মাইজভাণ্ডারী তরিকা
সুফি দরশনের কাদেরিয়া তরিকা 'র একটি । এই দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার গ্রামের সৈয়দ আহমদুল্লাহ (১৮২৬-১৯০৬)। মাইজভাণ্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভাণ্ডারী। পরিণত বয়সে তিনি আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে স্থানীয় মানুষের কাছে স্বীকৃতি পান। তখন থেকে সম্মানার্থে তাঁর পরিচয় দেওয়া শুরু হয়-  'হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)'  নামে।

এই তরিকার মূল ভিত্তি হলো সাতটি ধাপ, যা আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে নফসের (আত্মার কুপ্রবৃত্তি) দমন এবং রূহের (আত্মার সুপ্রবৃত্তি) জাগরণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিগুলো সুফি দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সহজবোধ্য, যা সাধারণ মানুষের জন্য আধ্যাত্মিকতার পথকে সহজ করে। নিচে সপ্ত পদ্ধতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো-
১. তাওবা (অনুতাপ) পাপের জন্য আন্তরিক অনুতাপ ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা। ২. জিকির (আল্লাহর স্মরণ): আল্লাহর নাম ও গুণাবলির স্মরণ, মন ও হৃদয়কে আল্লাহর প্রতি কেন্দ্রীভূত করা।  ৩. হালকা (আধ্যাত্মিক নৃত্য): আল্লাহর প্রেমে উদ্বেল হয়ে সাধনার সময় শরীরের স্বতঃস্ফূর্ত নড়াচড়া বা নৃত্য। ৪. মুরাকাবা (ধ্যান): আল্লাহর সান্নিধ্যে মনকে একাগ্র করে ধ্যান করা। ৫. মুহাব্বত (ঐশ্বরিক প্রেম): আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও ভক্তি। ৬. মুজাহিদা (আত্মশুদ্ধি): নফসের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও আত্মশুদ্ধি। ৭. ফানা ফিল্লাহ (আল্লাহর মধ্যে বিলীন হওয়া): নিজের অহং ও ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পণ করে তাঁর মধ্যে বিলীন হওয়া।
 'হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহঃ)' -এর (১৮২৬-১৯০৬) পরবর্তী সাধকবৃন্দ: