বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: দুর্গতি-নাশিনী আমার শ্যাম মায়ের চরণ ধর
দুর্গতি-নাশিনী আমার শ্যাম মায়ের চরণ ধর।
ঘোর বিপদে তরে যাবি মাকে বারেক স্মরণ কর॥
তোর সংসার ভাবনার ভার
স’পে দে রে চরণে মা’র
যে চরণে বক্ষ পেতে আছেন ভুমানন্দে মেতে
দেবাদিদের দিগম্বর॥
যে দিয়েছে এ সংসারের শিকল পায়ে বেঁধে
(সেই) মহামায়ার শ্রীচরণে শরণ নে তুই কেঁদে।
কেটে যাবে সকল মায়া
পাবি মায়ের চরণ ছায়া
শান্তি পাবি রোগে শোকে, অন্তে যাবি মোক্ষ-লোকে
শিবানীরে বরণ করে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে শ্যামা মায়ের চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এখানে মা শক্তিরূপিনী দুর্গা বা কালী—যিনি ভক্তকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন এবং সংসারের দুঃখ-দুর্দশা নাশ করেন—তাঁর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও ভরসা
উপস্থাপিত হয়েছে।
গানের স্থায়ীতে- দুর্গতির নাশিনী মা শ্যামের চরণে শরণাগত হোয়াকে ঘোর বিপদ থেকে মুক্তির
উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলর জীবনের সংকট ও কষ্টের সময় মায়ের নাম স্মরণই মুক্তির পথ।
অন্তরাতে সংসারের সমস্ত চিন্তা-ভার মায়ের চরণে সমর্পণ করার কথা বলা হয়েছে। মানুষ সংসারের মোহ, দুঃখ ও দায়িত্বের ভারে জর্জরিত; কিন্তু মায়ের শরণ নিলে সেই ভার লাঘব হয়। মায়ের চরণকে এখানে শান্তি, আশ্রয় ও মুক্তির কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
সঞ্চারী ও আভোগে- যিনি এই বিশ্বসংসারকে শৃঙ্খলে বেঁধে রাখেন, সেই মহামায়ার চরণেই ভক্তকে আশ্রয় নিতে
বলা হয়েছে। কবি মনে করেন- এই শরণাগতির মাধ্যমে জীবনের সব মায়া ও বন্ধন কেটে যায়।
গানের শেষে বলা হয়েছে, মায়ের আশ্রয়ে মানুষ রোগ-শোক থেকে শান্তি পায় এবং জীবনের শেষ গন্তব্যে মোক্ষ লাভ করে। “শিবানীরে বরণ” অর্থাৎ কল্যাণময় শিব-তত্ত্বে মিলন—এটি আধ্যাত্মিক মুক্তির প্রতীক।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়
না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মে (শুক্রবার,
২৪ বৈশাখ ১৩৪৪)। এইচএমভি গানটির রেকর্ড করেছিল। শিল্পী ছিলেন ফণিবাবু। রেকর্ডিটি
পরে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। নজরুলের ইসলাম ৩৭ বৎসর ১১
মাস বয়স অন্তের শেষে গানটি রেকর্ড করা হয়েছিল।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা ১৯৪৮। পৃষ্ঠা:
৫৮৬।
- রেকর্ড: এইচএমভি। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মে (বৃহস্পতিবার
২৪ বৈশাখ ১৩৪৩)। শিল্পী: ফণিবাবু। সুর: সুবল দাশগুপ্ত। রেকর্ডটি পরে
বাতিল করা হয়েছিল।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শ্যামা। আত্মনিবেদন।