আজটেক সভ্যতা
দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
১৪২৫ থেকে ১৫২১ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে বর্তমান
মেক্সিকো
অঞ্চলে আজটেক জাতি এই সভ্যতা গড়ে
তুলেছিল ।
পশ্চিমে মেক্সিকো উপত্যকা থেকে পূর্বে মেক্সিকো উপসাগর এবং দক্ষিণে বর্তমান
গুয়াতেমালা পর্যন্ত প্রসারিত আজটেক সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল ১৫২১ খ্রিষ্টাব্দে
স্প্যানিশদের দ্বারা।
আজটেক জাতি বলতে বুঝায় মেক্সিকোর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলোর
সাধারণ নাম। আমেরিকার অন্যান্য জাতির লোকদের মতই, এই
জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বেরিং প্রণালী পার হয়ে এশিয়া থেকে, আমেরিকা
মহাদেশে পা রেখেছিল। কালক্রমে নানাভাগে বিভক্ত হয়ে, এরা আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন
স্থানে বসতি স্থাপন করে। মেক্সিকোর উর্বর মাটির কারণে এখানে আগত মানুষ কৃষিকাজে
আকৃষ্ট হয়।
ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টীয় ১০০ থেকে ৫০০ খ্রিষ্টাব্দের ভিতরে মেক্সিকোতে
আগত নাহুয়া বা টোটোনাক জনগোষ্ঠী কৃষিভিত্তিক
সাম্রাজ্যের পত্তন ঘটিয়েছিল। এই জাতির লোকেরা টিওটিহুকান
(Teotihuacán) নামক
নগরকে কেন্দ্র করে সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ৩০ মাইল উত্তর-পূর্ব দিকে এই শহরের অবস্থান
ছিল। ৪০০ খ্রিষ্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে সমৃদ্ধির চূড়ায় পৌঁছায়।
ধারণা করা হয়, এই নগরীর আয়তন ছিল প্রায় ৮ বর্গমাইল। এর লোক সংখ্যা ছিল প্রায় ১
লক্ষ থেকে ২ লক্ষ। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে এই নগরীকে ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী নগর হিসেবে
মনোনীত করেছে। নগরে প্রায় ২০০০ একতলা বাসযোগ্য ভবন ছিল। এছাড়া
ছিল অভিজাত ও পুরোহিদের প্রাসদ এবং খালযুক্ত নদী। শহরের ভিতরে অভিজাত এলাকার সাথে
ছিল ১৩০ ফুট (৪০ মিটার) প্রশস্ত রাস্তা। তবে টিওটিহুয়াকান শহরের
উল্লেখযোগ্য স্থাপনা
হিসেবে উল্লেখ করা হয় 'পিরামিড অব দ্য সান' ও
'পিরামিড অব দ্য মুন'। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, পিরামিড অব দ্য সান
ছিল সূর্যদেবতার উপাসনালায়। অন্যদিকে পিরামিড অব দ্য মুন-
ছিল ধর্মীয় কারণে পশু ও নরবলি হতো।
প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের সূত্রে এই পিরামিডের নিচে পাওয়া
গেছে- ইগল, নেকড়ে, বনবিড়ালের পাশাপাশি ১২টি মানবদেহ পান। ওই ১২টি দেহের মধ্যে ১০টির মাথা ধড় থেকে আলাদা ছিল।
চাঁদের পিরামিড (পিরামিড অব দ্য মুন)
এই পিরামিডের উচ্চতা ১৪০ ফুট (৪৩ মিটার)। এর ভিত্তিস্থান ছিল ৪২৬×৫১১ ফুট
(১৩০×১৫৬ মিটার)। এর প্রধান সিঁড়িটি ছিল অ্যাভিনিউ অফ দ্য ডেডের মুখোমুখি। রাস্তার দক্ষিণ অংশ বরাবর অবস্থিত
