লেবানন
এশিয়া মহাদেশের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের একটি ছোট ও পার্বত্য দেশ। এর সাধারণ নাম লেবানন। এর অর্থ সাদা। সাদা তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গের দেশ অর্থে এই নামটি গৃহীত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নাম প্রজাতন্ত্রী লেবানন (Republic of Lebanon) । স্থানীয় নাম : আল জুমহুরিয়া আল লুবেনিয়া, সংক্ষেপে লুবনান (Lubnan)

এর ভৌগলিক অবস্থান ৩৩ ডিগ্রি ৫০ মিনিট উত্তর এবং ৩৫ ডিগ্রি ৫০মিনিট পূর্ব। এর উত্তর এবং পশ্চিমে রয়েছ সিরিয়া, দক্ষিণে ইজরাইল এবং পূর্ব-প্রান্ত জুড়ে রয়েছে ভূমধ্যসাগর। এর সর্বমোট আয়তন ১০,৪৫২ বর্গকিলোমিটার (৪,০৩৫ বর্গ মাইল)। এর ভিতরে ১০২৩০ বর্গকিলোমিটার স্থলভূমি, অবশিষ্টাংশ সমুদ্র-উপকূলীয় জল-অঞ্চল। এর স্থল সীমান্ত ৪৫৪ কিলোমিটার। এর ভিতরে সিরিয়ার সাথে রয়েছে ৩৭৫ কিলোমিটার এবং ইজরাইলের সাথে রয়েছে ৭৯ কিলোমিটার। এর সামুদ্রিক সীমারেখা ২২৫ কিলোমিটার এবং উপকূল থেকে এর অধিকারভুক্ত জলসীমা হলো ১২ নটিকাল মাইল।

জনসংখ্যা : ১৯৭০ সালের হিসাব অনুসারে এর এর জনসংখ্যা ছিল ২১,২৬,৩২৫ জন। ২০০৬ সালের (আনুমানিক) জনসংখ্যা ৩৮,৭৪,০৫০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩৫৮জন/বর্গকিমি। মোটা জনসংখ্যার ০-১৪ বৎসর বয়সীর হার ২৬.৫% (পুরুষ ৫২৩, নারী ৫,০২,৩৭২), ১৫-৬৪ বৎসর বয়সীর হার ৬৬.৬% (পুরুষ ১,২৩,৫৯১, নারী ১৩,৪২,৫৪০), ৬৫-তদূর্ধ্ব ৭% (পুরুষ ১,২২,১৫৫, নারী ১,৪৭,৮৪৮)। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২৩%, জন্মহার : ১৮.৫২/১,০০০। মৃত্যুহার : ৬.২১/১,০০০।

জাতিসত্ত্বা ও ধর্ম : জনসংখ্যার ৯৫% আরব বংশোদ্ভূত, ৪% আর্মেনিয়ান, বাকি ১%। ইসলাম ৫৯% (শিয়া, সুন্নি, দ্রুজ, ইসমাইলিয়া, আলউইত বা নুসাইরি), খ্রিস্টান ৩৯% (ম্যারিনাইট ক্যাথোলিক, গ্রিক অর্থোডক্স, মেলকাইট ক্যাথোলিক, আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স, সিরিয়ান ক্যাথোলিক, আর্মেনিয়ান ক্যাথোলিক, সিরিয়ান অর্থোডক্স, রোমান ক্যাথোলিক, চ্যালডিন এ্যাসিরিয়ান, কপ্ট. প্রটেস্ট্যান্ট), অন্যান্য ১.৩%।

ভাষা: সরকারি ভাষা আরবি। এছাড়া ফরাসি, ইংরেজি, আর্মেনিয়ান ভাষা প্রচলিত আছে।
শিক্ষা: শিক্ষাহার ৮৭.৪% (পুরুষ ৯৩.১%, নারী ৮২.২%)।

