সাতুবাবুর থিয়েটার
খ্রিষ্টীয় ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত একটি নাট্যমঞ্চ।

১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে জানুয়ারি সরস্বতী পূজা উপলক্ষে আশুতোষ দেবের (সাতু বাবু) বাড়িতে কালিদসের রচিত 'অভিজ্ঞান শকুন্তলা' মঞ্চস্থ হয়েছিল। এর বাংলা অনুবাদ করেছিলেন নন্দকুমার রায়। উল্লেখ্য সাতু বাবুর মৃত্যু হয়েছিল ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জানুয়ারি। তাঁর বাড়িতে স্থাপিত হয়েছিল জ্ঞানপ্রদায়িনী সভা। এই সভার সভ্যরা একটি নাট্য মঞ্চ তৈরি করার উদ্যোগ নেন। এই সূত্রে এই মঞ্চের উদ্ভব হয়েছিল। এই মঞ্চ তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছিলেন শরৎচন্দ্র ঘোষ, চারুচন্দ্র ঘোষ এবং সাতুবাবুর দুই নাতি

এই নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় যাঁরা করেছিলেন, তাঁ হলেন -শরৎচন্দ্র ঘোষ (শকুন্তলা), প্রিয়মাধব মল্লিক (দুষ্মন্ত), অন্নদা মুখোপাধ্যায় (দুর্বাসা), অবিনাশচন্দ্র ঘোষ (অনসূয়া), ভুবনচন্দ্র ঘোষ (প্রিয়ম্বদা), মহেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (ঋষিকুমার)। সস্টেজ ম্যানেজার ছিলেন উমেশচন্দ্র দত্ত। কবিচন্দ্র নামক এক কবি এই নাটকের জন্য গান রচনা করেছিলেন।

এই নাটকের দ্বিতীয় অভিনয় হয়েছিল ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি। এরপর এই মঞ্চে 'মহাশ্বেতা' নাটকটি অভিনীত হয়েছিল। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫ সেপ্টেম্বর অভিনীত হয়েছিল বাণভট্টের সংস্কৃত গ্রন্থ '‌কাদম্বরী' অবলম্বনে বাংলা নাটক। এই নাটকে অভিনয় করেছিলেন- অন্নদাপ্রসাদ (রাজা), ক্ষেত্রমোহন সিংহ (মহাশ্বেতা), মহেন্দ্রনাথ ঘোষ (কাদম্বরী), শরৎচন্দর বোস (তরলিকা), ভুবনমোহন ঘোষ (রানী), মহেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (ছত্রধারিণী), মণিমোহন সরকার (কপিঞ্জল), মহেন্দ্রনাথ মজুমদার (পুণ্ডরীক ও নটী)। ত্রুটিপূর্ণ সংলাপের জন্য নাটকটি দর্শককে খুশি করতে পারে নি।

এই নাট্যালয় বেশি স্থায়ী হয় নি। কারণ, উদ্যোক্তরা একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরির বিষয় বিশেষ আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। বিশেষ করে এই নাট্যশালার উদ্যোক্তা শরৎচন্দ্র ঘোষ, চারুচন্দ্র ঘোষ এবং সাতুবাবুর দুই নাতি বেঙ্গল থিয়েটার তৈরিতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।

সূত্র: