বিষয়: রবীন্দ্রসঙ্গীত।
গান সংখ্যা :
শিরোনাম:
আমায় বোলো না গাহিতে
বোলো না
পাঠ ও পাঠভেদ:
আমায় বোলো না গাহিতে বোলো না।
এ কি শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা ?।
এ যে নয়নের জল, হতাশের শ্বাস, কলঙ্কের কথা দরিদ্রের আশ,
এ যে বুক-ফাটা দুখে গুমরিছে বুকে গভীর মরমবেদনা।
এ কি শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা ?।
এসেছি কি হেথা যশের, কাঙালি কথা গেঁথে গেঁথে নিতে করতালি—
মিছে কথা কয়ে, মিছে যশ লয়ে, মিছে কাজে নিশিযাপনা।
কে জাগিবে আজ, কে করিবে কাজ, কে ঘুচাতে চাহে জননীর লাজ—
কাতরে কাঁদিবে, মায়ের পায়ে দিবে সকল প্রাণের কামনা ?
এ কি শুধু হাসি খেলা, প্রমোদের মেলা, শুধু মিছেকথা ছলনা ?।
পাণ্ডুলিপির পাঠ: রবীন্দ্র পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় নি।
পাঠভেদ:
এ গান রচনার উৎস সম্বন্ধে শ্রীপুলিন বিহারী সেনকে একটি চিঠিতে কবি লিখেছেন :
একদিনের ঘটনা মনে পড়েছে, সে বহুদিন পূর্বের কথা। তখনকার দিনে আমাদের রাষ্ট্রনায়কদের অঙ্গুলি তোলা ছিল রাজপ্রসাদকণা বর্ষণের প্রত্যাশায়। একদা কোনো জায়গায় তাঁদের কয়েকজনের সান্ধ্য বৈঠক বসবার কথা ছিল। তাঁদের দূত ছিলেন আমার পরিচিত এক ব্যক্তি। আমার অসম্মতি সত্ত্বেও তিনি বারবার করে বলতে লাগলেন আমি না গেলে আসর জমবে না। শেষ পর্যন্ত ন্যায্য অসম্মতিকেও বলবৎ রাখাবার শক্তি বিধাতা আমাকে দেন নি। যেতে হোল। ঠিক যাবার পূর্বক্ষণেই আমি নিম্নোদ্বৃত গানটি রচনা করেছিলেম- আমায় বোলো না গাহিতে.....। এই গান গাবার পরে আর আসর জমল না। সভাস্থগণ খুশি হন নি।
কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ তাঁর পিতৃস্মৃতি' গ্রন্থে লিখেছেন- 'যে সময়কার কথা বলছি তখনকার একটি গল্প উল্লেখযোগ্য। আমার মনে থাকার কথা নয়— বড়ো হয়ে বাবার মুখে শুনেছি। কলকাতায় সেবার কংগ্রেস হচ্ছে। নানান প্রদেশ থেকে বড়ো বড়ো নেতারা এসেছেন। দেশোদ্ধার কী করে করা যায় তাই নিয়ে কদিন ধরে ওজস্বী বক্তৃতা অনেক হয়ে গেছে কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে। হাট ভাঙার আগে তারকনাথ পালিত ঠিক করলেন তাঁর বাড়িতে নেতাদের ডিনার পার্টি দেবেন। উদ্দেশ্য, পরস্পরকে সাধুবাদ দেওয়া। আমার পিতাকে পালিত সাহেব কেবল সাদর নিমন্ত্রণ জানিয়ে ক্ষান্ত হলেন না, বিশেষ করে অনুরোধ করেলেন নেতাদের বিনোদনের জন্য গান গাইতে হবে। গগনদাদাদের তিন ভাইয়েরও নিমন্ত্রণ ছিল। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থির হল জোড়াসাঁকো-বাড়ি থেকে যে চারজন যাবেন একবারে বাঙালি দস্তুরে ধুতিচাদর পরে ডিনারে হাজির হবেন। ধুতি-পরা বাঙালি বাবুদের ডিনারে যোগ দেওয়া বিদেশীভাবাপন্ন কংগ্রেস নেতৃবর্গের কাছে কী রকম উপহাসের বিষয় হয়েছিল অনুমান করতে পারা যায়। ইংরেজি কায়দায় ডিনার পার্টি কী ধরনের হবে বাবা সহজেই অনুমান করেছিলেন— সেই বিদেশী আবহাওয়ার মধ্যে স্বদেশী গান গাইতে তাঁর একটুও ইচ্ছা করছিল না। উতলা মন নিয়ে গাড়িতে উঠলেন।
