দেওঘর
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও তীর্থস্থান। এটি বর্তমানে দেওঘর জেলার সদর শহর। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রসিদ্ধ শৈবতীর্থ বৈদ্যনাথধাম এখানে অবস্থিত। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি দেওঘর ঔপনিবেশিক যুগে স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিল।

দেওঘর ' নামটি সাধারণভাবে ' দেব’ + ' ঘর ' , অর্থাৎ দেবতার ঘর - এই অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়। সংস্কৃত ' দেবগৃহ ' বা দেবতার আবাস থেকে নামটির উৎপত্তি হয়েছে বলে প্রচলিত মত রয়েছে। স্থানটি বৈদ্যনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘকাল ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগর হিসেবে বিকশিত হয়েছে। এর অন্য নাম - দেবঘর । বৈদ্যনাথ মন্দিরের সূত্রে এর অপর নাম বৈদ্যনাথধাম।

মূলত দেওঘরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা হলো বৈদ্যনাথ মন্দির। এটি শিবের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান হিসেবে হিন্দুদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। বৈদ্যনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে দেওঘরে প্রতিবছর বিশেষত শ্রাবণ মাসে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম হয়। গঙ্গাজল নিয়ে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা ব

ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক: অক্ষাংশ: ২৪ ২৯' উত্তর দ্রাঘিমাংশ: ৮৬ ৪২ ' পূর্ব

বাংলা সাহিত্য বিকাশে দেওঘর
ঔপনিবেশিক যুগে দেওঘর উনিশ ও বিশ শতকের প্রথম দিকে দেওঘর কেবল তীর্থস্থানই ছিল না; এটি একটি স্বাস্থ্যকর আবহাওয়ার স্থান হিসেবেও পরিচিত হয়ে ওঠে। তুলনামূলক শুষ্ক ও মনোরম জলবায়ুর কারণে কলকাতা ও বাংলার অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেক শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবার এখানে কিছুদিনের জন্য অবস্থান করত। এই সময় দেওঘরে বিভিন্ন স্যানেটোরিয়াম, স্বাস্থ্যনিবাস ও ব্যক্তিগত আবাস গড়ে উঠেছিল। ফলে সাহিত্যিক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংস্কৃতিমনস্ক ব্যক্তিদেরও এখানে বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়।

ঊনবিংশ শতকের শেষভাগ ও বিংশ শতকের প্রথমভাগে দেওঘর বাংলার শিক্ষিত সমাজের কাছে পরিচিত একটি স্বাস্থ্যনিবাসে পরিণত হয়েছিল। রাজনারায়ণ বসু ও বসু পরিবারের সঙ্গে দেওঘরের সম্পর্কের কারণে স্থানটি বাংলা নবজাগরণের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গেও যুক্ত হয়। এই কারণে দেওঘরকে শুধু ধর্মীয় তীর্থস্থান হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। ধর্ম, স্বাস্থ্যনিবাস, শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চা—এই চারটি ধারার সংযোগ দেওঘরের আধুনিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

নজরুলের জীবনপঞ্জিতে দেওঘর-পর্বটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ‘নবযুগ’-এর রাজনৈতিক কর্মব্যস্ততার মধ্যবর্তী একটি সাময়িক বিরতি। কলকাতার রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক পরিবেশ থেকে দূরে গিয়ে এখানে তিনি আবার সাহিত্য ও সৃষ্টিশীলতার দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পান। পরবর্তী সময়ে নজরুল-জীবনের সাহিত্যিক বিকাশ বোঝার ক্ষেত্রেও এই দেওঘর-অধ্যায়টি তাই উল্লেখযোগ্য।