প্রশাসন: রাজধানী বৈরুত। পুরো দেশ ৮টি মোহাফেজাহ-এ বিভাজিত। এগুলো হলো- আক্কার, বালবেক-হামেল, বেইরোউথ, বেকা, লিবান-নর্ড, লিবান-সুড, মন্ট-লিবান ও নাবাতিয়ে।

মুদ্রা: লেবানিজ পাউন্ড। ২০০৫ সালে মুদ্রা বিনিময় হার ছিল- ১ ডলার= ১,৫০৭ লেবানিজ পাউন্ড।

আমদানি-রফতানি : আমদানিরপরিমাণ প্রায় ৮.৮৫৫ বিলিয়ন ডলার। আমদানীকৃত পণ্যগুলো হলো- পেট্রোলিয়াম জাত দ্রব্য, গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কাপড়, মাংশ এবং গবাদি পশু, কাগজ, তামাক ইত্যাদি। বাৎসরিক রফতানীর পরিমাণ ১,৭৮২ বিলিয়ন ডলার। রফতানী পণ্যগুলো হলো- অলঙ্কার, অজৈব রাসায়ণিক দ্রব্য, ফল, তামাক, নির্মাণ সামগ্রী, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।

কৃষি পণ্য: আঙুর, টম্যাটো, আপেল, শাকশব্জী, আলু, জলপাই, তামাক, ভেড়া, ছাগল।

শিল্প কারখানা: খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, অলঙ্কার, সিমেন্ট, কাপড়, খনিজ ও রাসায়নিক সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, তৈল শোধনাগার ইত্যাদি।

বিদ্যুৎ উৎপাদন: ২০০৩ সালের হিসাব অনুসারে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ বাৎসরিক ১০.৬৭ বিলিয়ন কিলোওয়াট। বাৎসরিক আমদানীকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ৭৫০ মিলিয়ন কিলোওয়াট।

প্রাকৃতিক সম্পদ: চুনাপাথর, লৌহ আকরিক, লবণ।

যোগাযোগ: সড়ক পথ ৭,৩০০ কিলোমিটার। রেলপথ : ৪০১ কিলোমিটার। এর ভিতরে ১.৪৩৫ মিটার প্রশস্ত পথ ৩১৯ কিলোমটার, এবং ন্যারো গেজ (১.০৫০ মিটার) ৮২ কিলোমিটার। ২০০৫ সালের হিসাব অনুসারে বিমান বন্দর সংখ্যা ৭টি। সমুদ্রবন্দর: বৈরুত, চেক্কা, জৌনিয়ে এবং ত্রিপোলি।

২০০৪ সাল পর্যন্ত লাইন টেলিফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬,৩০,০০০ জন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮,৮৮,০০০ জন। লেবাননের দেশ-সঙ্কেত ৯৬১। ১৯৯৮ সাল থেকে লেবাননে চালু রয়েছে এম ২০, এফএম ২২ এবং শর্টওয়েভ ৪টি বেতারকেন্দ্র। এ ছাড়া রয়েছ ১৫টি টেলিভিশন কেন্দ্র ও ৫টি রিলে স্টেশন। ইন্টারনেট সঙ্কেত lb। ইন্টারনেট হোস্ট : ৩,৩৬৫ (২০০৫), ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৬,০০,০০০ (২০০৫)।

সামরিক শক্তি : লেবাননের নিয়মিত বাহিনীর নাম –লেবানিজ আর্মড ফোর্স। ১৮-৩০ বৎসর বয়সের মধ্যে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। ২০০৫ সালের হিসাব মতো নিময়িত সেনাবাহিনীতে পুরুষের সংখ্যা প্রায় ৯,৭৪,৬৩৬ জন এবং মহিলার সংখ্যা প্রায় ৮,৬৫,৭৭০ জন।

