বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: ধূলার ঠাকুর, ধূলার ঠাকুর!
ধূলার ঠাকুর, ধূলার ঠাকুর! তোমার সাথে ক’রব খেলা।
ধূলার আসন, ধূলার ভূষণ, ধূলি নিয়ে হেলাফেলা॥
অনেক দূরে গহন বনে
খেলব দু’জন আপন মনে,
খেলার নেশায় সকাল কখন হয়ে যাবে বিকাল বেলা॥
খুঁজতে মাতা আসলে রাতে
দু’জন গিয়ে ধরব হাতে,
বলব ঠাকুর আছেন সাথে ভয় কি গো মা নই একেলা॥
-
ভাবসন্ধান: ধ্রুব -এর
প্রেক্ষাপটে এই গানের ‘ঠাকুর’ বলতে বিষ্ণু-কে বোঝানো হয়েছে। গানের বালক
ধ্রুব পরম বিষ্ণুভক্ত। এই গানে তার সরল, নিষ্পাপ হৃদয়ের ভক্তি এবং বিষ্ণুর সঙ্গে এক
নিবিড় সখ্যের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। ধ্রুবের কাছে বিষ্ণু কোনো দূরবর্তী, ভীতিপ্রদ
দেবতা নন; তিনি তার কাছে আপনজন, খেলার সাথী ও ভালোবাসার আশ্রয়।
ধ্রুব ধূলি দিয়ে বিষ্ণুর আদর্শে যে মূর্তি গড়ে তোলে, সেই মূর্তির সঙ্গেই সে খেলতে
চায়। শিশুর এই খেলা নিছক ছেলেখেলা নয়, এর মধ্যে রয়েছে তার গভীর ভক্তি ও বিশ্বাসের
প্রকাশ। তার গড়া ঠাকুরের আসন, অলংকার—সবই ধূলি দিয়ে নির্মিত; কিন্তু শিশুর নির্মল
ভালোবাসার কাছে সেই ধূলির ঠাকুরই হয়ে ওঠেন পরম আরাধ্য। জাগতিক দৃষ্টিতে যা তুচ্ছ,
শিশুভক্তির স্পর্শে তা হয়ে ওঠে পবিত্র ও মহামূল্যবান।
ধ্রুব তার প্রিয় ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে দূর গহন
বনে খেলতে যেতে চায়। ভক্তির আনন্দে নিমগ্ন হয়ে তাদের খেলা কখন সকাল পেরিয়ে বিকাল,
এমনকি দিনান্তে পৌঁছে যাবে—তার কোনো হিসাব থাকবে না।
দীর্ঘক্ষণ ছেলেকে না দেখে অস্থির হয়ে তার ম যদি রাতের বেলায়
আসে, তাহলে সে আর খেলার সাথী মায়ের হাত ধরে বলবে- ঠাকুর আছেন তাঁর সাথে এবং তিনি তাকে
রক্ষা করবেন।
এই বিশ্বাসের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে
বিষ্ণুর প্রতি তার অটুট আস্থা, সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও বিষ্ণুর সুরক্ষার প্রতি আস্থা।
-
রচনাকাল ও স্থান:
১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ১লা জানুয়ারি ‘ধ্রুব’ নামক
চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ৩৪ বৎসর ৭ মাস।
-
গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৯৫৩। চলচ্চিত্র : ‘ধ্রুব’
।
পৃষ্ঠা: ৫৮৭-৫৮৮]
-
চলচ্চিত্র:
ধ্রুব। ক্রাউন টকি হাউস।
১ জানুয়ারি ১৯৩৪ (সোমবার, ১৭ পৌষ ১৩৪০)।
ধ্রুব-এর
গান। শিল্পী মাস্টার প্রবোধ]
-
পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। বিষ্ণু। খেলার সাথী