দিরাই স্মৃতিসৌধ
বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে স্থাপিত স্মৃতিসৌধ।

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এই উপজেলায় অনেকগুলো যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল। যুদ্ধ এবং পাক-বাহিনীর সাধারণ মানুষের উপর হামলার কারণে, বহু মানুষ শহিদ হন। এই এলাকার সকল শহিদদের স্মরণে, স্থাপিত হয়েছে দিরাই স্মৃতিসৌধ।

এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের মূখ্য ভূমিকায় রেখেছিল দিরাইবাসী। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ, মূল নকশা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন ভূমিকায় রেখেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শহীদুল আলম। স্মৃতিসৌধের মূল নকশা করেছিলেন মোঃ শহীদুল আলম। এই স্মৃতিসৌধের স্থপতি ছিলেন লেকঃ লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট এর স্থপতি রাজন দাস। আর নির্মাণ প্রকৌশল হিসেবে সহায়তায় ছিলেন জনাব আব্দুল মতিন (উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলজিইডি, দিরাই)।

এই স্মৃতিসৌধ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে। এই বছরের ৩০ শে এপ্রিল সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে ‘দিরাই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ বিষয়ক’ এক সভা আহ্বান করেছিলেন মোঃ শহীদুল আলম। এরপর সর্বসম্মতিতে এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এই বছরের ১৬ই নভেম্বর দিরাই উপজেলা অডিটরিয়ামের সামনে দিরাই স্মৃতিসৌধের ভিত্তি স্থাপন করেন জনাব মোঃ শহীদুল আলম। এই সময় স্থানীয় মানুষ ব্যাপক সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিলেন। সে সময়ে এর নির্মাণ ব্যয় পড়েছিল ৭,৫০,৩৯০ টাকা।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই নভেম্বর দিরাই স্মৃতিসৌধটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব সাবের হোসেন। উদ্বোধনের পর স্থানীয় ব্যাংকে দিরাই স্মৃতিসৌধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ডিপোজিট চালুক করা হয়।

স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ, মূল নকশা পরিকল্পনাকারী মোঃ শহীদুল আলম-এর মতে-

“স্মৃতিসৌধের বেদী যেন শাস্বত প্রিয় মাতৃভূমি বাংলার আদি জমিন। মূল স্তম্ভের দু’দিকে মাথা নত করে বিপরীত ভঙ্গীমায় উর্দ্ধমূখী ত্রিভূজে বন্ধীত্ব বরণ করে আছে যেন পরাজিত পাক হানাদর বাহিনী ও তাঁদের এদেশীয় দোসর। আবার উক্ত স্তম্ভ দুটির বিপরীত ভঙ্গীমা আপতঃ ভিন্নমতের প্রকাশ ঘটালেও উর্দ্ধমূখী ত্রিভূজের অগ্রসরতা শৃঙ্খল মুক্তির পশ্নে স্বাধীনতার চেতনা ও কামনায় জাতির ঐক্যমতের বহিঃ প্রকাশ। ত্রিভূজের শীর্ষ জাতির এগিয়ে যাবার হাতছানি ও দৃঢ় প্রত্যয়ের অঙ্গীকার। সেই দৃঢ় প্রত্যয়ে, হার না মানা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার মধ্যে দিয়ে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে মূল স্তম্ভের অগ্রভাগে উদিত হয়েছে টকটকে লাল সূর্য। লাল সূর্যকে বুকে নিয়ে মূল স্মৃতিস্তম্ভটি বহুকাল গেয়ে যাবে শহীদের বীরগাঁথা আর এ জাতির চির উন্নত মমশির।”