১. কে আছে রে ভাই হাশরের দিনে...
নবিজির পরজন্দ জহুরা, তামাম আলমে বলে মা [শেখ ভানু] [তথ্য]
[বাউল ফকির পদাবলি শেখ ভানু, সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত, অন্বেষা প্রকাশনী। গান-৩৬]
২. মন কান্দে রে, দিল কান্দে রে...
আল্লার আলম তামাম [দুর্বিন শাহ] [তথ্য]
[দুর্বিন শাহ সমগ্র, সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত, উৎস প্রকাশন। গান-৪৪]
৩. আল্লা ছাড়া নাই কিছু আর বিচার করলে দুনিয়ায়...
সারে আলম তারই ছবি, তুমি আমি রই মিথ্যা কথায় [জালাল উদ্দিন খাঁ] [তথ্য]
[জালালগীতিকা সমগ্র, সম্পাদনা যতীন সরকার, নন্দিত প্রকাশনী। গান-৫৪৮]
৪. তোমায় দেখি নিতুই চেয়ে চেয়ে...
হুর পরী সব গায় নাচে আজ, দেয় ‘মোবারকবাদ্’ আলম্, [কাজী নজরুল ইসলাম] [তথ্য]
[নজরুল-সঙ্গীত সংগ্রহ, নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা। গান-৮২১]৫. আল্লার বান্দা কীসে হয় বলো গো আজ আমায়...
আঠরো হাজার আল্লার আলম কত হাজার কালাম কয় [লালন ফকীর] [তথ্য]
[অখণ্ড লালনসঙ্গীত, আবদেল মাননান সম্পাদিত, রোদেলা প্রকাশনী। গান-৪]
[লালন সমগ্র, আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত, পাঠক সমাবেশ। গান-৮৯]
৬. আমি দেখতে চাইলে দেখিনা তোমারে, ও সোনা বন্ধুরে...
ও বন্ধুরে, আলম ও আরয়ার মাঝে, কত কত রূহানী সাজে [কালা শাহ] [তথ্য]
[কালাশাহ গীতিসমগ্র, নন্দলাল শর্মা সম্পাদিত, মাতৃভূমি প্রকাশনী। গান-১৯০]
অর্থ: ২। স্রষ্টার সৃষ্ট সৃষ্টিলোক ের প্রজাতিসমূহ। ইসলামি দর্শন এবং সুফিবাদে '১৮ হাজার আলম' একটি অত্যন্ত প্রচলিত এবং গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ধারণা। একে প্রধানত কয়েকটি স্তরে ভাগ করা হয়:
১. আলমে নাসুত (বস্তু জগত)। এর সংখ্যা ৯০০০। এর উপবিভাগগুলো হলো-
- স্থলজ জগত (ভূমি): পাহাড়, পর্বত, মরুভূমি ও সমতলের বৈচিত্র্য।
- উদ্ভিদ জগত: লতা-পাতা ও বৃক্ষরাজির হাজারো প্রকার।
- প্রাণিকুল: মানুষ, পশু ও কীট-পতঙ্গের বিভিন্ন প্রজাতি।
- খনিজ জগত: সোনা, রূপা, হীরা ও মাটির নিচের সম্পদ।
২. আলমে মালাকুত ও গায়েব: এর সংখ্যা ৯০০০। এর উপবিভাগগুলো হলো-
- জলজ জগত (সমুদ্র): গভীর সমুদ্রের অগণিত অজানা সৃষ্টি (অনেক কিতাবে জলজ জগতকে ৯ হাজার ধরা হয়)।
- আসমানি জগত: সাত আসমান, আরশ, কুরসি এবং সিদরাতুল মুনতাহা।
- নূরানি জগত: ফেরেশতাদের অগণিত দল ও তাদের কর্মক্ষেত্র।
- রুহানি জগত: আত্মা বা রুহ্-এর জগত (আলমে আরওয়াহ)।
- জিন ও পরিলোক: আগুনের তৈরি অগণিত জাতি ও সম্প্রদায়।
আধ্যাত্মি জগতের ক্ষমতার বিচারে শ্রেণিকরণ।
১. আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি): এটি এমন এক স্তর যেখানে আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলি (যেমন: সৃজনশীলতা, ধ্বংসক্ষমতা, দয়া) সক্রিয় হয়। এই স্তরেই মহান আল্লাহর 'কুন' (হও) ধ্বনি কার্যকর হয়।