লেবাননের ইতিহাস
প্রাচীন কাল থেকেই সিরিয়া ও লেবানন একটি অখণ্ড অঞ্চল হিসাবেই স্বীকৃত ছিল। মানব সভ্যতার আদি স্তরে হিটাইট এবং আরামীয়রা এই অঞ্চলে একটি সভ্যতার পত্তন করেছিল। পরবর্তীকালে এই সভ্যতাকে ফোনেশিয়া সভ্যতা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। লেবাননের আদি বাসিন্দারা ফোনেশিয়ান নামে পরিচিত ছিল। আলেকজান্ডারের মধ্যপ্রাচ্য অভিযানের সময় ফোনিশয়ো রাজত্বের অবসান হয়। গ্রিক আধিপত্যের অবসান হলে- এই অঞ্চল ক্রমান্বয়ে রোমান, বাইজেন্টাইনদের অধিকারে আসে। সপ্তম শতাব্দীতে আরবরা এই অঞ্চল অধিকার করে। এই সময় এর সিরিয়া অঞ্চলে ইসলাম ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও লেবানন অংশে খ্রিস্টানদের একটি বিশাল অংশ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাই। পরবর্তী ক্রুসেড যুদ্ধের সময় লেবাননের খ্রিস্টানরা ক্রুসেডদের সাহায্য করে। এরপর এই অঞ্চল অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। পরবর্তী প্রায় ৪০০ বৎসর এই অঞ্চল অটোমান সাম্রাজ্যেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লীগ্ অব নেশানস-এর ম্যান্ডেট অনুসারে এই অঞ্চল ফ্রান্সের তত্ত্বাবধানে চলে যায়। ১৯২৬ সালে ফ্রান্সের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থাতেই লেবাননে প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হয়। এই ঘোষণার পরও স্থানীয় জনসাধারণ পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে থাকে। এরপর ১৯৩৬ সালের এক চুক্তিতে ফ্রান্স এই অঞ্চলের পূর্ণ-স্বাধীনতার অনুমোদন দেয় এবং পূর্ণ-স্বাধীনতার সময় নির্ধারণে সময় হিসাবে ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দকে ধরা হয়। কিন্তু ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব অস্থিরতার কারণে, এই অঞ্চলের পূর্ণ-স্বাধীনতা দেওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চত হয়ে পড়ে। ১৯৪১ সালের জুন-জুলাই মাসের ভিতর ব্রিটিশ-ফ্রান্স বাহিনী এই অঞ্চল দখল করে। এই সময় ১৯৪৩ সালে জার্মানি ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ড দখল করে নেয়। তারপরেও ফ্রান্সের প্রবাসী সরকার এই অঞ্চল বিভাজিত করে সিরিয়া ও লেবানন নামে দুটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। খ্রিস্টান এবং মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য- একটি অলিখিত চুক্তি হয় ১৯৪৩ সালে। এই চুক্তি অনুসারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট হবে একজন খ্রিস্টান এবং প্রধান মন্ত্রী হবে একজন মুসলমান। এই অঞ্চল জার্মানি দখল করার উদ্দেশ্য, মিশর এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চল দখল করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চল মিত্রবাহিনীর অধীনেই থেকে যায়। ১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারিতে কার্যত লেবানন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ঐ বৎসরেই লেবানন রাষ্ট্রসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। যুদ্ধ শেষে ফরাসি সৈন্যদের শেষ দল এই অঞ্চল ত্যাগ করে ১৯৪৬ সালে।

১৯৪৭ সালে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর রিয়াদ সোলহ (Riad Solh), প্যালেস্টাইন বিভাজনের বিরোধিতা করে এবং আরব লিবারেশন আর্মি সৃষ্টিতে মদদ যোগায়। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে-তে লেবাননের সেনাবাহিনী প্যালেস্টাইন সীমান্ত অতিক্রম করে, নবগঠিত ইজরাইল আক্রমণ করে। কিন্তু শেষ-পর্যন্ত এই আক্রমণ ব্যর্থ হয়। ১৯৪৮ সালের ৩১ মে আরব লিবারেশন আর্মি ইজরাইল বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে লেবাননে ফিরে আসে। এরপর ১,১০,০০০ প্যালেস্টাইন ইজরাইল থেকে বিতারিত হয়ে শরনার্থী হিসাবে লেবাননে আশ্রয় গ্রহণ করে।

