরিত্রে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ফেরিওয়ালা হয়ে দেশ-বিদেশে, পথে-ঘাটে, সকাল-সন্ধ্যা মানুষের কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসুলের নাম প্রচার করে বেড়ান। তবে তাঁর এই ব্যবসা জাগতিক লাভের জন্য নয়; বরং মানুষের অন্তরে ঈমান জাগ্রত করা এবং তাদের মুক্তির পথ দেখানোই তাঁর উদ্দেশ্য।
এই গানে ‘কলমা শাহাদত’-কে ইসলামের মূল বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবির বিশ্বাস, যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে একবারও এই ঈমানের বাণী উচ্চারণ করে, আল্লাহ্ তাকে তার প্রত্যাশার চেয়েও অধিক প্রতিদান দান করেন। এখানে সেই প্রতিদান কেবল পার্থিব নয়, বরং আধ্যাত্মিক শান্তি, আল্লাহ্র সন্তুষ্টি এবং পরকালের মুক্তির প্রতীক।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি পার্থিব জীবন ও আধ্যাত্মিক জীবনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন। পৃথিবীর মানুষ অর্থের বিনিময়ে নানারকম মূল্যবান বস্তু ক্রয় করতে আগ্রহী হলেও, আল্লাহ্র নাম—যা প্রকৃত অর্থেই অমূল্য—তার প্রতি অধিকাংশ মানুষের কোনো আকর্ষণ থাকে না। মানুষ জাগতিক সম্পদ, ভোগ-বিলাস ও ক্ষণস্থায়ী সুখের পেছনে ছুটে বেড়ায়; অথচ যে নাম মানুষের আত্মার মুক্তি ও চিরকল্যাণের পথ খুলে দেয়, তাকে অবহেলা করে।
গানের শেষাংশে মানবজীবনের এক গভীর বাস্তবতা উপস্থাপিত হয়েছে। জীবনের শেষ মুহূর্তে, যখন জাগতিক সম্পদ, ক্ষমতা ও প্রভাব কোনো কাজে আসে না, তখন সেই মানুষই আল্লাহ্র নামের আশ্রয় খোঁজে। কবির মতে, যে ব্যক্তি আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে আল্লাহ্র নাম স্মরণ করে, সে পরকালে জান্নাতের শান্তি ও চিরসুখ লাভ করে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না। ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৭)
মাসে মেগাফোন রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ:
- দ্বিতীয় সংস্করণ [ডিসেম্বর, ১৯৫২ (পৌষ ১৩৫৯ বঙ্গাব্দ)]
- নজরুল রচনাবলী সপ্তম খণ্ড [কার্তিক ১৪১৯, নভেম্বর ২০১২।
জুলফিকার দ্বিতীয় খণ্ড। ৮। পৃষ্ঠা ৯৪-৯৫]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২)।
১৫৭৩ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৪৭১।
রেকর্ড: মেগাফোন [আগষ্ট ১৯৪০ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪০)। শিল্পী: মীর মজফ্ফর আলী।
জেএনজি ৫৪৯২। সুর নজরুল ইসলাম]
পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। ধর্ম-প্রচার