বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: তওফিক দাও খোদা ইসলামে মুসলিম্ জাঁহা পুন হোক আবাদ
তওফিক দাও খোদা ইসলামে মুসলিম্ জাঁহা পুন হোক আবাদ।
দাও সেই হারানো সালতানত্ দাও সেই বাহু সেই দিল্ আজাদ॥
দাও সে হাম্জা সেই বীর ওলিদ
দাও সেই উমর হারুন অল রশীদ,
দাও সেই সালাহউদ্দীন আবার পাপ দুনিয়াতে চলুক জেহাদ॥
দাও সেই রুমী সাদী হাফিজ
সেই জামী খৈয়াম সে তবরিজ
দাও সে আকবর সেই শাহ্জাহান দাও তাজমহলের স্বপ্ন সাধ॥
দাও ভা'য়ে ভা'য়ে সেই মিলন
সেই স্বার্থত্যাগ সেই দৃপ্ত মন,
হোক বিশ্ব মুসলিম এক জামাত উড়ুক নিশান ফের যুক্ত চাঁদ॥
- ভাবসন্ধান: বিশ্বব্যাপী ইসলামের যে শৌর্য-বীর্যে, জ্ঞানে-গুণে
গৌরবোজ্জল মহিমা বিশ্ব সভ্যতাকে আলোকিত করেছিল, কবির সময়ে তা ধীরে ধীরে
নিষ্প্রভ হয়ে গিয়েছিল নানা কারণে। সেই অতীত মহিমাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠত হোক, এমন
আকাঙক্ষা পুরনের আশা নিয়ে কবি আলাহর কাছে তওফিক (শক্তি, সামর্থ্য ও সম্পদ) কামনা
করেছেন। এই গানের স্থায়ীতে তিনি আল্লার কাছে কামনা করছেন শক্তি, প্রথম অন্তরায়
চেয়েছেন- বীরত্ব, দ্বিতীয় অন্তারায় চেয়েছেন- জ্ঞান ও গুণ, তৃতীয় অন্তারাতে
চেয়েছেন মুসলিম ভাতৃত্ব বন্ধনে সম্মুজ্জ্বল ইসলামি বিশ্ব।
ঐতিহ্যবাহী ইসলামি দুনিয়া, পুনরায় ইসলাম-চর্চিত ভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার সামর্থ নিয়ে ফিরে আসুক এবং অতীতের ইসলামি সালতানাতের শক্তি ও
সামর্থ্য, যা হারিয়ে গেছে তা স্বমহিমায় আত্মপ্রকাশ করুক, আল্লার কাছে কবির এই
প্রার্থনাই এই গানের স্থায়ীতে উপস্থাপিত হয়েছে। এই গানের আবাদ হলো-
কর্ষিত ভূমি। ইসলামি কৃষ্টির চর্চা অর্থে আবাদ ব্যবহার করা হয়েছে।
গানটির প্রথম অন্তরায়, তিনি আল্লার কাছে তাঁদের পুনরুদ্থানের জন্য প্রার্থনা
করেছেন, যাঁরা ইসলাম ধর্ম ও ইসলামি রাষ্ট্রের জন্য বীরত্বের সাথে যুদ্ধ
করেছেন। প্রসঙ্গক্রমে স্মরণ করেছেন- বীর হামজা (বদরের যুদ্ধের বিজয়ী
বীর), ওলিত (প্রখ্যাত সেনানায়ক খালেদ-বিন-ওলিদ), ওমর (দ্বিতীয় খলিফা বীর যোদ্ধা
এবং সুশাসক), হারুন-অল-রশীদের (বাগদাদের খলিফা, সুশাসক), মহান অধিনায়ক
সালাউদ্দিনের (ক্রুসেড যুদ্ধের বিজয়ী সুলতান) -এর মতো ধর্মযুদ্ধের বিজয়ীদের।
যেন কবি ধর্ম রক্ষায় তাঁদের মতো জেহাদির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেন।
গানটির দ্বিতীয় অন্তারতে কবি স্মরণ করেছেন ইসলামি দুনিয়ার জ্ঞানী সাধকদের।
উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন- জালাল
উদ্দিন রুমি (পারশ্যের সুফিসধাক, মসনভী কবি), শেখ সাদী (পারশ্যের সুফিসাধক, কবি),
