বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: মরু সাহারা আজি মাতোয়ারা
মরু সাহারা আজি মাতোয়ারা- হলেন নাজেল তাহার দেশে খোদার রসুল।
যাঁহার নামে যাঁহার ধ্যানে সারা দুনিয়া দীওয়ানা, প্রেমে মশগুল॥
যাঁহার আসার আশাতে অনুরাগে
নীরস খর্জুর তরুতে রস জাগে,
তপ্ত মরু'পরে খোদার রহম্ ঝরে, হাসে আকাশ পরিয়া চাঁদের দুল॥
ছিল এ ত্রিভুবন যাঁহার পথ চাহি'
এলে রে সেই নবী 'ইয়া উম্মতি' গাহি',
যতেক গুম্রাহে নিতে খোদার রাহে এলো ফুটাতে দুনিয়াতে ইসলামি ফুল॥
- ভাবসন্ধান: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব মানবজাতির জন্য আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত ও হেদায়েত। তাঁর আগমনে অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার অন্ধকার দূর হয়ে মানবজীবনে সত্য, ন্যায়, প্রেম ও শান্তির আলো ছড়িয়ে পড়ে। কবি তাঁর আবির্ভাবকে সমগ্র বিশ্বজগতের আনন্দ, আশীর্বাদ এবং নবজাগরণের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
এই গানে কবি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবকে মানবজাতির ইতিহাসে এক মহামঙ্গলময় ঘটনা হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে মরুপ্রান্তর, প্রকৃতি এবং সমগ্র মানবসমাজে যে আনন্দ, আশা ও নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল, কবি তা কাব্যিক রূপকে প্রকাশ করেছেন।
গানের শুরুতেই কবি বলেন, আরবের সাহারা মরুভূমি আজ আনন্দে মাতোয়ারা, কারণ সেই পবিত্র ভূমিতে আল্লাহর রাসুলের আবির্ভাব ঘটেছে। যাঁর নাম ও স্মরণে আজ সমগ্র বিশ্বের অগণিত মানুষ প্রেমে আত্মহারা, সেই মহানবীর জন্মে মরুভূমিও যেন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
এরপর কবি রূপকের আশ্রয়ে বলেন, মহানবীর আগমনের প্রত্যাশায় এমনকি রসশূন্য খেজুরগাছেও যেন প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। অর্থাৎ তাঁর আবির্ভাবের মাধ্যমে আশা, জীবন ও কল্যাণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তপ্ত মরুভূমিতে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হওয়ার চিত্র দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, দীর্ঘদিনের অজ্ঞতা, বিভেদ ও নৈতিক অবক্ষয়ের অন্ধকার দূর করে ইসলামের আলো ও আল্লাহর করুণা পৃথিবীতে নেমে আসে। আকাশ যেন চাঁদের দুল পরে হাসছে—এই চিত্রকল্প নবীর আগমনে সমগ্র সৃষ্টিজগতের আনন্দ ও শুভলক্ষণকে প্রকাশ করে।
গানটির পরবর্তী অংশে কবি বলেন, সমগ্র বিশ্ব যেন যুগের পর যুগ এই মহান পথপ্রদর্শকের প্রতীক্ষায় ছিল। তিনি আগমন করলেন এবং তাঁর উম্মতের প্রতি সীমাহীন মমতায় "ইয়া উম্মতি" (হে আমার উম্মত) বলে ডাক দিলেন। এই আহ্বানে নবীর মানবপ্রেম, দয়া ও দায়িত্ববোধের পরিচয় ফুটে ওঠে।
সবশেষে কবি বলেন, মহানবী (সা.) পথভ্রষ্ট, বিভ্রান্ত ও সত্যপথ থেকে বিচ্যুত মানুষকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনার জন্য এসেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল মানবসমাজে ইসলামের শান্তি, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও নৈতিকতার ফুল ফুটিয়ে তোলা। অর্থাৎ তিনি মানুষের হৃদয়ে সত্য, দয়া, সাম্য ও ঈমানের বীজ বপন করেছিলেন, যার সুফল আজও পৃথিবী ভোগ করছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর (আশ্বিন-কার্তিক ১৩৪২) মাসে এইচএমভি গানটির রেকর্ড করেছিল। এই সময় নজরুলের বয়স ছিল
৩৬ বৎসর ৪ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংখ্যা ১১৬৬। পৃষ্ঠা: ৩৫৫]
- রেকর্ড:
এইচএমভি [অক্টোবর ১৯৩৫
(আশ্বিন-কার্তিক
১৩৪২)। এন ৭৪২৩। শিল্পী: মহম্মদ কাশেম]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল