বাদারিয়ান সভ্যতা

৪৪০০-৪০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে প্রাচীন মিশরে এই সংস্কৃতিটি বিকাশ ঘটেছিল। মিশরের এল-বাদারি প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে বাদারিয়ান সভ্যতা।

এই সভ্যতার মানুষের মূল জীবিকা ছিল- কৃষি, মাছ ধরা এবং পশুপালন। কৃষিপণ্য হিসেব এরা গম, যব, মসুর ইত্যাদির চাষাবাদ করতো। এসব পণ্য সংরক্ষণের জন্য এরা শস্যভাণ্ডার তৈরি করেছিল। এরা গরু, ভেড়া ও ছাগল কুকুর পালন করত। এরা মৃত গৃহপালিত পশুদের আনুষ্ঠানিক সমাধি দেওয়া হয়। এরা এসবের পাশাপশি শিকার করতো। শিকারী পশুর তালিকায় মূলত ছিল গজেল। শিকারের সময় অস্ত্র হিসেবে তীরধনুক, বর্ষা ইত্যাদির সাথে বুমেরাং ব্যবহার করত। নীল নদ থেকে মাছ ধরত এবং গজেল শিকার করত । মৎস শিকারের একমাত্র ক্ষেত্র ছিল নীল নদী।

প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত অনুসারে ধারণা করা হয়, এরা পাকাবাড়ি অর্থাৎ অট্টালিকা তৈরি করতে পারতো না।  এরা ঘরের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতো কাছের কাণ্ড। এসব ঘরের ছাদে কি ব্যবহার করতো তা জানা যায় নি।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০০-৩৮০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের ভিতরে কবরে পাওয়া পাত্র
 

এরা মৃতদের খাগড়ার চাটাই বা পশুর চামড়া দিয়ে মুড়িয়ে গর্তে কবর দিত। এরা পশ্চিম দিককে মৃতদের দেশ ভাবতো। তাই মৃতের মাথা দক্ষিণে রেখে পশ্চিম দিকে মুখ ঘুরিয়ে কবর দেওয়া হতো। এসব কবরে তার মৃতদের ব্যবহার্য দ্রব্যাদিও কবর দিত। কবরের প্রাপ্ত দ্রব্যাদি হিসেবে পাওয়া গেছে- হাতির দাঁতে খোদাই করা দ্রব্য, থেকে চকমকি পাথরের সরঞ্জাম, অ্যান্টিলোপ এবং জলহস্তির মতো প্রাণীর আকারের তাবিজ, ফুলদানি, গহনা, তামা, ব্যক্তিগত সাজসজ্জার উপকরণ

এদের মাথার খুলিগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে- অধিকাংশই ছিল ইউরোপী ও নিগ্রোদের মিশ্র প্রকৃতি্র। এই সময় শ্বেতাঙ্গ বা কালো বর্ণের মানুষের বিচারে বর্ণবৈষম্য ছিল না। ফলে শ্বেতাঙ্গ এবং নিগ্রোদের সংমিশ্রণে মিশ্র জাতির বিকাশ ঘটেছিল। ফলে সে সময়ের মিশরের মানুষকে কোনো বিশেষ জাতিসত্তার ভিতরে ফেলা যায় না।

   জলহস্তির আকারের ফুলদানি

কবরের প্রাপ্ত নারীমূর্তি

অলঙ্কার

সূত্র: