বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত
ভক্তি ভরে পড় রে তোরা কলমা শাহাদাত।
আরশ হতে আনলেন নবী বেহেশ্তী দাওয়াত
এই কল্মা শাহাদাত॥
পাপে তাপে আছিস্ ডুবে একবার বল ভুলে
কলমা শাহাদাতের বাণী, অমনি উঠবি কূলে,
নিভবে দোজখের আগুন পাবি শাফায়ত॥
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'-র তাবিজ বেঁধে হাতে
চল রে পথে দেখবি- আছেন নবীজী তোর সাথে,
(তোর) ইহলোকের পরলোকের মিটবে রে হসরত্॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে ইসলামের মূল ঈমানি ঘোষণা কালিমা শাহাদাত-এর মাহাত্ম্য এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আন্তরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের আত্মিক মুক্তির পথ অত্যন্ত সহজ ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষায়
উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে কবি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন- যেন তাঁরা
তাঁদের আন্তরিক ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে কালিমা পাঠ করে তাঁদের ঈমানকে দৃঢ় করেন এবং আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করনে।
গানের শুরুতেই কবি ভক্তিভরে কালিমা শাহাদাত পাঠ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। ইসলামের এই মৌলিক ঈমানি ঘোষণা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ'-কে
তিনি জান্নাতের যাওয়ার আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কবি মনে করেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে এই মুক্তির বাণী মানবজাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। অর্থাৎ কালিমা কেবল
শুধুই একটি বাক্য নয়; এটি মানুষের ঈমান, মুক্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের ভিত্তিও
বটে।
কবি মনে করেন, মানুষ যদি পাপ ও দুঃখের সাগরে নিমজ্জিতও থাকে, তবু একবার আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে কালিমা উচ্চারণ করলে সে মুক্তির পথ
নিশ্চয়ই খুঁজে পাবে। এখানে 'কূলে ওঠা' রূপক অর্থে পাপ, হতাশা ও আধ্যাত্মিক অন্ধকার থেকে মুক্তি লাভকে
বুঝানো হয়েছে। আবার 'দোজখের আগুন নিভে যাবে' এবং 'শাফাআত লাভ করবে' -এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, আল্লাহর রহমত ও মহানবী (সা.)-এর সুপারিশের মাধ্যমে পরকালে মুক্তি লাভের আশা।
গানটির পরবর্তী অংশে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু'-কে তাবিজের ধারণ করার কথা বলেছেন। এখানে তাবিজ কোনো
পার্থিই বস্তু নয়, এটি ঈমান, আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং তাঁর স্মরণের বিমূর্ত
প্রতীক। কবি মনে করেন- যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস নিয়ে জীবনযাপন করেন, তিনি অনুভব করবেন- মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও শিক্ষা তার পথপ্রদর্শক হয়ে আছে। অর্থাৎ রাসুলের সুন্নাহ অনুসরণই মানুষের জীবনের প্রকৃত দিশা।
সবশেষে কবি আশ্বাস দেন, এই ঈমান ও সৎপথ অনুসরণ করলে মানুষের ইহকাল ও পরকালের সব হাহাকার, অপূর্ণতা ও আকাঙ্ক্ষার (হসরত) অবসান ঘটবে। কারণ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, নেক আমল এবং রাসুলের আদর্শ অনুসরণই মানুষের প্রকৃত কল্যাণ ও মুক্তির পথ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর (কার্তিক-অগ্রহায়ণ
১৩৪৩) মাসে,
এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি গানটির রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৫ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান
সংখ্যা ১৬৩২। পৃষ্ঠা: ৪৮৮]
- রেকর্ড: এইচএমভি [নভেম্বর ১৯৩৬ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৩)। এন ৯৮০৬। শিল্পী:
সাকিনা বেগম]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। কলেমা।