বিষয়:
রবীন্দ্রসঙ্গীত।
শিরোনাম: কাঁপিছে দেহলতা থরথর
পাঠ ও পাঠভেদ:
- গীতবিতান (বিশ্বভারতী, কার্তিক ১৪১২)-এর পাঠ:
কাঁপিছে দেহলতা থরথর,
চোখের জলে আঁখি ভরভর॥
দোদুল তমালেরই বনছায়া তোমারি নীল বাসে নিল কায়া,
বাদল-নিশীথেরই ঝরঝর
তোমারি আঁখি-’পরে ভরভর॥
যে কথা ছিল তব মনে মনে
চমকে অধরের কোণে কোণে।
নীরব হিয়া তব দিল ভরি কী মায়া স্বপনে যে, মরি মরি,
আঁধার কাননের মরমর
বাদল-নিশীথের ঝরঝর॥
- ভাবার্থ: এই গানে
বর্ষার নিশীথরাতে কবি ও প্রিয়তমার গভীর আবেগ, আকুলতা ও নীরব প্রেমের এক অপূর্ব
চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্ষার নিশীথের অন্ধকার, বৃষ্টি, তমালের নীল ছায়া ও কাননের মর্মরধ্বনির সঙ্গে কবি ও প্রিয়তমার নীরব প্রেম, লজ্জা, আকুলতা ও বিরহ-বেদনা একাকার হয়ে এক গভীর ও মায়াময় রোমান্টিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
বর্ষার রাতের স্নিগ্ধ ও আবেগময় পরিবেশে
প্রিয়তমার দেহলতা থরথর করে কাঁপছে এবং তাঁর চোখ অশ্রুতে পরিপূর্ণ। চারদিকে
দুলছে তমালের বন। সেই তমালবনের নীলাভ ছায়া যেন প্রিয়তমার নীলবসনের সঙ্গে একাকার
হয়ে গেছে। রাতের ঝরঝর বৃষ্টিধারা যেন তাঁর চোখের অশ্রুধারারই বহিঃপ্রকাশ।
প্রিয়তমার হৃদয়ে যে কথাগুলো এতদিন নীরবে
জমে ছিল, সেগুলো মুখে উচ্চারিত না হলেও তাঁর অধরের কোণে ক্ষণিকের চমক ও মৃদু
অভিব্যক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হতে চাইছে। তাঁর নীরব হৃদয় কোনো এক মায়াময়
স্বপ্নে পূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই স্বপ্ন, প্রেম ও আবেগের আবেশে কবিও গভীরভাবে
অভিভূত; এই অপরূপ মায়াময় পরিবেশে তিনি যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলছেন।
কবিতার শেষাংশে প্রকৃতি ও মানবমনের অনুভূতি একাকার হয়ে যায়। আঁধার কাননের মর্মরধ্বনি এবং বাদল-নিশীথের ঝরঝর বৃষ্টিধ্বনি যেন কবি ও প্রিয়তমার নীরব হৃদয়ের ভাষায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃতির বৃষ্টি এখানে কেবল বাহ্যিক প্রাকৃতিক ঘটনা নয়; তা প্রেমের অশ্রু, আকুলতা ও অব্যক্ত আবেগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- পাণ্ডুলিপির পাঠ:
RBV
BMS 111
[নমুনা]
- তথ্যানুসন্ধান
- ক. রচনাকাল ও স্থান: সবুজপত্র পত্রিকার ভাদ্র ১৩২৪ সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়, রবীন্দ্রনাথের 'সঙ্গীতের মুক্তি' নামক প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে
তিনি উদাহরণ স্বরূপ বেশ কয়েকটি গান ব্যবহার করেছেন। এর ভিতরে চারটি গান ছিল
নতুন। সম্ভবত তিনি এই গানগুলো লিখেছিলেন শ্রাবণ মাস। এই বিচারে
গানটি রচনার সময় রবীন্দ্রনাথের বয়স ছিল ৫৬ বৎসর ৪ মাস।
- খ.প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
- গ্রন্থ:
- গীতপঞ্চাশিকা (আশ্বিন
১৩২৫ বঙ্গাব্দ)। দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত।
- গীতবিতানের প্রকৃতি (উপ-বিভাগ : বর্ষা-১০)পর্যায়ের ৩৫ সংখ্যক গান।
- প্রবাহিণী, ঋতু-চক্র ১৩৭ (অগ্রহায়ণ ১৩৩২
বঙ্গাব্দ)।
- সংগীত-চিন্তা।
-
স্বরবিতান
ষোড়শ
( ১৬,
গীতপঞ্চাশিকা। আশ্বিন
১৪১৩)
খণ্ডের ১৬ সংখ্যক গান। পৃষ্ঠা: ৬৩-৬৪।
- পত্রিকা:
- সবুজপত্র,
সংগীতের মুক্তি (ভাদ্র ১৩২৪ বঙ্গাব্দ)।
- গ.সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
- স্বরলিপি:
- স্বরলিপিকার:
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- সুর ও তাল:
-
স্বরবিতান
ষোড়শ
(১৬, গীতপঞ্চাশিকা । আশ্বিন ১৪১৩)
খণ্ডে গৃহীত মূল স্বরলিপিতে রাগ-তালের উল্লেখ নেই।
উক্ত স্বরলিপিটি ৩।৪।৪
মাত্রা ছন্দে একাদশী তালে নিবদ্ধ ।
[স্বরলিপি]
- রাগ: দেশ।
তাল:একাদশী । [রবীন্দ্রসংগীত:
রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬। পৃষ্ঠা:
৪৪]।
- রাগ:
দেশ তাল:
একাদশী [রাগরাগিণীর
এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত, প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য
সংগীত আকাদেমী, জুলাই ২০০১।] পৃষ্ঠা: ৮০।
গ্রহস্বর:
রা।