বিষয়:
নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম
: রাঙা পির্হান প'রে শিশু
নবী খেলেন পথে
রাঙা পির্হান প'রে শিশু নবী খেলেন পথে।
দেখে হুর-পরীরা সব লুকিয়ে বেহেশ্ত্ হ'তে॥
মোহনী সুরত বাঁকা চাঁদে চন্দন মাখা।
নূরানী রওশনী তাঁর চমকে দিনের আলোতে॥
নাচের তালে তালে সোনার তাবিজ দোলে,
চরণ তলে ধূলি কাঁদে মোহাম্মদ ব'লে।
নীল রেশমি রুমাল বাঁধা তাঁর চাঁচর কেশে
রাঙা সালোয়ার প'রে নাচে সে হেসে হেসে,
খোদার আরশ টলে সে রূপ-সুধা-স্রোতে॥
- ভাবসন্ধান: এই গানে শৈশবের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নিষ্পাপ সৌন্দর্য, ঐশী নূর, চঞ্চলতা এবং তাঁর অতুলনীয় মর্যাদাকে কাব্যিক কল্পনা ও ভক্তিরসের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। তাঁর রূপ-মাধুর্য ও পবিত্র সত্তা সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য আনন্দ, বিস্ময় ও বরকতের উৎস—এই ভাবই গানের মূল প্রতিপাদ্য।
গানের শুরুতে কবি কল্পনা করেন, লাল রঙের পোশাক (রাঙা পিরহান) পরে শিশু মুহাম্মদ (সা.) পথে খেলছেন। তাঁর সেই অপরূপ রূপ দেখে জান্নাতের হুর-পরীরাও বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়ে স্বর্গ থেকে লুকিয়ে তাঁকে দেখতে আসে। এখানে বোঝানো হয়েছে, তাঁর সৌন্দর্য শুধু পৃথিবীর মানুষেরই নয়, স্বর্গবাসীদেরও আকর্ষণ করে।
গানের পরবর্তী অংশে কবি বলেন, তাঁর মুখমণ্ডল ছিল বাঁকা চাঁদের মতো মনোহর ও স্নিগ্ধ। তাঁর দেহ থেকে এমন এক নূর বা ঐশী জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতো যে, দিনের আলোও যেন তার সামনে ম্লান হয়ে যেত। এটি বাস্তব বর্ণনা নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর আধ্যাত্মিক মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত একটি কাব্যিক অলংকার।
এরপর কবি শিশুর স্বাভাবিক চঞ্চলতার ছবি এঁকেছেন। তিনি যখন আনন্দে নাচেন বা খেলেন, তখন তাঁর গলায় ঝোলানো সোনার তাবিজ দুলতে থাকে। তাঁর পদস্পর্শে ধূলিকণাও যেন ধন্য হয়ে "মোহাম্মদ" নাম উচ্চারণ করে কেঁদে ওঠে। অর্থাৎ তাঁর উপস্থিতিতে জড় প্রকৃতিও প্রাণ পায় এবং শ্রদ্ধায় অভিভূত হয়।
গানের শেষাংশে তাঁর সাজসজ্জার মনোরম বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। নীল রেশমি রুমাল দিয়ে বাঁধা তাঁর কোঁকড়ানো চুল, রাঙা সালওয়ার পরিহিত হাস্যোজ্জ্বল শিশুরূপ—সব মিলিয়ে এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। কবি অতিশয়োক্তির মাধ্যমে বলেন, তাঁর সেই রূপের সুধাধারা এমনই অপার্থিব যে, তা দেখে আল্লাহর আরশও যেন আনন্দে আন্দোলিত হয়ে ওঠে। এর দ্বারা মহানবী (সা.)-এর প্রতি কবির সীমাহীন ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তির প্রকাশ ঘটেছে।
- রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের
আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪) মাসে টুইন রেকর্ড কোম্পানি গানটির প্রথম রেকর্ড প্রকাশ করে।
এই সময় নজরুল ইসলামের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ২ মাস।
- গ্রন্থ:
নজরুল-সঙ্গীত
সংগ্রহ,
[নজরুল ইনস্টিটিউট, মাঘ ১৪১৮। ফেব্রুয়ারি ২০১২। ৬২৩ সংখ্যক গান]
- রেকর্ড: টুইন [আগষ্ট ১৯৩৭ (শ্রাবণ-ভাদ্র ১৩৪৪)]। এফটি ১২০৪৬। শিল্পী:
আব্দুল লতিফ।
- সুরকার: সুবল দাশগুপ্ত
-
স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
সুধীন দাশ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
চৌত্রিশতম খণ্ড, (একুশে
বই মেলা। ফাল্গুন ১৪১৮/ফেব্রুয়ারি ২০১২)। ১৮তম গান [নমুনা]
-
পর্যায়:ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। নাত-এ-রসুল
- সুরাঙ্গ:
স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের গান