১৯৫২ সালে কামীলুঁ শামুঁ লেবাননের প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৫৮ সালে লেবানন আইজেন হাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করে। এই কারণে শামুঁ বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা দাঙ্গায় রূপ লাভ করে। পরে দাঙ্গা প্রতিরোধের জন্য শামুঁ যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য আহ্বান করে। এরপর লেবাননের প্রেসিডেন্ট হন জেনারেল ফুয়াদ শিহাব (ম্যারিনাইট খ্রিস্টান) এবং বিদ্রোহী মুসলিম নেতা রশীদ কারমাহ প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৫৮ সালের শরতকালে রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবানুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য লেবানন ত্যাগ করে। ১৯৬১ সালে সিরিয়া আরবলীগ থেকে বেরিয়ে আসে। এই সূত্রে লেবাননে পাশ্চাত্য সমর্থক ও প্যান-আরব সমর্থকদের মধ্যে সঙ্ঘাতের সৃষ্টি হয়। প্যান-আরব সমর্থকদের এই বিদ্রোহের পিছনে যে গোপন ইচ্ছা কাজ করেছিল তা হলো- সিরিয়া, লেবানন, জর্দান ও ইরাককে একত্রিত করে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র গঠন করা হবে।। ১৯৬২ সালে লেবাননে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা হলে, ফুয়াদ শিহাব তা দমন করতে সক্ষম হন।

১৯৬৪ সালে-এ শার্ল হলোউ লেবাননের প্রসিডেন্ট হন। ১৯৬৭ সালে আরব ইজরাইলের মধ্যে দ্বিতীয়বার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে লেবানন আরবদের সমর্থন করলেও, প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নাই। ১৯৭৫-৭৬ সালে লেবাননে ব্যাপক গৃ্হযুদ্ধের সূচনা হয়। ১৯৭৬ সালের জুন মাসে দাঙ্গা দমনের জন্য সিরিয়া ৪০,০০০ সৈন্য পাঠায়। লেবানন ও সিরিয়া বাহিনী সম্মিলিতভাবে প্যালেস্টাইন যোদ্ধাদের দক্ষিণ লেবাননের দিকে পাঠিয়ে দেয়।

দক্ষিণ লেবানন থেকে প্যালেস্টাইন যোদ্ধারা ইজরাইলের উপর খণ্ড খণ্ড আক্রমণ শুরু করলে, ১৯৭৮ সালের ১৪ মার্চ তারিখে ইজরাইল ডিফেন্স ফোর্স (IDF) দক্ষিণ লেবানন আক্রমণ করে। পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধ থেমে যায়। এরপর ইজরাইলের উপর প্যালেস্টাইন যোদ্ধাদের (পিএলও) বিক্ষিপ্ত আক্রমণ চলতেই থাকলে, ১৯৮২ সালের ৬ জুন তারিখে পুনরায় ইজরাইল লেবানন আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে লেবাননের নিয়মিত বাহিনী ছাড়াও শিয়া মতাবলম্বী হিজবুল্লাহ নামক সংগঠন প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। এই যুদ্ধে ইজরাইল দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে। পরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতি হয় এবং ১৯৮২ সালের ২৬ জুন তারিখে ইজরাইলের সেনাবাহিনী লেবানন ত্যাগ করে। ঐ বৎসরের ১৩ জুলাই তারিখে ইজরাইল ও লেবাননের ভিতরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

লেবানন থেকে প্যালেস্টাইন বাহিনী বহিষ্কারের বিষয় পর্যবেক্ষণের জন্য ১৯২০ সালের ২০ আগষ্ট তারিখে বহুজাতিক সেনাবাহিনী বৈরুতে অবতরণ করে। এই সময় প্যালাইস্টান যোদ্ধারা বিক্ষিপ্তভাবে মার্কিন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ চালায়। [অসমাপ্ত]