বিষয়: নজরুল সঙ্গীত
শিরোনাম: নমো নমো মনো নমঃ হে নটনাথ
নমো নমো মনো নমঃ হে নটনাথ
নব ভবনে কর শুভ চরণ-পাত॥
নৃত্য-ভঙ্গীতে
সৃজন-সঙ্গীতে
বিশ্বজন-চিতে আনো নব-প্রভাত॥
তোমার জটাজুটে বহে যে জাহ্নবী
তাঁহারি সুরে-প্রাণ জাগাও, আদি কবি।
শুচি ললাট-তলে যে শিশু-শশী ঝলে
তারি আলোকে হর দুখ-তিমির-রাত॥
হে চির-সু্দর, দেহ আশীর্বাদ –
হউক দূর সব অতীত অবসাদ।
লঙ্ঘি’ সব বাধা তব পতাকা বহি’,
ফুল্ল মুখে সহি সকল সংঘাত॥
নব জীবনে ল’য়ে আশা অভিনব,
ভুলি সকল লাজ গ্লানি পরাভব,
এ নাট-নিকেতনে আরতি করি তব
হে শিব, কর নব-জীবন সঞ্জাত॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে নাট্য ও সৃষ্টির
অধিপতি নটনাথ তথা শিবের নটরাজ রূপের
প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আত্মসমর্পণ এবং নবজীবনের আশীর্বাদ প্রার্থনা প্রকাশ
পেয়েছে। কবি শিবকে শুধু ধ্বংসের দেবতা হিসেবে নয়, বরং
সৃষ্টি, সঙ্গীত, নৃত্য ও সৌন্দর্যের
উৎসশক্তি হিসেবে কল্পনা করেছেন।
গানের শুরুতেই কবি নটনাথকে প্রণাম জানিয়ে আহ্বান করেছেন—হে নটনাথ, এই নব নির্মিত ভবনে তুমি তোমার শুভ চরণ স্থাপন করো। তোমার নৃত্যের ছন্দ ও সৃষ্টির সঙ্গীতের মাধ্যমে বিশ্বমানবের হৃদয়ে নতুন প্রভাতের জাগরণ ঘটুক। তোমার ঐশ্বরিক শিল্পশক্তি মানুষের অন্তরে নতুন আশা, আনন্দ ও সৃজনের প্রেরণা জাগিয়ে তুলুক।
কবি শিবের মহিমা প্রসঙ্গে উপস্থাপন করে উল্লেখ করেছেন-
তাঁর জটাজুটে যে পবিত্র গঙ্গা (জাহ্নবী) বিরাজ করেন, তারই সুরধারা দিয়ে আদি কবিরূপে,
তিনি প্রাণ শক্তিকে জাগ্রত করেন।
কবি কামনা করেন- শিবের ললাটে যে শিশুচন্দ্র শোভা
পায়, তার নির্মল আলোয় মানুষের জীবনের দুঃখ ও অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়ে যাক।
এখানে গঙ্গা ও চন্দ্র শিবের পবিত্রতা, শান্তি ও কল্যাণশক্তির প্রতীক
হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
কবি চিরসুন্দর শিবের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন—অতীতের সমস্ত হতাশা, ক্লান্তি ও ব্যর্থতা দূর হোক। মানুষ যেন শিবের আদর্শ ও শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের সকল বাধা অতিক্রম করতে পারে। তাঁর পতাকা বহন করে মানুষ যেন সাহসের সঙ্গে সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এবং হাসিমুখে জীবনের সংগ্রাম সহ্য করতে পারে।
শেষ স্তবকে কবি নতুন জীবনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান, মানুষ যেন নতুন আশা ও উদ্যম নিয়ে অতীতের লজ্জা, গ্লানি ও পরাজয়ের স্মৃতি ভুলে যায়। এই নাট্যনিকেতনে (শিল্পমন্দিরে) শিবের আরাধনা করে শিল্প যেন নবজীবনের সঞ্চার করে। নটরাজ শিবের কৃপায় শিল্প, সৌন্দর্য ও সৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে মানবজীবনে নতুন প্রাণের আবির্ভাব ঘটুক।
- রচনাকাল: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু
জানা যায় না। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ) মাসে প্রকাশিত
'চন্দ্রবিন্দু' সঙ্গীত-সংকলনে গানটি প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩২ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ:
-
চন্দ্রবিন্দু।
- প্রথম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯৩১
(আশ্বিন ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ)
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ, চতুর্থ খণ্ড [জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮, মে ২০১১। চন্দ্রবিন্দু। ৯। দুর্গা-গীতাঙ্গী। পৃষ্ঠা: ১৬৭]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
১৯৬৬]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত।
শিব। বন্দনা