বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম : বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল আঁখি
বেলা গেল সন্ধ্যা হ’ল, (ওরে) এখন খোল
আঁখি।
তুই সোনার খনির কাছে এসে ফিরলি ধূলা-মাখি॥
এ সংসারের সার ছেড়ে তুই
সং সেজে হায়, বেড়াস নিতুই,
যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি॥
ভুলে রইলি যাদের নিয়ে, তাদের পেলি কোথা হতে,
তোর যাবার বেলায় কেউ কি সাথী হবে রে তোর পথে।
এখনো তুই ডাক একবার
নাইরে সীমা তাহার দয়ার,
সে-ই করবে ক্ষমা, ঘুম পাড়াবে শীতল বুকে রাখি॥
- ভাবসন্ধান: মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী; সংসারের মোহে প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে না গিয়ে জীবিত থাকতেই পরম সত্তাকে স্মরণ ও তাঁর শরণ গ্রহণ করা উচিত। আর মানুষ যদি শেষ মুহূর্তেও আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে আসে, তাঁর অসীম করুণার দ্বার তখনো উন্মুক্ত।
এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে কবি জীবনের অন্তিম সময়ে আত্মজাগরণ, সংসারের মোহ ত্যাগ এবং পরম করুণাময়ের শরণ গ্রহণের আহ্বান
উপস্থাপন করেছেন।
গানের শুরুতে কবি বলেছেন- জীবনের দিন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে; সময় খুবই অল্প। তাই কবি মানুষকে মোহ ও অজ্ঞতার ঘুম থেকে জেগে ওঠার আহ্বান জানাচ্ছেন। মানুষ যেন “সোনার খনির কাছে এসে ধূলা-মাখি” হয়ে ফিরে যাচ্ছে—অর্থাৎ অমূল্য মানবজীবন ও
পরমসত্তার প্রদত্ত সুযোগ পেয়েও সে তুচ্ছ পার্থিব বিষয় নিয়ে জীবন কাটিয়েছে।
মূলত মানুষ জীবনের প্রকৃত সারবস্তু—প্রেম, সত্য, পরমসত্তাকে স্মরণ করা। এই আত্মোপলব্ধি উপেক্ষা করে
মানুষ বাহ্যিক ভণ্ড বৈরাগ্য বা “সং সেজে” ঘুরে বেড়ায়। অথচ যে পরমসত্তা তাকে ধন-রত্নের মতো অমূল্য জীবন দিয়েছেন, তাকেই সে ভুলে থেকেছে। “যে তোরে ধন-রত্ন দিলো তারেই দিলি ফাঁকি”—এই পঙ্ক্তিতে মানুষের অকৃতজ্ঞতা ও আত্মবিস্মৃতির প্রতি তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ পেয়েছে।
যাপিত জীবনে যাদের নিয়ে মানুষ সারাজীবন সংসারে ব্যস্ত থাকে, মৃত্যুর মুহূর্তে তাদের কাউকেই সঙ্গে পাওয়া যায় না। জীবনের শেষ যাত্রা একান্তই একার যাত্রা। সংসারের সম্পর্ক, সম্পদ, পরিচিতজন—কেউ মৃত্যুর পথে সঙ্গী হতে পারবে না।
তবু গানটি হতাশায় শেষ হয়নি। কবি বলছেন—“এখনো তুই ডাক একবার”। অর্থাৎ শেষ মুহূর্তেও পরম করুণাময়ের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ আছে। তাঁর দয়ার কোনো সীমা নেই; তিনি মানুষের অপরাধ ক্ষমা করতে পারেন এবং শেষ আশ্রয় হিসেবে
তিনিই তাঁর বুকে তুলে নিয়ে শান্তি দিতে পারেন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৪০ বঙ্গাব্দের এইচএমভি
(কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৭) মাসে মেগাফোন কোম্পানি গানটির রেকর্ড করেছিল।
এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৪১ বৎসর ৫ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২০৩৩। পৃষ্ঠা: ৬১০।
- রেকর্ড:
- এইচএমভি [নভেম্বর ১৯৪০ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪৭)। এন ২৭০৪৫। শিল্পী: কে
মল্লিক ও মিস্ অনিমা (বাদল)। সুর: কমল দাশগুপ্ত]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল সঙ্গীত স্বরলিপি,
পঁয়তাল্লিশতম খণ্ড, কবি নজরুল
ইসলাম ইনস্টিটিউট।জুন ২০১৮] জুন ২০১৮] গান সংখ্যা ২০। পৃষ্ঠা: ৭৫- ৭৭
[নমুনা]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। আত্মনিবেদন
- সুরাঙ্গ: ভজন