বিষয়: নজরুলসঙ্গীত।
শিরোনাম
:
আল্লাকে যে পাইতে চায় হজরতকে ভালবেসে
আল্লাকে যে পাইতে চায় হজরতকে ভালবেসে।
আরশ্ কুরসি লওহ কালাম, না চাহিতেই পেয়েছে সে॥
রসুল নামের রশি ধ'রে যেতে হবে খোদার ঘরে,
নদী-তরঙ্গে যে পড়েছে ভাই, দরিয়াতে সে আপনি মেশে॥
তর্ক ক'রে দুঃখ ছাড়া কি পেয়েছিস্ অবিশ্বাসী,
কি পাওয়া যায় দেখ্ না বারেক হজরতে মোর ভালবাসি'।
এই দুনিয়ায় দিবা-রাতি ঈদ্ হবে তোর নিত্য সাথি,
তুই যা চাস্ তাই পাবি রে ভাই আহমদ চান যদি হেসে॥
- ভাবসন্ধান: গানটিতে নবী হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-র গুণকীর্তন করা হয়েছে।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, আল্লাহর প্রিয় নবী হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-কে
ভালবাসার মধ্য দিয়ে আল্লাহকে পাওয়া সম্ভব। কারণ তিনি আল্লাহর আরশ [সপ্তম আসমান,
যেখানে আল্লাহ অধিষ্ঠিত], কুরসি [কুরসি হলো- আল্লাহর অধিষ্ঠিত অবস্থানে আল্লাহর
আসন], লওহ [লওহ মাহফুজের সংক্ষেপ, যেখানে আল্লাহ কুর্আনকে সংরক্ষণ
করেছেন], কালাম (এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, হজরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর
প্রতি বিশ্বাবাচক মন্ত্র] না চাইতেই আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছেন।
ইসলাম ধর্ম মতে তিনি মুর্শিদ। তাই তাঁর শিক্ষার রশি ধরে, আল্লাহর কাছে পৌঁছে
যাবেন ইমানদাররা। কবি মনে করেন, নবি হলেন- আল্লাহর যাত্রাপথের ও প্রবাবাহিত নদী।
এই নদীতে যদি কেউ পতিত হয়, তাহলে নদীর সাথে আল্লাহ নামক সাগরে তাঁর মিলন হবেই।
অবিশ্বাসীদের তর্কেে দুঃখ ছাড়া আর কিছু পাওয়ার নেই। তার চেয়ে তারা যদি একবার
নবিকে আদর্শ বা মুর্শিদ ভেবে ভালোবাসে, তাহলে বুঝতে পারবে নবির মহিমা। নবির
মহিমায় এই দুনিয়ার দিবারাত্রি হবে ঈদের মতো মহামিলনের আন্দোৎসব। এমন কি যে যা
চাইবে, নবি তা দান করবেন সহাস্য মুখে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির রচনাকাল
সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায় না। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর (ভাদ্র-আশ্বিন
১৩৪৮) মাসে, টুইন রেকর্ড
কোম্পানি প্রথম গানটির রেকর্ড প্রকাশ করেছিল। এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৪২ বৎসর
৩ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। সংখ্যা ৫৯২। পৃষ্ঠা:
১৮০
- রেকর্ড: টুইন [সেপ্টেম্বর ১৯৪১ (ভাদ্র-আশ্বিন ১৩৪৮)। এফটি ১৩৬৪৭। আব্বাসউদ্দীন আহমদ
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল।