বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: হে মোর স্বামী, অন্তর্যামী
হে মোর স্বামী, অন্তর্যামী, লহ সকলি আমার।
লহ প্রীতি-প্রেম-পূজা লহ পায়ে গলার হার॥
হে প্রিয়তম, সকলি লহ;
মান-অভিমান ব্যথা-বিরহ।
দুঃখের দাহ, সুকের মোহ লহ হে অশ্রু-ধার॥
যাহা কিছু আপন, দিতে যা বাকি
যাহা কিছু গোপন, লুকায়ে রাখি
যাহা কিছু প্রিয় অঞ্চলে ঢাকি; লহ হে বঁধু এবার॥
তোমায় চাওয়ার পাওয়ার আশা,
তোমায় না-পাওয়ার ব্যথা-নিরাশা,
তোমারে দিলাম মোর ভালোবাসা বিফলতা হাহাকার॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে উপস্থাপিত হয়েছে পরমসত্তার কাছে পরমভক্তের পরম
আত্মনিবেদন। কবি তাঁর সকল পার্থিব কামনা-বাসনা অহঙ্কার গৌরব সব কিছুই পরমসত্তার কাছে
পরম ভক্তিতে বিসর্জন দিয়ে নিঃস্ব হতে চেয়েছেন। তিনি তাঁর সকল মোহময় প্রীতি-প্রেমের
আরাধনা, গৌরবের গলার হার, প্রণয়ের
মান-অভিমান ব্যথা-বিরহ, দুঃখের দহন, সুখের মোহ। এসব প্রাপ্তির আত্মগ্লনি যেন ভক্তির
অশ্রুধারা হয়ে ঝরে পড়েছে এই আত্ম-নিবেদন।
কবি যা কিছু আপন বলে ধরে রেখেছিলেন, তারও ভিতরে ছিল কিছু সযত্নে প্রিয় আবরণে লুকিয়ে
রাখা গোপন বাসনা, সবই তিনি তাঁর প্রিয়তম বন্ধুর (পরমসত্তা) পায়ে নিবেদন করতে
চেয়েছেন।
কবির এত সব বিসর্জন- শুধুই পরসত্তাকে পাওয়ার জন্য। তাঁকে না পাওয়ার ব্যাথা এবং
নিরাশা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য- কবি নিজেকে নিঃস্ব করেছেন তাঁর শেষ নিবেদন-
তাঁর ভালোবাসা পাওয়ার বিফল হাহাকার। এসবের মধ্য দিয়েই ফুটে উঠেছে পরমসত্তার কাছে
পরমভক্তিতে তাঁর পরম-নিবেদন।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪২) মাসে এইচএমভি
রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৬ বৎসর ৩ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
২১৫৬। পৃষ্ঠা: ৬৪৯]
- রেকর্ড
এইচএমভি [সেপ্টেম্বর ১৯৩৫ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪২)। এন ৭৪১৪। শিল্পী:
মিস প্রমোদা]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
আহসান মুর্শেদ
[নজরুল
সঙ্গীত স্বরলিপি সাতচল্লিশতম খণ্ড। কবি নজরুল ইন্সটিটিউট । ফাল্গুন ১৪২৫/ফেব্রুয়ারি
২০১৯] পৃষ্ঠা: ৭৭-৭৮। [নমুনা]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। পরমসত্তা। আত্ন-নিবেদন।
- সুরাঙ্গ: ভজন
- রাগ:
ভীম পলশ্রী
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: স