বিষয়: নজরুলসঙ্গীত
শিরোনাম: হর হর শঙ্কর! জয় শিব শঙ্কর!
হর হর শঙ্কর! জয় শিব শঙ্কর!
দানব-সন্ত্রাস, জয় প্রলয়ঙ্কর! জয় শিব শঙ্কর!
নিপীড়িত জন-মন-মন্থন দেবতা,
আন অভয়ঙ্কর স্বর্গের বারতা!
জাগো মৃত্যুঞ্জয় সংহর, জয় শিব শঙ্কর!
এসো উৎপীড়িতের রোদনের বোধনে
বজ্রাগ্নির দাহ ল’য়য়ে রোষ নয়নে।
ভীম কৃপাণে ল’য়ে মৃত্যুর দণ্ড,
দৈত্যারি-বেশে এসো উন্মাদ চণ্ড,
ধ্বংস-প্রতীক মরু-শ্মশান সঞ্চর! জয় শিব শঙ্কর!
- ভাবসন্ধান: অত্যাচারিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য অন্যায়, সন্ত্রাস ও অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ ও সংহারশক্তির প্রয়োজন। অশুভের ধ্বংস এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার
প্রতীক শিব। এই ভাবাদর্শে রচিত এই গানে কবি শিবের প্রলয়ংকর ও সংহারমূর্তির কাছে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তাই এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে অন্যায়, অত্যাচার ও দাসত্বের বিনাশকারী মুক্তির প্রতীক।
এই গানে কবি বারবার উচ্চারণ করেছেন—“জয় শিব শঙ্কর”। তাঁর কল্পনায় শিব হলেন সেই মহাশক্তি, যিনি দানবীয় সন্ত্রাস ও অত্যাচারের অবসান ঘটাতে পারেন। নির্যাতিত মানুষের মন যে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও ভয়ে পিষ্ট, সেই মনকে মুক্ত করার জন্য কবি শিবের কাছে অভয়ের বাণী নিয়ে আবির্ভূত হওয়ার প্রার্থনা করেছেন।
“জাগো মৃত্যুঞ্জয় সংহর”—এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে কবি শিবের ধ্বংসশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তবে এই ধ্বংস নিছক বিনাশের জন্য নয়; অন্যায় ও অত্যাচার ধ্বংস করে ন্যায় ও মুক্তির পথ তৈরি করার জন্য।
গানের পরের অংশে কবির এই আহ্বান আরও তীব্রতর হয়ে ওঠে। তিনি চান, উৎপীড়িত মানুষের কান্নার মধ্য থেকে শিব জেগে উঠুন এবং তাঁর চোখে থাকুক রোষের আগুন। হাতে থাকুক বজ্রের মতো শক্তি ও মৃত্যুর দণ্ড।
কবির কামনা তিনি যেন 'দৈত্যারি-বেশে (দৈত্যের শত্রু বেশৈ) অসুরবিনাশী রুদ্ররূপে আবির্ভূত হয়ে অত্যাচারী শক্তিকে ধ্বংস করেন।
শেষে 'মরু-শ্মশান সঞ্চর' চিত্রকল্পে ধ্বংসের এক ভয়াবহ দৃশ্য ফুটে উঠেছে। অত্যাচার ও দানবীয় শক্তির যে সাম্রাজ্য মানুষের জীবনকে শ্মশানে পরিণত করেছে, কবি চান শিবের প্রলয়শক্তি সেখানে বিচরণ করে সেই অশুভ শক্তির সম্পূর্ণ অবসান ঘটাক।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট
কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ (নভেম্বর
১৯৩০) মাসে প্রকাশিত হয়েছিল নজরুলের
প্রথম নাট্যসংকলন 'ঝিলিমিল' গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ। এই সংকলনে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তিনটি নাটিকা। এগুলো হলো- ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ ও শিল্পী।
এর ভিতরে 'সেতুবন্ধ' বন্ধ নাটিকার তৃতীয় দৃশ্যে গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সময়
নজরুলের বয়স ছিল ৩১ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ
- সেতুবন্ধ।
ঝিলিমিলি (নাট্যসংকলন)
- প্রথম সংস্করণ। [অগ্রহায়ণ, ১৩৩৭ (নভেম্বর
১৯৩০)। 'সেতুবন্ধ'। তৃতীয় দৃশ্য। অন্তরীক্ষের গান]
- নজরুল রচনাবলী, জন্মশতবর্ষ সংস্করণ। তৃতীয় খণ্ড [বাংলা একাডেমী, ঢাকা জুন ২০১২। সেতুবন্ধ।
তৃতীয় দৃশ্য। অন্তরীক্ষের গান। পৃষ্ঠা: ৩৮১-৩৮২]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১২৮।
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। সনাতন হিন্দুধর্ম। শাক্ত। শিব। প্রার্থনা