রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।

১৮৪৭ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট (ভাদ্র, ১২৫৪) মাসে- রংপুরের কুণ্ডী পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের ‘আনুকূল্যে’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিল। বিভিন্ন গ্রন্থানুসারে অনুমান করা হয়, কালীচন্দ্র রায় প্রাথমিকভাবে সাহায্য করলেও পত্রিকাটির মালিক ছিলেন এর সম্পাদক গুরুচরণ রায়।

প্রায় চার বছর পত্রিকাটি প্রকাশের পর গুরুচরণ রায় পরলোক গমন করলে, নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়, 'রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ' এর স্বত্ব ক্রয় করেছিলেন। এ সম্পর্কে পাঠকদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, “এই পত্রের পূর্ব্ব সম্পাদক গুরুচরণ রায় গত ৩ ভাদ্র (১২৫৮) সোমবার দিবস পরলোকগমন করাতে তাঁহার বিধবা স্ত্রী, শ্রীযুক্তা ভাগরথী দেবী বার্ত্তাবহ যন্ত্রের তাবৎ বস্তু ও দেনা পাওনা ইত্যাদি সমুদয় আমার স্থানে বিক্রয় করেন...।”

পত্রিকাটি প্রতি মঙ্গলবার, ‘বার্ত্তাবহ যন্ত্রালয়’ থেকে প্রকাশিত হতো। পত্রিকার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারী নথিতে মন্তব্য করা হয়েছিল,
"a weekly paper of news and extracts" । এর প্রচার সংখ্যা ছিল একশো কপি এবং চাঁদার হার ছিল, বাৎসরিক ছয় রুপি (অগ্রিম দিলে চার রুপি)। প্রায় দশ বছর চলার পর ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে পত্রিকাটির প্রকাশ িত হয়েছিল। 'সংবাদ প্রভাকর' এ সম্পর্কে লিখেছিল, “শ্রাবণ ১২৬৪।..ছাপাযন্ত্রের স্বাধীনতা নাশক আইন প্রচার হইবার রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ পত্র উঠিয়া যায়।”

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুন গভর্নর লর্ড ক্যানিং-এর জারিকৃত  করেন ১৫ নং আইন। এই আইনটি ছিল মূলত  মুদ্রণ যন্ত্রের স্বাধীনতা নাশক। ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র :