Ciudadela ("সিটাডেল"),
৩৮ একর (১৫ হেক্টর) জুড়ে একটি বড় বর্গাকার উঠোন।
দুর্গের মধ্যে মন্দিরটি দাঁড়িয়ে আছে একটি কাটা পিরামিড আকারে
Quetzalcóatl (পাখাযুক্ত সর্প)। এর
অলঙ্কৃত দেয়ালে রয়েছে দেবতাদের অসংখ্য পাথরের মাথা। মন্দিরের দেয়ালচিত্র একসময় হেমাটাইট লাল রঙে আঁকা হত।
ধারণা দুর্গটির খনন প্রথম 1917-20 সময়কালে করা হয়েছিল। 1925 সালে মন্দিরের আশেপাশে পৃথক কবরস্থান পাওয়া যায় এবং 1980 এর দশকের প্রথম দিকে প্রত্নতাত্ত্বিকরা 18 জন পুরুষের আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধিস্থ করা দেহাবশেষ আবিষ্কার করেন, সম্ভবত সৈনিকদের যারা আনুষ্ঠানিকভাবে বলি দেওয়া হয়েছিল। কার্বন -14 ডেটিং ইঙ্গিত দেয় যে কবরগুলি প্রায় 200 CE প্রস্তুত করা হয়েছিল । আরও কাজ মন্দিরের প্রান্ত বরাবর গণকবরে এবং এর নীচে উভয় লিঙ্গের 130 টিরও বেশি কঙ্কাল প্রকাশ করেছে।
সূর্যের পিরামিড পশ্চিম গোলার্ধে তার ধরণের বৃহত্তম কাঠামোগুলির মধ্যে একটি । এটি অ্যাভিনিউ অফ দ্য ডেডের পূর্ব দিক থেকে কেন্দ্রীয় শহরে আধিপত্য বিস্তার করে। পিরামিডটি স্থল স্তর থেকে 216 ফুট (66 মিটার) উপরে উঠে এবং এটি তার গোড়ায় প্রায় 720 বাই 760 ফুট (220 বাই 230 মিটার) পরিমাপ করে। এটি প্রায় 1,000,000 ঘন গজ (765,000 কিউবিক মিটার) উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে হেউড টেজন্টল , এই অঞ্চলের একটি লাল মোটা আগ্নেয় শিলা । 1905-10 সালে তড়িঘড়ি সংগঠিত পুনরুদ্ধার কাজের সময়, স্থপতি লিওপোল্ডো বাট্রেস নির্বিচারে কাঠামোতে একটি পঞ্চম সোপান স্তর যুক্ত করেছিলেন এবং এর অনেকগুলি মূল মুখী পাথর সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। 1970 এর দশকের গোড়ার দিকে পিরামিডের নীচে অনুসন্ধানে গুহা এবং টানেল চেম্বারগুলির একটি সিস্টেম প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তী বছরগুলিতে শহর জুড়ে অন্যান্য সুড়ঙ্গগুলি প্রকাশ করা হয়েছিল, এবং এটি পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল যে টিওটিহুয়াকানের বেশিরভাগ বিল্ডিং পাথর সেখানে খনন করা হয়েছিল।
শহরটি প্রাথমিকভাবে 1884 সালে খনন করা হয়েছিল। 1960 এবং 70 এর দশকে প্রথম পদ্ধতিগত জরিপ (টিওটিহুয়াকান ম্যাপিং প্রকল্প) আমেরিকান প্রত্নতাত্ত্বিক রেনে মিলনের নেতৃত্বে হয়েছিল এবং 1980-82 সালে শত শত শ্রমিক মেক্সিকান প্রত্নতত্ত্ববিদ রুবেনের নির্দেশে খনন করেছিলেন। ক্যাব্রেরা কাস্ত্রো। 1990-এর দশকে শহরের ভূগর্ভস্থ টানেল এবং অ্যাপার্টমেন্টের যৌগগুলির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয়েছিল, যেগুলি স্পষ্টভাবে আঁকা ম্যুরাল দিয়ে সজ্জিত ছিল। ধ্বংসাবশেষের বৃহত্তর এলাকার জন্য দীর্ঘস্থায়ী হুমকি মানব বাসস্থান (পাঁচটি শহর সহ), অসংখ্য দোকান, রাস্তা ও মহাসড়ক এবং একটি সামরিক ঘাঁটি দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। 20 শতকের শেষের দিকে খনন করা অনেক এলাকা আগে কৃষকদের দ্বারা চাষ করা হয়েছিল। প্রাক-কলম্বিয়ান সভ্যতাগুলিও
