ধ্বনিবিজ্ঞান
ইংরেজি: Phonetics

ধ্বনিবিজ্ঞান ভাষাতত্ত্বের একটি মৌলিক শাখা। এতে মানুষের ভাষার ধ্বনির উৎপত্তি, উচ্চারণ, ভৌত বৈশিষ্ট্য এবং শ্রবণ-প্রক্রিয়া বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। ধ্বনিবিজ্ঞান ভাষার ধ্বনিকে বাস্তব  রূপে পর্যবেক্ষণ করে; অর্থাৎ ধ্বনি কীভাবে সৃষ্টি হয়, কীভাবে বায়ুর মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং মানুষের কর্ণ ও মস্তিষ্কে কীভাবে অনুধাবিত হয়—এসব বিষয় এর আলোচ্য। ধ্বনিতত্ত্ব যেখানে ভাষায় ধ্বনির কার্যকারিতা ও ধ্বনিম
(phoneme) নিয়ে আলোচনা করে, ধ্বনিবিজ্ঞান সেখানে প্রকৃত উচ্চারিত ধ্বনি (phone) নিয়ে আলোচনা করে।

ব্যুৎপত্তি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত রূপ হলো- ধ্বনিবিজ্ঞান = ধ্বনি + বিজ্ঞান
ধ্বনিবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য: ধ্বনিবিজ্ঞানের প্রধান উদ্দেশ্য হলো— ধ্বনিবিজ্ঞানের ইতিহাস: ধ্বনিবিজ্ঞানের ইতিহাস মানবসভ্যতার ভাষাচর্চার ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। মানুষ ভাষা ব্যবহার শুরু করার পর থেকেই ধ্বনি, উচ্চারণ এবং শব্দের গঠন সম্পর্কে সচেতনতা জন্ম নেয়। তবে ধ্বনিবিজ্ঞান একটি স্বতন্ত্র ভাষাতাত্ত্বিক শাস্ত্র হিসেবে গড়ে ওঠে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর ভিতরে ধ্বনিবিজ্ঞান বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ভাষায় ধ্বনিবিজ্ঞানের শাস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এই বিচারে ধ্বনিতত্ত্বকে ঐতিহাসিকভাবে প্রাচীন সভ্যতা অনুসারের বিচার করা হয়। যেমন প্রাচীন ভারত, গ্রিস, আরব, ইত্যাদি সভ্যতার বিচারে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ধ্বনিতত্ত্বের বিকাশকে উল্লেখ করা হয়।

মধ্যযুগে আরবি  ধ্বনিবিজ্ঞানের বিকাশ: ভাষাবিদেরা কুরআনের শুদ্ধ তিলাওয়াতের জন্য তাজবীদ শাস্ত্রে ধ্বনির উচ্চারণস্থান (মাখরাজ) ও উচ্চারণবিধি বিশদভাবে নির্ধারণ করেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে আধুনিক ধ্বনিবিজ্ঞানের বিকাশ:  হেনরি সুইট, আলেকজান্ডার জন এলিস এবং ড্যানিয়েল জোন্স আধুনিক ধ্বনিবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে International Phonetic Association (আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক সমিতি) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং International Phonetic Alphabet (IPA) (আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা) প্রবর্তিত হয়, যা বিশ্বের ভাষার ধ্বনি লিপিবদ্ধ করার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। বর্তমানে ধ্বনিবিজ্ঞান ভাষা-প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কথন শনাক্তকরণ
(Speech Recognition), পাঠ্য থেকে কথন (Text-to-Speech), চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ভাষা-শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ধ্বনিবিজ্ঞানের প্রধান শাখা

ধ্বনিবিজ্ঞানের গুরুত্ব


তথ্যসূত্র