আত্মতত্ত্ব
আত্ম (নিজ) বিষয়ক তত্ত্ব বা জ্ঞান। বাউল দর্শনের একটি অন্যতম বিষয়াঙ্গ।

নিজেকে জানার আগ্রহ যে সকল প্রশ্ন মনে জাগ্রত হয়ে ওঠে, তার উত্তর পাওয়ার সাধনাই হলো- আত্মতত্ত্বের সাধনা। এ সাধনার  মূলে থাকে প্রাথমিক কিছু জিজ্ঞাসা- আমি কে? আমার মূল সত্তা কে?  আমার উদ্ভব কোথায়, আমার গন্তব্য কি?

বাউল দর্শনে আত্মতত্ত্বের জিজ্ঞাসার মূলে রয়েছে আত্মা বা পরমাত্মা সম্বন্ধীয় জ্ঞান, মতবাদ বা দর্শন। এই দর্শনের মধ্য দিয়ে নিজের স্বরূপকে জানার চেষ্টা করা। মূলর পরম সত্যকে উপলব্ধি করার একটি গভীর আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার বিষয় হলো আত্মতত্ত্ব। এই তত্ত্বটি চারটি মুখ্য বিষয় অবলম্বনে বিকশিত হয়েছে। এগুলো হলো-

আত্মতত্ত্বে আত্মার ধারণা:

আত্মতত্ত্বে পরমাত্মার অবস্থান

আত্মতত্ত্বে গুরুর গুরুত্ব: বাউল তত্ত্বের সাধনা গুরু-নির্ভর। তাই বাউলদের এই দেহকেন্দ্রিক আধ্যাত্মিক সাধনা গুরু-নির্ভর। গুরুর কাছে দীক্ষা নিয়ে যোগ ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা দেহের ভেতরে থাকা 'মনের মানুষ'-এর সন্ধান করেন।

আত্মতত্ত্বে মোক্ষ লাভ: আত্ম-সাধনার মূল লক্ষ্য হলো মানবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন সাধন করা, যা বাউলতত্ত্বে 'নির্বাণ' বা 'মোক্ষ' বা 'মহামুক্তি' লাভ নামে পরিচিত।

আত্মতত্ত্ব ও অসাম্প্রদায়িকতা: যেহেতু সকল দেহেই পরমাত্মা বিরাজ করেন। তাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা আত্মতত্ত্বের গভীর উপলব্ধি থেকেই বাউল দর্শনে এসেছে। এই তত্ত্বে জাতভেদের স্থান নেই।