বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: শারদ নিশির হিমেলা বাতাস
শারদ নিশির হিমেলা বাতাস, তারা-ভরা এই অসীম আকাশ।
স্বপ্ন-বিলাসিনী চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্॥
শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস॥
এমনই চাঁদের আবাস, কাশ ফুলে দোলে কার নিশাস্॥
শিউলি-মালা গলে শরত-রানী
লাবনি-মাখা যে গো তাহারি বাণী,
তোমার বেণু বিনা, আমার এ বীণা সুর তোলে যেন দীরঘ-শ্বাস॥
এমনই চাঁদের তিথি, এমনই শারদ-রাতি
মৌন-মুখর ধরা, তব সুর ছিল সাথী,
রাখিখানি যবে হায় নিয়েছিলে কর পাতি’ –
এসো গো ধেয়ানে মম তাজিয়া সে-পরবাস॥
-
ভাবার্থ: এই গানে শরৎকাল প্রকৃতিতে আসে রাণী হয়ে।
তাই কবি এই গানে এই ঋতুকে শরৎরানী হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই ঋতু তার
সৌন্দর্য-সৌরভ বিলিয়ে আবার চলে যায় ঋতুচক্রের রথে চরে। ঋতু-পরিক্রমা শেষে সে
আবার ফিরে আসে। তার এই চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিরহের পালা। কবি শরৎরানীকে
অনুভব করেন তাঁর স্মৃতিকাতরতায়। তাই কবি তাঁকে ধ্যানের মধ্য দিয়ে মনোজগতে আনতে
চান।
শরৎরানী আসে- রাতের শিশির ভেজা হিমেল বাতাসে। তারা-ভরা অসীম আকাশে শারদীয়
জ্যোৎস্নার স্বপ্ন-বিলাসিনীর আবেশ ছড়িয়ে। কাশফুলের দোলায় দোলায়িত হয় তার
নিঃশ্বাস। তার গলায় শোভা পায় শিউলি ফুলের মালা। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে তার
লাবণ্যমাখা বাণী।
শরতরানীর বিদায়ে প্রকৃতিতে তার বেণুধ্বনি হারিয়ে যায়। তাই প্রকৃতির বীণায় বেজে
ওঠে শরতের সুরবিহীন বেদনার দীর্ঘশ্বাস। বিগত শরতের চাঁদনী রাতে মৌনমুখর পৃথিবীতে
ছিল শারদীয়া সুরের আবেশ। ছিল প্রকৃতির সাথে মিলনের রাখি বন্ধন। কবি তাই ঋতু
পরিক্রমার দূর পথযাত্রী, পরবাসী শরৎরানীকে তাঁর ধ্যানলোকের মধ্য দিয়ে
আবির্ভাবের অনুরোধ রেখেছেন এই গানে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে
কিছু জানা যায় না।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮।
ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৭৩৯ গান।
পৃষ্ঠা: ৫১৭।