আহারান্তে বক্তৃতা যখন চলছে, তার মধ্যে একসময় বাবাকে গান গাইতে বলা হল। বাবা গাইলেন—
আমায় বোলো না গাহিতে বোলো না...।
...গান শুনে সকলে স্তব্ধ। ডিনার পার্টি মাটি হয়ে গেল। মুখ বিষণ্ণ করে একে একে সবাই চলে গেলেন।'[পিতৃস্মৃতি।রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জিজ্ঞাসা পাবলিকেশন্স্, কলিকাতা, ২৫শে বৈশাখ ১৩৯৫। পৃষ্ঠা: ৯-১০]
খ. প্রকাশ ও গ্রন্থভুক্তি:
গ্রন্থ:
কড়ি ও কোমল (অগ্রহায়ণ ১২৯৩ বঙ্গাব্দ)। শিরোনাম- বঙ্গবাসীর প্রতি। রবীন্দ্ররচনাবলী দ্বিতীয় খণ্ড (বিশ্বভারতী)। পৃষ্ঠা ১০৯-১০।
কাব্যগ্রন্থ অষ্টম খণ্ড (মজুমদার লাইব্রেরি ১৩১০)
কাব্যগ্রন্থাবলী (আদি ব্রাহ্মসমাজ প্রেস ১৩০৩)
গান
সিটী বুক সোসাইটী ১৩১৫
ইন্ডিয়ান প্রেস ১৩১৬
ইন্ডিয়ান পাবলিশিং হাউস ১৩২১
গানের বহি ও বাল্মীকি প্রতিভা (আদি ব্রাহ্মসমাজ ১৩০০ বঙ্গাব্দ)। বিবিধ, সিন্ধু-কাওয়ালি। পৃষ্ঠা ২২৬।
প্রথম খণ্ড, প্রথম সংস্করণ [বিশ্বভারতী, আশ্বিন ১৩৩৮। কাব্যগ্রন্থাবলী (১৩০৩ বঙ্গাব্দ) 'গান' অংশ থেকে গৃহীত হয়েছে । পৃষ্ঠা: ১২৭][নমুনা]
প্রথম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৪৮)
অখণ্ড সংস্করণ, তৃতীয় সংস্করণ (বিশ্বভারতী ১৩৮০)। স্বদেশ পর্যায়ের ২২ সংখ্যক গান।
রবীন্দ্রসঙ্গীত (হিতবাদী ১৩১১)
শতগান, ৫৩ সংখ্যক গান, জাতীয় সঙ্গীত, সিন্ধু-ঝাঁপতাল। সরলাদেবী [সুবর্ণ সংস্করণ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ] সরলাদেবী-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিলো। পৃষ্ঠা: ১৯২-১৯৬।
স্বরবিতান সপ্তচত্বারিংশ (৪৭) খণ্ডের (পৌষ ১৪১২) অষ্টম গান। পৃষ্ঠা: ৩৩-৩৫।
পত্রিকা:
সাধনা (১৩০০)
সঙ্গীত-প্রকাশিকা (আশ্বিন ১৩১২ বঙ্গাব্দ)। সিন্ধু কাফি-একতালা। পৃষ্ঠা: ৫-৭।
গ. সঙ্গীত বিষয়ক তথ্যাবলী:
স্বরলিপিকার: ইন্দিরাদেবী। সঙ্গীত-প্রকাশিকা (আশ্বিন ১৩১২ বঙ্গাব্দ) থেকে স্বরবিতান-৪৭ এ গৃহীত হয়েছে।
সুর ও তাল:
স্বরবিতান সপ্তচত্বারিংশ (৪৭) খণ্ডে (পৌষ ১৪১২) গৃহীত গানটির স্বরলিপিতে রাগ ও তালের উল্লেখ নেই। গানটি ৩।৩।৩।৩। মাত্রা ছন্দে একতাল-এ নিবদ্ধ।
সিন্ধু-ঝাঁপতাল। [শতগান, ৫৩ সংখ্যক গান, জাতীয় সঙ্গীত, সিন্ধু-ঝাঁপতাল। সরলাদেবী [সুবর্ণ সংস্করণ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ] সরলাদেবী-কৃত স্বরলিপি-সহ মুদ্রিত হয়েছিলো। পৃষ্ঠা: ১৯২-১৯৬।]
রাগ- সিন্ধু কাফি। তাল-একতালা। সঙ্গীত-প্রকাশিকা (আশ্বিন ১৩১২বঙ্গাব্দ)
রাগ- সিন্ধু। তাল-কাওয়ালি। গানের বহি ও বাল্মীকি প্রতিভা (১৩০০বঙ্গাব্দ)
রাগ: কাফি। তাল: একতাল। [রবীন্দ্রসংগীত: রাগ-সুর নির্দেশিকা। সুধীর চন্দ। প্যাপিরাস, ডিসেম্বর ২০০৬। পৃষ্ঠা: ২৯]
রাগ: কাফি। তাল: একতাল, ঢালা। [রাগরাগিণীর এলাকায় রবীন্দ্রসংগীত। প্রফুল্লকুমার চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত আকাদেমি, জুলাই ২০০১। পৃষ্ঠা: ৫৫।]
গ্রহস্বর: সসা।
লয়-দ্রুত।