হাফিজ শিরাজি (পারশ্যের সুফিসাধক, কবি), জামী পারশ্যের (সুফিসাধক, কবি), পারশ্যের
খৈয়াম (ওমর খৈয়াম, বিজ্ঞানী, কবি) ও তবরিজের (পারশ্যের শামস তাবরিজি, কবি) মতো
মহাত্মাদের নাম।
কবির প্রার্থনা- যেন তাঁরা ইসলামি দুনিয়ায় আগের মতোই তাঁদের জ্ঞানের আলোতে ভরিয়ে
দিক। চান আকবর (মোগল সম্রাট) ও শাহ্জাহানের (মোগল সম্রাট) মতো মহান শাসক
এবং শিল্পানুরাগী শাসকের মতো মহাত্মাদের আগমনে ইসলামি দুনিয়ায় জ্ঞানের
জ্যোতি ছড়িয়ে পড়ুক, আল্লাহর কাছে কবির এটাই পরম প্রার্থনা।
এক সময়
ইসলামি দুনিয়ার প্রধান শক্তি ছিল ভ্রাতৃত্বের বন্ধন। দলগত কোন্দল,
ধর্ম-ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ধীরে ধীরে সে বন্ধন শিথিল হয়ে গেছে। সকল বিবাদ-বিভেদ
ভুলে স্বার্থত্যাগ করে দৃপ্ত মনে
বিশ্বের সকল মুসলমান যেন এক কাতারে দাঁড়াতে পারে কবি এমনটাই কামনা করেন।
তিনি কামনা করেন চন্দ্রখচিত পতাকা হোক ইসালামি প্রতীক। সকল কামনা পূরণে আল্লাহ
মুসলিম জগৎকে তওফিক-ময় (সামর্থ ও সম্পদ) করে
তুলুন, আল্লাহের কাছে এটাই কবির একান্ত প্রার্থনা।
- তথ্যানুসন্ধান:
- ক. রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল সম্পর্কে
সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। মোহাম্মদী পত্রিকার 'ফাল্গুন ১৩৩৯' (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯৩৩) সংখ্যায় গানটি
প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। এই
সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩ ৩
বৎসর ৯
মাস।
- খ. প্রকাশ ও গ্রন্থ
- গ্রন্থ:
-
গুলবাগিচা
- প্রথম সংস্করণ [১৩ আষাঢ় ১৩৪০, ২৭ জুন ১৯৩৩। ইমন মিশ্র-পোস্তা। পৃষ্ঠা:
৯৫-৯৬]
- নজরুল রচনাবলী, পঞ্চম খণ্ড [বাংলা একাডেমী। জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮ মে, ২০১১
। গুল-বাগিচা। গান সংখ্যা ৭৮। ইমন মিশ্র-পোস্তা।। পৃষ্ঠা ২৭৩]
- নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান সংখ্যা
৫৮৫। তাল: তেওড়া। পৃষ্ঠা:
১৭৮।]
- পত্রিকা:
- মোহাম্মদী [ফাল্গুন ১৩৩৯ (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯৩৩)]
- মাসিক মোহম্মদী [৩০শ বর্ষ, ১০ ম
সংখ্যা। শ্রাবণ ১৩৬৬ ( জুলাই-আগষ্ট
১৯৫৯)। নজরুল গীতি (তেওড়া) ।
কথা ও সুর : কাজী নজরুল ইসলাম। স্বর ও
স্বরলিপি: বেদার উদ্দীন । পৃষ্ঠা:
৮০৫-৮০৬ ]
-
রেকর্ড
- টুইন [নভেম্বর ১৯৩৩
[নভেম্বর ১৯৩৩ (কার্তিক-অগ্রহায়ণ ১৩৪০)। শিল্পী
আব্বাসউদ্দীন। নম্বর এফটি ২০৬৯]
- পর্যায়
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। জাগরণ