দিন গেল, কই দীনের বন্ধু, এলে না ত দিন শেষে!
(মোর) নয়নে রবে কি, হে কৃষ্ণ, চির-কৃষ্ণা তিথির বেশে॥
মোর নয়নের আলো নিভায়েছ প্রিয়তম
কৃষ্ণচন্দ্র হইয়াছে তাই আকাশের চাঁদ মম,
সে কৃষ্ণচাঁদ হৃদয়-গগনে উঠিবে কখন হেসে॥
গানটির অন্তরাতে প্রতীক্ষার গভীর বেদনা ও
আগ্রহে ভক্তের মনে জেগেছে আত্মজিজ্ঞাসা। ভক্তের আক্ষেপ তাঁর নয়নে কি
চিরকাল ‘কৃষ্ণা তিথি’র অন্ধকারই বিরাজ করবে? এখানে ‘কৃষ্ণা তিথি’ অমাবস্যাপক্ষের
অন্ধকারের প্রতীক। কৃষ্ণবিরহে তাঁর হৃদয় ও জীবন আলোহীন দশা। তিনি অনুভব
করেন, প্রিয়তম কৃষ্ণ যেন তাঁর চোখের সমস্ত আলো নিভিয়ে দিয়েছেন। এই আলো নিভে যাওয়া
কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিশক্তির নয়; বরং আনন্দ, আশা ও আত্মিক পরিতৃপ্তির লোপের প্রতীক। ভক্ত এক
অপূর্ব রূপকের আশ্রয়ে বলেন, তাঁর জীবনের আকাশে যে চাঁদ উদিত হওয়ার কথা ছিল, সেই
কৃষ্ণচন্দ্র এখনও দেখা দেন নি। তাই বাহ্যিক আকাশের চাঁদও তাঁর কাছে অর্থহীন বলে মনে
হয়। তাঁর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—হৃদয়-গগনে কৃষ্ণচন্দ্রের উদয়। তিনি প্রতীক্ষা করেন
সেই শুভক্ষণটির জন্য, যখন কৃষ্ণ তাঁর অন্তরে আবির্ভূত হয়ে হাসিমুখে তাঁর জীবনকে
প্রেম, আনন্দ ও শান্তির আলোয় পূর্ণ করে তুলবেন।