বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম
নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম
অবনীতে টলে টলমল।
পত্রে পুষ্পে বনে সুনীল গগন কোণে
সেই লাবনির মায়া ঝরে ঝলমল॥
বিল ঝিল, তড়াগ, পুকুর
সাগর, নদীতে তব শ্যামরিয়অ হেরি ভরপুর।
শিশির-মুকুরে তব করুণ ছায়া, শ্যাম, করে ছলছল।
নীলের সাগরে তব যেন বিন্দু প্রায়
কোটি গ্রহ তারকা ভাসিয়া ভাসিয়া যায়;
বিশ্ব ব্রহ্মলোক অহরহ করে ধ্যান
শ্যামসুন্দর তব রূপ ঢল ঢল॥
- ভাবসন্ধান্: এই গানে শ্রীকৃষ্ণের অপরূপ সৌন্দর্য, বিশ্বময় তাঁর রূপের প্রকাশ এবং প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টির মধ্যে তাঁর উপস্থিতির অনুভব প্রকাশ পেয়েছে। কবি শ্রীকৃষ্ণের শ্যামল রূপকে সমগ্র বিশ্বপ্রকৃতির সৌন্দর্যের উৎসরূপে কল্পনা করেছেন।
তিনি মনে করেন- শ্যামের রূপ নবনীতের মতো কোমল, স্নিগ্ধ ও লাবণ্যময়। সেই অপরূপ সৌন্দর্যের মাধুর্যে যেন সমগ্র পৃথিবী টলমল করে ওঠে। বৃক্ষের পাতা, ফুল, বনভূমি এবং নীল আকাশের কোণে কোণে
তাঁর সেই লাবণ্যের মায়া ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিকে সৌন্দর্যের দীপ্তি প্রকাশ করে।
পৃথিবীর জলাশয় তথা- বিল, ঝিল, তড়াগ, পুকুর, নদী ও সাগরের জলে তাঁর শ্যামল রূপের প্রতিফলন দেখা যায়। প্রকৃতির জলধারায়, সবুজে ও নীলিমায় সর্বত্র
তাঁর সৌন্দর্যের প্রকাশ অনুভূত হয়। শিশিরবিন্দুর স্বচ্ছ আয়নায়ও তাঁর করুণাময় ছায়া মায়াময়ভাবে ঝলমল করে ওঠে।
কবি মনে করেন, অসীম নীল আকাশরূপী মহাসাগরের মধ্যে এই পৃথিবী যেন তাঁর রূপের ক্ষুদ্র এক বিন্দুমাত্র। সেই আকাশে কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র ভেসে চলেছে, কিন্তু সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডও
তাঁর অপরূপ রূপের ধ্যান করে চলেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার ১০ মাঘ ১৩৪১) টুইন রেকর্ডে কোম্পানির সাথে
নজরুলে একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে গানটি ছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৫ বৎসর ৮ মাস
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহে [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২।
গান ১৯৬১। পৃষ্ঠা: ৫৯০]
- রেকর্ড:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার ১০ মাঘ ১৩৪১) টুইন রেকর্ডে কোম্পানির সাথে
নজরুলে একটি চুক্তি হয়। এই চুক্তিতে গানটি ছিল।
- টুইন [জুলাই ১৯৩৫ (আষাঢ়-শ্রাবণ ১৩৪২)]। এফটি ৪০১৮। শিল্পী: ইন্দু
সেন
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। বৈষ্ণব। কৃষ্ণ। বন্দনা