বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম:
মদিনাতে এসেছে সই নবীন সওদাগর।
মদিনাতে এসেছে সই নবীন সওদাগর।
সে হীরা জহরতের চেয়ে অধিক মনোহর॥
সই দেখতে তারে লাখো হাজার লোক ছুটেছে পথে
সে কোহিনূর মানিক এনেছে কোহ-ই-তূর হ’তে,
সে কোরান-জাহাজ বোঝাই ক’রে এনেছে সোনার মোহর॥
একবার যে কল্মা প’ড়ে আল্লা বলে এসে
তারে বিনি-মূলে সল্মা চুনি বিলিয়ে দেয় সে হেসে,
দুলিয়ে সে দেয় নামাজ রোজার হীরের তাবিজ বুকের পর॥
সে বেহেশ্তের কুঞ্জি ল’য়ে ডাকে অহরহ
বলে ঈমান এনে বেহেশ্ত যাবার সোনার চাবি লহ,
আমি প্রাণ দিয়েছি নজ্রানা, সই, দেখে’ তারে এক নজর॥
- ভাবসন্ধান: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য আল্লাহপ্রদত্ত সর্বশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সম্পদ, অর্থাৎ কোরআন, ঈমান ও মুক্তির পথ নিয়ে এসেছেন। তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করলে মানুষ পার্থিব ও পারলৌকিক কল্যাণ লাভ করতে পারে। তাই কবি রূপকধর্মী ভাষায় নবীর প্রতি গভীর প্রেম, শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
এই গানে কবি রূপকাশ্রয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন, তাঁর আনীত ইসলামের মহিমা এবং ঈমানের অমূল্য সম্পদের কথা তুলে ধরেছেন। এখানে নবীকে একজন “নবীন সওদাগর” বা নতুন বণিকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তবে তিনি পার্থিব ব্যবসায়ী নন; তিনি মানবজাতির জন্য আধ্যাত্মিক মুক্তি, সত্য ও কল্যাণের অমূল্য সম্পদ নিয়ে এসেছেন।
কবি বলেন, মদিনায় এমন এক সওদাগরের আগমন ঘটেছে, যিনি হীরা-জহরত থেকেও অনেক বেশি মূল্যবান। তাঁকে একনজর দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ ছুটে এসেছে। তিনি পৃথিবীর কোনো খনি থেকে রত্ন আনেন নি; বরং কোহ-ই-তূর (তূর পর্বত)-এর পবিত্রতার প্রতীকী ইঙ্গিত বহনকারী ঐশী আলো ও আল্লাহপ্রদত্ত বাণী নিয়ে এসেছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো পবিত্র কোরআন, যা কবি রূপকভাবে সোনার মোহরে বোঝাই জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ তিনি মানবজাতির জন্য অমূল্য ঐশী জ্ঞান ও হেদায়েতের ভাণ্ডার নিয়ে এসেছেন।
এরপর কবি বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে কালিমা পাঠ করে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, নবী তাকে বিনা মূল্যে অমূল্য আধ্যাত্মিক সম্পদ দান করেন। এখানে সলমা-চুনি, হীরের তাবিজ, নামাজ ও রোজা—এসবই রূপক। এগুলো ইসলামের শিক্ষা, ইবাদত এবং নৈতিক জীবনের প্রতীক, যা মানুষের আত্মাকে অলংকৃত করে এবং তাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
গানের শেষাংশে কবি জানান, মহানবী (সা.) সর্বদা মানুষকে জান্নাতের পথে আহ্বান করেন। তাঁর আহ্বান হলো—ঈমান গ্রহণ করো; তাহলেই জান্নাতে প্রবেশের সোনার চাবি লাভ করবে। কবি নিজেও সেই মহানবীর প্রতি অপরিসীম প্রেম নিবেদন করে বলেন, তাঁর একটিমাত্র দর্শন লাভের জন্যও তিনি নিজের প্রাণ পর্যন্ত উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের জুন (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৪) মাসে, টুইন গানটির রেকর্ড করেছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৮ বৎসর ১ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২) -এর
১৭০১ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৫০৭।
- রেকর্ড: এইচএমভি [জুন ১৯৩৭ (জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় ১৩৪৪)। এন ৯৯০৬। শিল্পী রাবেয়া খাতুন। সুর:
নজরুল ইসলাম]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল