বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তোমারি চরণে শরণ যাচি হে নারায়ণ
তোমারি চরণে শরণ যাচি হে নারায়ণ।
জানি নাথ তব করুণায় হবে সব শাপ বিমোচন॥
রূপ শিখা শিখা মোর ধুলির ধরায়
দিনে দিনে নাথ ম্লান হয়ে যায়
শুনিয়াছি তব নামে হয় সব পাপ-তাপ নিবারণ।
নারায়ণ, নারায়ণ॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে পরম করুণাময় নারায়ণের (বিষ্ণু) শরণাগত এক ভক্তের
আবেদন উপস্থাপিত হয়েছে। ভক্ত তাঁর সকল মহিমার কথা জানেন না। শুধু শুনেছেন তাঁর
নামের গুণেই সকল পাপ-তাপের নিবারণ হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই নারয়ণের কাছে তাঁর
আত্মসমর্পণ।
গানের সূচনাতেই ভক্ত বলেন, তিনি নারায়ণের চরণে শরণাগত হতে চান। এখানে ‘শরণ’ কেবল
আশ্রয় গ্রহণ নয়, বরং নিজের অহংকার, ইচ্ছা ও স্বাতন্ত্র্যবোধ বিসর্জন দিয়ে
সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর নিজেকে সমর্পণ করার প্রতীক। ভক্তের বিশ্বাস,
নারায়ণের অসীম করুণার স্পর্শে জীবনের সকল অভিশাপ, দুঃখ, অশুভ কর্মফল ও বন্ধন থেকে
মুক্তি লাভ করা সম্ভব। তাই তিনি দৃঢ় আস্থার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে, প্রভুর কৃপায়
সকল শাপের বিমোচন ঘটবে। পরবর্তী অংশে ভক্ত
মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও নশ্বরতার কথা উপলব্ধি করেন। তিনি বলেন, তাঁর রূপ ও
যৌবনের দীপ্তি যেন ধূলিময় পৃথিবীতে ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এখানে ‘রূপ শিখা’
মানুষের সৌন্দর্য, শক্তি, যৌবন ও জাগতিক গৌরবের প্রতীক। এখানে শুধু যৌবনের
ক্ষয় নয়, মানুষের অহংকার,
দেহসৌন্দর্য ও পার্থিব পরিচয়ের ক্ষণস্থায়িত্বও নিহিত রয়েছে।
সময়ের প্রবাহে এসবই একদিন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই অনিত্যতার বোধ থেকেই তিনি
নারায়ণের নামের মাহাত্ম্যের প্রতি আশ্রয় খোঁজেন। তিনি শুনেছেন যে, নারায়ণের
নামস্মরণ মানুষের পাপ, তাপ, দুঃখ ও অন্তরের অশান্তি দূর করে। তাই তাঁর বিশ্বাস,
নারায়ণের নামের মধ্যেই রয়েছে আত্মশুদ্ধি, মানসিক শান্তি এবং মুক্তির পথ। ‘নারায়ণ,
নারায়ণ’ নামোচ্চারণের পুনরাবৃত্তি ভক্তের সেই আন্তরিক আর্তি, বিশ্বাস ও নামসাধনার
প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর
১৯৩৫ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪২) মাসে, এইচএমভি থেকে বরদাপ্রসন্ন দাশগুপ্তের নাটক 'সুভদ্রা'র নাটক প্রকাশিত হয়েছিল। নাটকটিতে এই গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৬ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, (নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি
২০১২)। ১৯৩১ সংখ্যক গান।
পৃষ্ঠা:
৫৮২।
- রেকর্ড:
- এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৫ (অগ্রহায়ণ-পৌষ
১৩৪২)]। এন ৭৪৫৬। নাটিকা: সুভদ্রা। নাট্যকার: বরদাপ্রসন্ন
দাশগুপ্ত। উর্বশীর গান। শিল্পী: আঙুরবালা
- টু্ইন [সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৫)। এফটি ১২৫৫৫। উর্বশীর
গান। শিল্পী: আঙুরবালা। নাটিকা: পাণ্ডব গৌরব]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনতান হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু। প্রার্থনা