২. আকল-এ-আউয়াল (প্রথম বুদ্ধি/বিবেক) অনেক দার্শনিক ও সুফি একে 'নূরে মুহাম্মদী' বা সৃষ্টির প্রথম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেন। এখান থেকেই সমস্ত সৃষ্টির নকশা বা পরিকল্পনা তৈরি হয়।
৩. লওহে মাহফুজ (সংরক্ষিত ফলক) জাবারুত জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো লওহে মাহফুজ। এখানে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত 'আফাল' বা কর্মলিপি লিপিবদ্ধ থাকে।
৪. আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র এই স্তরে বড় বড় ফেরেশতা (যেমন জিবরাঈল আ. বা মিকাইল আ.) তাঁদের মূল রূহানি শক্তিতে অবস্থান করেন। একে 'সিদরাতুল মুনতাহা'র সমান্তরাল একটি আধ্যাত্মিক অবস্থান বলা হয়।
আলমে লাহুত
লাহুত জগতে কোনো আকার, কাল বা স্থান নেই, তাই এর শ্রেণিকরণ ভৌগোলিক নয়, বরং 'তাজাল্লি' বা আত্মপ্রকাশের স্তর অনুযায়ী করা হয়। সুফি দর্শনে (বিশেষ করে ইবনে আরাবি রহ.-এর মতে) এর প্রধান স্তরগুলো হলো -
১. আহাদিয়াত (অদ্বৈততা) এটি লাহুত জগতের সর্বোচ্চ ও মূল স্তর। এখানে মহান আল্লাহ তাঁর 'একক' সত্তায় বিদ্যমান। সেখানে কোনো সৃষ্টি নেই, কোনো নাম নেই, এমনকি কোনো গুণাবলিও দৃশ্যমান নয়। একে 'জাত' (Zat) বা খাঁটি সত্তা বলা হয়।
২. ওয়াহদাত (একত্ব) এই স্তরে আল্লাহর 'জাত' বা সত্তা নিজেকে চেনার জন্য প্রথম ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এখানে স্রষ্টার গুণাবলি (সিফাত) খুব সূক্ষ্মভাবে সুপ্ত থাকে। সুফিগণ একে 'হাকিকতে মুহাম্মদী'র মূল উৎস বলেন।
৩. ওয়াহিদিয়াত (এককত্ব) লাহুত জগতের এই স্তরে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (যেমন: রহিম, রহমান, খালিক) পৃথকভাবে চিহ্নিত হওয়ার পর্যায়ে আসে। এখান থেকেই মূলত 'আলমে জাবারুত'-এর দিকে সৃষ্টির যাত্রা শুরু হয়।
৪. গায়েব-উল-গায়েব (অদৃশ্যের অদৃশ্য) এটি এমন এক পর্দা বা স্তর যা কোনো ফেরেশতা বা নবীর পক্ষেও অতিক্রম করা সম্ভব নয়। এটি স্রষ্টার একান্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।
১ 'আলম-এ-আফাক:বহির্জগত'। আমাদের শরীরের বাইরে যে বিশাল সৃষ্টিজগত আমরা দেখি চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি। এই সবকিছুর সমষ্টিই হলো 'আফাক আলম'। এটি স্রষ্টার শক্তির এক বিশাল বহিঃপ্রকাশ।
২. আলম-এ-আনফুস: একে বলা হয় 'অন্তর্জগত'। মানুষের শরীরের ভেতরে যে জগত (রূহ, কলব, নফস) রয়েছে, তাকে বলা হয় 'আনফুস'। সুফিদের মতে, যা কিছু এই বিশাল 'আফাক' বা মহাবিশ্বে আছে, তার একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ মানুষের ভেতরেও বিদ্যমান।
বাংলা লোকগানে আলম (সৃষ্টজীবজগত অর্থে) শব্দের ব্যবহার