ভার্সাই চুক্তি
প্রথম
বিশ্বযুদ্ধের
পর জার্মানি
এবং তার বিরোধী
রাষ্ট্রসমূহের ভিতরে সম্পাদিত একটি চুক্তি। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে জুন,
ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীর ভার্সাই প্রাসাদের 'মিরর হল'-এ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে কার্যকরণের তারিখ ছিল ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দের
১০ই জানুয়ারি থেকে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, ১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে জার্মান
সরকার, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনকে একটি সাধারণ যুদ্ধবিরতির
আহ্বান জানায়। এরই প্রেক্ষাপটে উড্রো উইলসন চৌদ্দ দাবি দফা
(Fourteen
Points Speech) পেশ করেন।এই দফাগুলোকে বিবেচনা করে, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দের বসন্তকালে
প্যারিসে বসে, একটি শান্তি সম্মেলনে চুক্তির খসড়া করা হয়। খসড়ার মূল নকশা
করেছিলেন বৃটেনের ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের জর্জেস ক্ল্যামেনকু, যুক্তরাষ্ট্রের
উড্রো উইলসন এবং ইতালির ভিটোরিও অরল্যান্ডো। এই নকশার সময় পরাজিত জাতি সদস্য এবং
অন্যান্য মিত্রশক্তির সহযোগী রাষ্ট্রের সদস্য ছিলেন ন। ২৮ জুন তারিখেই এই চুক্তি
অনুমোদিত হয়। কিন্তু এতে উপস্থিত জার্মান প্রতিনিধিদল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু
তারপরেও চুক্তিটি কার্যকরী হয়। এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে
আখ্যায়িত করা হয় এবং মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহে সংঘটিত জীবন, অর্থ ও
অবকাঠামোগত সকল ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানিকে দায়ী করা হয়। এই চুক্তির উল্লেখযোগ্য
অংশগুলো হলো−
-
জার্মানির পশ্চিম দিকে অবস্থিত অ্যালসেইস ও লোরেইন অঞ্চল ফ্রান্স পাবে এবং
সারল্যান্ড অঞ্চলটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জাতিপুঞ্জের অধীনে বিবেচনাধীন
রাখা হবে।
-
জার্মানির পূর্বে অবস্থিত পশ্চিম প্রুশিয়ার নির্দিষ্ট অংশ পোল্যান্ড পাবে। এর
মধ্যে থাকবে পোসেন, বাল্টিক সাগরের একটি করিডোর এবং আপার সাইলেশিয়ার একটি অংশ
(গণভোটের মাধ্যমে)।
- জার্মানীর
উত্তরের তিনটি ছোট ছোট
এলাকা বেলজিয়ামের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু পরে স্ক্লেসভিগে
(Schleswig) একটি গণভোটের ফলাফলের সাপেক্ষে এই অঞ্চলের উত্তরাংশটিকে ডেনমার্ককে
দেওয়া হয়।
- ডানজিগ মুক্ত শহর হবে এবং বাল্টিক
সাগরের সাথে যোগাযোগরক্ষাকারী ডানজিগ করিডোর পোল্যান্ডের অধিকারে থাকবে।
'স্বাধীন ডানজিগ শহর' রক্ষণাবেক্ষণ করবে তৎকালীন জাতিপুঞ্জ।
-
ড্যানজিগকে একটি মুক্ত শহর ঘোষণা করা হবে। চীন, প্রশান্ত মহাসাগর এবং আফ্রিকায়
অবস্থিত সকল জার্মান কলোনিসমূহ বৃটেন, ফ্রান্স, জাপান এবং অন্যান্য মিত্রশক্তির
কুক্ষিগত হয়।
সূত্র :
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ভিক্তর
মাৎসুলেনকো।
প্রগতি
প্রকাশন।
মস্কো।১৯৮৭।