তুই পাষাণ গিরি মেয়ে হ’লি পাষাণ ভালোবাসিস্ ব’লে।
মা গ’রবে কি তোর পাষাণ-হৃদয় তপ্ত আমার নয়ন-জলে॥
তুই বইয়ে নদী পিতার চোখে
লুকিয়ে বেড়াস লোকে লোকে
মহেশ্বরও পায় না তোকে প’ড়ে মা তোর চরণতলে॥
কোটি ভক্ত যোগী ঋষি ঠাঁই পেল না তোর চরণে,
তাই ব্যথায়-রাঙা তা’দের হৃদয় জবা হ’য়ে ফোটে বনে।
আমি শুনেছি মা ভক্তি ভরে
মা ব’লে ডাকে তোরে
(তুই) অমনি গ’লে অশ্রু-লোরে ঠাঁই দিস তোর অভয় কোলে॥
গানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো জবা ফুলের রূপক ব্যাখ্যা। “কোটি ভক্ত যোগী ঋষি ঠাঁই পেল না তোর চরণে / তাই ব্যথায়-রাঙা তা’দের হৃদয় জবা হ’য়ে ফোটে বনে”—এই পংক্তিতে কবি এক অনন্য কল্পনার আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে জবা ফুল কেবল একটি পুষ্প নয়; এটি অসংখ্য সাধক-ভক্তের ব্যর্থ সাধনা, বেদনা ও গভীর অনুরাগের প্রতীক। শাক্ত উপাসনায় জবা ফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, ফলে এই রূপকটি আধ্যাত্মিক ও উপাসনামূলক উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ।
গানের শেষাংশে এসে সমস্ত ভক্তের অভিমান
এবং ভক্তির সরলতা ও করুণাকে উপস্থাপন করে। ভক্ত শুনেছেন, কেউ যদি নিঃস্বার্থ
ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় ‘মা’ বলে ডাক দেয়, তবে দেবী আর স্থির থাকতে পারেন না। 'অমনি
গ’লে অশ্রু-লোরে ঠাঁই দিস তোর অভয় কোলে'—এই পংক্তিতে দেবীর চূড়ান্ত মমতাময় রূপ
প্রকাশ পেয়েছে। এখানে ভক্তির পথ জটিল সাধনা বা শাস্ত্রীয় জ্ঞানের নয়; বরং
শিশুসুলভ আহ্বান, অশ্রুসিক্ত ব্যাকুলতা এবং নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই
দেবীকে লাভ করা সম্ভব।