বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: যেন ভোরে জাগি তব নাম গেয়ে
যেন ভোরে জাগি তব নাম গেয়ে।
ঘুম যেন ভাঙে তব মুখ চেয়ে॥
যদি নিদ্রা মোহে
হৃদি দ্বার রুদ্ধ রহে,
আসিও হে নাথ প্রভাত আলো বেয়ে॥
সারা দিনমান সব কাজের মাঝে,
যেন স্মৃতি বীণা সম বাজে।
তব স্নিগ্ধ কান্তি
শুভ্র প্রশান্তি,
থাকে যেন নাথ প্রাণ মন ছেয়ে॥
তপনে রূপে
এসো চুপে চুপে,
যেন আঁখি খোলে তব আলো পেয়ে॥
- ভাবসন্ধান: গানটিতে কবি পরমসত্তার প্রতি একান্ত আত্মনিবেদন ও নিত্যস্মরণের প্রার্থনা করেছেন। তাঁর আকাঙ্ক্ষা—প্রতিদিনের সূচনা যেন পরমসত্তার নামস্মরণ ও তাঁর মুখচ্ছবি স্মরণের মধ্য দিয়ে হয়। নিদ্রার মোহে যদি তাঁর হৃদয়ের দ্বার বন্ধ হয়ে থাকে, তবে প্রভাতের আলোর মতো পরমসত্তা যেন তাঁর অন্তরে আবির্ভূত হয়ে সেই বন্ধ দ্বার খুলে দেন।
দিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যেও কবি চান, পরমসত্তার স্মৃতি যেন তাঁর অন্তরে অবিরাম বেজে চলা বীণার সুরের মতো জাগ্রত থাকে। তাঁর স্নিগ্ধ কান্তি ও শুভ্র প্রশান্তি যেন কবির প্রাণ ও মনকে সারাদিন আচ্ছন্ন করে রাখে এবং সকল কর্মের মধ্যেও তাঁকে পরমসত্তার সান্নিধ্য অনুভব করায়।
গানের শেষাংশে কবি প্রার্থনা করেছেন, পরমসত্তা যেন সূর্যের উজ্জ্বল তাপ ও আলোরূপে নিঃশব্দে তাঁর জীবনে প্রবেশ করেন। সেই আলোকস্পর্শে যেন তাঁর অন্তর্দৃষ্টি জেগে ওঠে এবং তাঁর চোখ খুলে যায় পরমসত্তার সত্য ও সৌন্দর্যের দিকে। অর্থাৎ, এই গানে প্রার্থনাটি কেবল বাহ্যিকভাবে ঘুম থেকে জেগে ওঠার নয়; বরং অজ্ঞতা, মোহ ও অন্তরের অন্ধকার থেকে জেগে উঠে পরমসত্তার আলোয় আলোকিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
- রচনাকাল ও স্থান:
গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর
(অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩) মাসে, এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি
গানটির প্রথম রেক্র্ড করেছিল। রেকর্ডটি পরে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এই সময় নজরুলের
বয়স ছিল ৩৭ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সংগীত সংগ্রহ [রশিদুন্ নবী সম্পাদিত। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট।
তৃতীয় সংস্করণ দ্বিতীয় মুদ্রণ, আষাঢ় ১৪২৫। জুন ২০১৮। গান: ২১১২। পৃষ্ঠা
৬৩৬]
- রেকর্ড: এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৬ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৩)। শিল্পী: রবীন্দ্রনাথ বসু (মুল্লুক)।
রেকর্ডটি পরে বাতিল হয়ে গিয়েছিল।]
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সাধারণ। পরমসত্তা। প্রার্থনা। নৈকট্য-লাভ