বীরভদ্র

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি মতে ইনি ছিলেন মহাদেবের প্রিয় অনুচর সতী দক্ষযজ্ঞে পতিনিন্দা শুনে প্রাণত্যাগ করলে, মহাদেব ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে নিজের মুখ থেকে (মতান্তরে ক্রোধাগ্নি থেকে) বীরভদ্রের জন্মদান করেন। 

বীরভদ্রের মুখ ছিল অতি ভয়ংকর
, শরীর অগ্নিশিখায় ব্যাপ্ত, প্রকাণ্ড উদর ও দীর্ঘ দন্ত বায়ুপুরাণের বর্ণনায় বীরভদ্রের ছিল সহস্র মাথা, সহস্র চক্ষু ও সহস্র পা এর মাথা ছিল অর্ধ চন্দ্রশোভিত এবং এঁর চারদিকে অগ্নিশিখার মত তেজপুঞ্জ নির্গত হত পোশাক ছিল ব্যাঘ্রচর্ম এর হাতে ছিল বহু আয়ুধ, শূল, টঙ্ক ও গদা

বীরভদ্র অনুচরসহ দক্ষযজ্ঞে উপস্থিত হলে
, মহাকালীও বীরভদ্রের সাথে যোগ দেন বীরভদ্র তাঁর রোমকূপ থেকে রৌম্য নামক রুদ্রতুল্য অসংখ্য গণদেবতা সৃষ্টি করেন পরে তাদের সাথে নিয়ে ইনি যজ্ঞের সমস্ত উপকরণ চূর্ণ, উৎপাটন ও দগ্ধ করে সকলকে প্রহার করতে থাকেন এই সময় দক্ষের মস্তক ছিন্ন হয় ইনি দক্ষপত্মীদের প্রহার করেন এই সময় দেবতাদের প্রার্থনায় বিষ্ণু এসে বীরভদ্রকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করেন কিন্তু অকৃতকার্য হয়ে তাঁরা পালিয়ে যান অবশেষে ব্রহ্মা এসে বীরভদ্রের স্তুতি করে তাঁকে শান্ত করেন এরপর বীরভদ্র দেবতাদের সাথে করে মহাদেবের কাছে উপস্থিত হন বীরভদ্রের এইরূপ বীরত্ব ও প্রভুপরায়ণতায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব এঁকে নানাবিধ বর দান করেন