তেওটিহুয়াকানোদের উৎপত্তি এবং ভাষা সম্পর্কে কিছু জানা যায়
নি। এই নগরের দূরবর্তী অঞ্চলের বাণিজ্য ছিল। এই
কারণে শহরে প্রচুর বণিকের আনাগোণা ছিল। সম্ভবত শহুরে জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ আশেপাশের ক্ষেতে চাষের সাথে জড়িত ছিল। অন্যরা
মাটি, আগ্নেয়গিরি থেকে প্রাপ্ত উপকরণ দিয়ে অস্ত্র গো অন্যান্য
সরঞ্জাম তৈরি করতো। এই নগরের পুরোহিত এবং শাসকরা বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান
করতো। কোনো অনুষ্ঠানের নরবলি
সেওয়া হতো।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন, ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের
দিকে টিওটিহুয়াকান শহরের কেন্দ্রস্থল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সম্ভবত
বহিরাগত শত্রুরা এই কাজটি করেছিল।
এরপর শহরটি পরিত্যক্ত হয়েছিল।
৬০০ খ্রিষ্টাব্দের পরে মেক্সিকোর
উত্তরাঞ্চল থেকে আগত টলটেক (Toltec)
জাতির লোকেরা মধ্য লোকেরা মধ্যhi">জাতির লোকেরা মধ্য-মেক্সিকোতে
আসা শুরু করে। এদের ভাষর নাম নাহুয়াটল। টলটেক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং
টিওটিহুকানদের শাসকদের দুর্বলতার সুযোগে একসময় এই অঞ্চলের শাসক হয়ে যায় টলটেকরা।
খ্রিষ্টীয় দশম এরা দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চলে নতুন সভ্যতার পত্তন ঘটায়।
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে স্থানীয় নাহুৎল
(Nahuatl) ভাষার কিছু মানুষ মধ্য
মেক্সিকো টেনোচতিৎলান (Tenochtitlán)
নামক স্থানে এসে বসবাস শুরু করে।
কথিত আছে, নাহুৎল ভাষাভাষীর একটি বড় দল
মেক্সিকো উপত্যকায় প্রবেশের পর, একটি স্থানে একটি ক্যাকটাসের উপর ঈগলের নখরবন্দি
অবস্থায় একটি সাপ দেখতে পায়। নাহুৎল পুরোহিতরা ওই স্থানে বসতিস্থানের জন্য
নির্বাচন করে। ধীরে ধীরে নাহুৎলদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে একটি ক্ষুদ্র আস্তানা
গ্রামে পরিণত হয়। এখানে সুযোগ্য নেতৃত্বের দ্বারা এরা একটি নগরকেন্দ্রিক সভ্যতার
পত্তন ঘটায়। আশপাশের অন্য জাতের লোকদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সেনাবাহিনী
তৈরি করে। ফলে টেনোচতিৎলান-কেন্দ্রিক একটি রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। এই সময় থেকে এদের
জাতীয় প্রতীক হয় সাপ ও ঈগল।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আশপাশের অঞ্চলের উপর টলটেকরা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা
করলে, আশপাশের জাতিগুলো টলটেকদের উপর সম্মিলিত আক্রমণ করে। এই আক্রমণে
নাহুৎলারা নেতৃত্ব দিয়েছিল। টলটেকরা এই
আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে,
নাহুৎলরা মধ্য মেক্সিকোতে শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে নাহুতলরাই
আজটেক সভ্যতা গড়ে তোলে।
১৪২৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত আজটেক সাম্রাজ্য ছিল
তিনটি নগর-রাষ্ট্রের একটি মৈত্রীসংঘ। এই
রাষ্ট্রগুলো ছিল- তেনোচতিৎলান, তেশকোকো ও তেলাকোপান।
কালক্রমে আজটেকদের রাজধানী টেনোচতিৎলান মধ্য মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় বাণিজ্যে-কেন্দ্রে
পরিণত হয়। ঐতিহাসকরা মনে করেন, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ টেনোচতিৎলান শহরে বসবাস
করতো।
১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানিশ হার্নান কোর্টেস
প্রায় ৫০০ জনের এক স্প্যানিশ বাহিনী নিয়ে স্বর্ণের সন্ধানে এ অঞ্চলে এসে পৌছায়।
এরপর আজটেকদের রাজধানী টেনোচতিৎলান দখলের উদ্যোগ নেয়। এই সময় আজটেকদের অন্যতম
প্রতিদ্বন্দ্বী জাতি ছিল ট্লাক্সালান। আজটেকদের পদানত করার জন্য, স্প্যানিশদের সাথে
ট্লাক্সালান আঁতাত করে। এই সময় ৪০০০ ট্লাক্সালান যোদ্ধা স্প্যানিশ বাহিনীর সাথে যোগ
দেয়। আজটেক বাহিনীর তুলনায় এ সংখ্যা ছিল নগণ্য। তাই ১৫১৯ খ্রিষ্টাব্দের ৮ই
নভেম্বর আজটেকদের সম্রাট দ্বিতীয় মন্টেজুমা স্প্যানিশদের আক্রমণ না করে, অনুপ্রবেশ
করার সুযোগ দেয়। এই অঞ্চলে স্বর্ণের সন্ধান পায় এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ স্পেনে
পাঠানো শুরু করে। এত কিছুর পরে, হার্নান কোর্টেস শঙ্কিত ছিল এই ভেবে যে, আজটেকরা
সুযোগ বুঝে তাদের বিতারিত করতে পারে। স্প্যানিশ নেতা আজটেক সম্রাট দ্বিতীয়
মন্টেজুমাকে গ্রেফতার করে এবং স্প্যানিশ রাজার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য করে। এর
প্রায় ছয় মাস পর, এক ধর্মীয় সমাবেশে ২০০ জন গুরুত্বপূর্ণ আজটেক ব্যক্তিকে হত্যা
করা হয়। ফলশ্রুতিতে আজটেক সৈন্যবাহিনী স্প্যানিশদের টেনোচতিৎলান শহর থেকে বের করে
দেয়ার জন্য লড়াই শুরু করে। তারা শহরের সেতুগুলো ধ্বংস করে ও স্প্যানিশদের
বিতাড়িত করে হ্রদের দিকে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত স্বর্ণের ভারে স্প্যানিশ বাহিনীর
প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লোক পানিতে ডুবে মারা যায় ।
এরপর হার্নান কোর্টেস পালিয়ে যায় এবং বিপুল পরিমাণে আদিবাসীদের একত্রিত করে আক্রমণ
করে। ধাতব অস্ত্র ও গোলাবারুদে সমৃদ্ধ সম্মিলিত বাহিনীর সাথে যুদ্ধে আজটেকরা পরাজিত
হয়। এরপর স্প্যানিশরা পুরো সাম্রাজ্য দখল করে নেয়। এর ভিতর দিয়ে আজটেক সভ্যতা
ধ্বংস হয়ে যায়। টেনোচতিৎলান শহরের ধ্বংসাবশেষের উপরে স্প্যানিশরা মেক্সিকো সিটি
তৈরি করে। উল্লেখ্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভবন মন্টেজুমার প্রাসাদের উপরই তৈরি
হয়েছে।
আজটেকের অর্থনীতি
আজটেক সাম্রাজ্য ছিল কৃষিপ্রধান। আজটেকরা বসবাস করতো মেক্সিকো উপত্যকার পাঁচটি
হ্রদের সংযোগস্থলে। এই অঞ্চল চাষের জন্য উর্বর হলেও যথেষ্ট পরিমাণ জমি এখানে ছিল
না। তাই তারা পাহাড়ের পাহাড়ের ঢাল কেটে সেখানে চাষাবাদ শুরু করে। এদের সবচেয়ে বড়
কৌশল ছিল ভাসমান কৃত্রিম দ্বীপ। তারা খাগড়া বুঁনে বিশাল আস্তরণ তৈরি করে ও তার উপর
মাটি স্তূপ করে এ কৃত্রিম দ্বীপ বানাতো। পরে এগুলো তারা হ্রদের পানিতে ছেড়ে দিত। এ
কৃত্রিম দ্বীপে তারা শস্য, শাক-সবজি ইত্যাদি চাষ করতো প্রায় সার বছর ধরে।
এই কারণে এদের ধর্মের প্রধান দেবতা ছিল ভূমি,
বৃষ্টি ও সূর্য। এরা এই দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য মানুষ বলি দিত। তারা বিশ্বাস
ছিল সূর্যকে প্রতিদিন সন্তুষ্ট করতে না পারলে, সূর্য পরের দিন আর সূর্য উঠবে না।
সাধারণত এদের পুরোহিত বা রাজশক্তির দ্বারা শনাক্তকৃত অপরাধীদের বলি দেওয়া হতো। এই
বলির জন্য কোনো রাজ-কশাই ছিল না। মূলত আজটেক যাজকরাই একাজ সম্পন্ন করত।
কৃষিকাজের বাইরে মেয়েরা তুলা থেকে সূতা এবং
সূতা দিয়ে তারা কাপড় তৈরি করতো। তারা কাপড়ে রঙ করে ও সেলাই করে বিভিন্ন নকশা
অঙ্কন করত। এছাড়া আজটেকরা আগুনে পুড়িয়ে বিভিন্ন ধরণের মাটির পাত্রও তৈরি করতে
পারত। পাত্রগুলো সাদা বা লাল রঙের হতো এবং এগুলোতে সাদা-কালো নকশা আঁকা হত।
আজটেকদের বাহন
আজটেকদের কোন চাকাযুক্ত বাহন ছিল না। ভার বহনের জন্য এরা কোনো জন্তু ব্যবহার
করতো না। স্থল পথে প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিজেরাই বহন করতো। স্থলপথে এরা ডিঙি নৌকা
ব্যবহার করতো। দস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, বড় ব্যবসায়ীদলের
সাথে সৈন্যবাহিনী থাকত। সাম্রাজ্যের বাইরে কোন কোন বণিক গুপ্তচর হিসেবেও কাজ করত।
আজটেকদের গণিত
এদের সংখ্যা ছিল ২০-ভিত্তিক। তবে এই সংখ্যা প্রকাশের জন্য ছিল বিশেষ বিশেষ ছবি।
একটি পতাকার ছবি দ্বারা কোন কিছুর পরিমাণ ২০টি বোঝানো হত, একটি দেবদারু গাছের ছবি
দ্বারা তার ২০ গুণ অর্থাৎ ৪০০ বোঝানো হতো। একটি থলের ছবি দ্বারা তারও ২০ গুণ অর্থাৎ
৮০০০ বোঝানো হত। এছাড়া এরা গণনার জন্য এরা ব্যবহার করতো-
এ্যাবাকাস।
আজটেক দিনপঞ্জি
আজটেক সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে আজটেক দিনপঞ্জি। এ দিনপঞ্জি ছিল একটি
সুবিশাল পাথরের উপর খোদাই করা। এর ভর ছিল ২২ মেট্রিক টন এবং ব্যাস ৩.৭ মিটার (১২
ফুট)। এ দিনপঞ্জি দিয়ে তারা পুরা মহাবিশ্বের প্রতীক হিসেবে চিন্তা করত, যার
কেন্দ্রে ছিল সূর্য। সূর্যের চারপাশে বিভিন্ন দিন ও বিভিন্ন স্বর্গ চক্রাকারে
সাজানো থাকতো।
তথ্যসূত্র: