ডোমিনো তত্ত্ব
Domino Theory

সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব ও পুঁজিবাদী বিশ্বের শীতল যুদ্ধের সময়কার একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধারণা । এই নীতিটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতিতে ব্যবহৃত হয়েছে। এই তত্ত্ব অনুসারে যদি একটি দেশ সমাজাতান্ত্রিক ভাবধারার শাসনাধীনে চলে যায়- তাহলে তার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোও একের পর এক সমাজাতান্ত্রিক শাসনাধীনে চলে যাবে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে- ঠিক যেমন একটি ডোমিনো (খেলার গুটি) পড়লে পাশের গুটিগুলো সারিবদ্ধভাবে পড়ে যায়।

১৯৪০-এর দশকে এই তত্ত্বের প্রথম ধারণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস. ট্রুম্যান । তিনি গ্রিস ও তুরস্ককে সামরিক সাহায্য দেওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করে ছিলেন । কিন্তু এটি জনপ্রিয় হয় প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার-এর মাধ্যমে । ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৭ এপ্রিল একটি সাংবাদিক সম্মেলনে - তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (বিশেষ করে ইন্দোচীন বা ভিয়েতনাম) প্রসঙ্গে বলেন: যদি ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট হয়, তাহলে লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, বার্মা (মিয়ানমার), ইন্দোনেশিয়া এমনকি ভারত পর্যন্ত কমিউনিজম ছড়িয়ে পড়বে।

এই তত্ত্ব অনুসারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি এবং লিন্ডন বি. জনসন ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সৈন্য বাড়ানোর যুক্তি দেন। তারা বিশ্বাস করতেন যে, দক্ষিণ ভিয়েতনামকে কমিউনিস্ট উত্তর ভিয়েতনামের কাছে হারাতে দেওয়া হলে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কমিউনিস্ট হয়ে যাবে।

১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট হয়ে যাওয়ার পর লাওস এবং কম্বোডিয়াও কমিউনিস্ট শাসনে পড়ে, যা থিওরির কিছু সমর্থন দেয়। কিন্তু থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশ কমিউনিস্ট হয়নি। তাই অনেকে (যেমন পরবর্তীতে রবার্ট ম্যাকনামারা) বলেন যে এটি অতিসরলীকৃত এবং ভুল ছিল। সমালোচকরা বলেন, এটি স্থানীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে উপেক্ষা করে কমিউনিজমের ভয়কে অতিরঞ্জিত করেছে। কেউ কেউ (যেমন নোয়াম চমস্কি) বলেন যে কমিউনিস্ট শাসনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখে অন্য দেশে অনুপ্রেরণা জাগতে পারে।