বিষয়: নজরুল সঙ্গীত।
শিরোনাম: দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান
দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান
হে খোদা, এ যে তোমারই হুকুম, তোমারই ফরমান॥
এমনি তোমার নামের আছর
নামাজ রোজার নাই অবসর,
তোমার নামের নেশায় সদা মশগুল মোর প্রাণ॥
তকদিরে মোর এই লিখেছ হাজার গানের সুরে
নিত্য দিব তোমার আজান আঁধার মিনার-চূড়ে।
কাজের মাঝে হাটের পথে
রণ-ভূমে এবাদতে
আমি তোমার নাম শোনাব, করব শক্তি দান॥
-
ভাবসন্ধান: এই গানে এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক-ভক্তের অন্তরের ঈশ্বরপ্রেম,
আত্মসমর্পণ এবং সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে ধর্মপ্রচারের আদর্শ প্রকাশিত হয়েছে। ভক্ত
বিশ্বাস করেন যে, তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য ও কর্তব্য স্বয়ং খোদারই নির্ধারিত। তাই
তিনি দেশ-দেশান্তরে ঘুরে খোদার নাম ও মহিমা গেয়ে বেড়ান এবং এটিকেই নিজের
জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
গানের শুরুতে ভক্ত বলেন, তিনি যে সর্বত্র খোদার নামের গান গেয়ে বেড়ান, তা তাঁর
নিজের ইচ্ছায় নয়; বরং এটি খোদারই আদেশ ও নির্দেশ। খোদার নামের এমন গভীর
প্রভাব তাঁর হৃদয়ে পড়েছে যে, তিনি সর্বদা সেই নামের প্রেমে ও স্মরণে মগ্ন
থাকেন। তাঁর অন্তর খোদার নামের নেশায় এতটাই আচ্ছন্ন যে, অন্য সবকিছু তুচ্ছ বলে
মনে হয়।
ভক্ত আরও অনুভব করেন, তাঁর ভাগ্যে খোদা
অসংখ্য গানের সুর লিখে দিয়েছেন। সেই সুরের মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন মানুষের কাছে
খোদার বাণী পৌঁছে দেবেন। যেমন মিনারের চূড়া থেকে আজান ধ্বনিত হয়ে মানুষকে
আল্লাহর স্মরণে আহ্বান জানায়, তেমনি তাঁর গানও মানুষের হৃদয়ে ঈশ্বরচেতনা
জাগিয়ে তুলবে।
গানের শেষাংশে ভক্ত ঘোষণা করেন যে, তিনি
জীবনের সর্বত্র—কর্মক্ষেত্রে, জনসমাগমে, পথে-ঘাটে, এমনকি সংগ্রাম ও বিপদের
মুহূর্তেও—খোদার নাম প্রচার করবেন। মানুষের মনে সাহস, শক্তি ও প্রেরণা সঞ্চার
করাই হবে তাঁর সাধনা। তাঁর বিশ্বাস, খোদার নামই মানুষকে সত্য, ন্যায় ও
কল্যাণের পথে পরিচালিত করে।
-
রচনাকাল ও স্থান: গানটির
রচনাকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায় না।
১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪)
মাসে এইচএমভি রেকর্ড কোম্পানি থেকে গানটির
প্রথম রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল।
এই সময় নজরুলের বয়স ছিল ৩৮ বৎসর ৬ মাস।
- গ্রন্থ: নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ [নজরুল ইনস্টিটিউট ফেব্রুয়ারি ২০১২। গান
সংখ্যা
৮৯১। পৃষ্ঠা:
২৭৪]
- রেকর্ড: এইচএমভি [ডিসেম্বর ১৯৩৭ (অগ্রহায়ণ-পৌষ ১৩৪৪)। এন ১৭০০৮। শিল্পী:
মো. কাশেম। সুর:
কমল দাশগুপ্ত]
- স্বরলিপি ও স্বরলিপিকার:
- সুধীন দাশ [নজরুল-সঙ্গীত স্বরলিপি,
চৌত্রিশতম খণ্ড, (একুশে বই মেলা। ফাল্গুন ১৪১৮/ফেব্রুয়ারি
২০১২)]। ১৫তম গান। পৃষ্ঠা: ৪৬-৪৯]। [নমুনা]
- সুরকার: কমল দাশগুপ্ত
- পর্যায়:
- বিষয়াঙ্গ: ধর্মসঙ্গীত। ইসলাম। হামদ। বন্দনা
- সুরাঙ্গ:
- তাল:
কাহারবা
- গ্রহস্বর: র্সা