বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: রুমু ঝুম্ঝুম্ জল-নূপুর বাজায় কে
রুমু ঝুম্ঝুম্ জল-নূপুর বাজায়ে কে-
মোরে বর্ষার প্রভাতে গেলে ডেকে॥
কে গো আনন্দিনী, কাহার নন্দিনী
শ্রবণ মন বলে তোমারে চিনি চিনি,
তব আসার আশে, চির-বিরহিণী
পথ চেয়ে আছি কবে থেকে॥
মনের মধুবনে সহসা পাপিয়া
'পিয়া পিয়া' ব'লে উঠিক ডকিয়া,
তোমার স্মৃতি আজি উদাস-আকাশে-
মেঘের কাজল দিল মেখে॥
- ভাবার্থ: এই গানে কবি বর্ষাকন্যাকে আনন্দিনী নামে অভিহিত করেছেন।
বর্ষা-প্রভাতে এই আনন্দিনী তার রুমু ঝুম্ঝুম্ জল-নূপুরের শব্দে ঘুম ভাঙিয়ে দিয়ে-
আনন্দ-সুর-লহরীতে মনকে আনন্দাপ্লুত করে দেয়।
কবির শ্রবণ-স্মৃতিতে এই আনন্দিনী চিরচেনা। সে আসবে বলে কবি চিরকাল প্রতীক্ষায়
থাকেন। তাই তার আসার আশায় 'চির-বিরহিণী' মতো হয়ে পথ চেয়ে থাকেন কবি। সহসা এই
আনন্দিনীর আগমনে মনের মধুবনে প্রণয় পাপিয়া 'পিয়া পিয়া' ডাকে মুখর হয়। কবির
শ্রবণ-স্মৃতি যেন মনের উদাস-আকাশে ভাসে। মেঘের সপ্রেম স্বপ্ন কাজল মেখে দেয়
মনের চোখে ।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২।
গান সংখ্যা ১৭৩০। পৃষ্ঠা: ৫১৫]