রাগাঙ্গ
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি পারভাষিক শব্দ।

আধুনিক মতে প্রতিটি রাগের রয়েছে স্বরগুচ্ছ্ এবং গায়নশৈলী। এর মধ্য দিয়ে প্রতিটি রাগের নিজস্ব রূপ ফুটে ওঠে। রাগ ভেদে এই বিশেষ রূপই হলো রাগাঙ্গ। এই বিশেষ রূপটির সাথে অন্যান্য স্বরগুলোর সাথে অন্যান্য স্বরের সংমিশ্রণে রাগের পূর্ণরূপ প্রকাশিত হয়।

বাস্তবে দেখা যায়- একটি রাগাঙ্গ একাধিক রাগে পাওয়া যায়। কিন্তু অন্যান্য স্বরের প্রয়োগ কৌশলের কারণে পৃথক পৃথক রাগের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় সমপ্রকৃতির রাগাঙ্গের রাগগুলোকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র অঙ্গ হিসেবে অভিহিত হয়। যেমন- ভৈরব অঙ্গ, কানাড়া অঙ্গ, বিলাবল অঙ্গ ইত্যাদি।

রাগাঙ্গ শব্দটি প্রথম পাওয়া যায়- মতঙ্গের রচিত বৃহদ্দেশী গ্রন্থে। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে রচিত এই গ্রন্থে রাগাঙ্গ শব্দটিকে বিশেষ অর্থে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে- গ্রামরাগের ছায়া অবলম্বনে যে সকল রাগের উৎপত্তি হয়েছে, তাদেরকে রাগাঙ্গ বলা হয়।

খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে শার্ঙ্গদেব তাঁর রচিত সঙ্গীতরত্নাকর গ্রন্থে- তাঁর পূর্ববর্তী সঙ্গীতজ্ঞদের মতের উদ্ধৃতি দিয়ে ৮টি রাগকে রাগাঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- শঙ্করাভরণ, ঘণ্টরব, হংসক, দীপক, রীতি কর্ণাটকী, লাটী ও পাঞ্চালী। একই সাথে তাঁর আমলে প্রসিদ্ধ ১৩টি রাগাঙ্গের রাগের নাম উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- মধ্যামাদি, মালবশ্রী, তোড়ী, বঙ্গাল, ভৈরবী, বরাটী, গুর্জরী, গৌড়, কোলাহল, বসন্তক (বসন্ত), ধন্যাসী, দেশী ও দেশাখ্যা।  প্রায় একই সময়ে নারদের রচিত সঙ্গীতমকরন্দঃ গ্রন্থে একই রকম এই তালিকাটি পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র: