অশ্ব (বিশ্বকোষ)
অশ্ব [অভিধান] স্তন্যপায়ী শ্রেণির ইকুইডি Equidae ) গোত্রের একটি নিরেট-খুরযুক্ত তৃণভোজী চতুষ্পদী প্রাণী।
 
Kingdom (রাজ্য) : Animalia
Phylum (পর্ব) : Chordata
Class (শ্রেণি) : Mammalia
Order (বর্গ) : Perissodactyla
Family (গোত্র) : Equidae
Genus (গণ) : Equus
Species (প্রজাতি) caballus

প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ বৎসর আগে বিভাজিত খুরবিশিষ্ট প্রাণী থেকে ঘোড়ার সৃষ্টি হয়েছিল। মূলত ঘোড়ার পূর্ব-পুরুষের পায়ে তিনটি করে আঙ্গুলের মতো অঙ্গ ছিল। বিবর্তিত ঘোড়ার পায়ের আঙুলগুলো যুক্ত হয়ে একটি অখণ্ড খুরে পরিণত হয়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের দিকে বিবর্তিত ঘোড়া পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

সহযোগী প্রাণী হিসাবে মানুষের সাথে এদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ বছর আগে।
ধারণা করা হয়, মধ্য এশিয়ার যাযাবররা মানুষ প্রথম ঘোড়াকে পোষ মানিয়ে গৃহপালিত পশুতে পরিণত
করেছিল। প্রথম দিকে তারা ঘোড়াকে ভারবাহী প্রাণী ও চলাচলের বাহন হিসাবে ব্যবহার করতো। পরবর্তী সময়ে তারা পশুচারণের সময় ঘোড়ার পিঠে চড়ে তদারকি করতো। প্রায় একই সময়ে গাড়ির সাথে জুড়ে ঘোড়াকে ব্যবহার করতো।

একসময় দ্রুত দূরের পথ বা দুর্গম পথ অতিক্রমণে ঘোড়া একমাত্র বাহন ছিল। পরবর্তী সময়ে ঘোড়াকে মানুষ যুদ্ধে ব্যবহার করা শুরু করেছিল। যুদ্ধের জন্য ঘোড়াকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেনাবহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হতো। পরে অশ্ববাহিত বিশেষ ধরনের সেনাদল দিয়ে অশ্বারোহী বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন খেলাতে প্রশিক্ষত ঘোড়া ব্যবহার করার শুরু হয়েছে আরও পরে।

পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের প্রাকৃতিক পরিবেশের সূত্রে এর নানাবিধ দৈহিক পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে দৈহিক আকার, কর্মক্ষমতা গায়ের রঙ ইত্যাদির বিচারে ঘোড়াকে নানাভাবে চিহ্নিত করা হয়। উচ্চতার বিচারে পনি নামক ঘোড়া সবচেয়ে ছোটো। আরব বা ইউরোপীয় ঘোড়ার উচ্চতা সে তুলনায় অনেক বেশি। ঘাড়ের কাছে উপ-প্রজাতি ভেদে এর উচ্চতা ৩০ থেকে ৬৯ ইঞ্চি এবং ওজন ৫৪ থেকে ৯৯৮ কেজি হয়। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে ঘোড়ার প্রায় ৪০০টি প্রকরণ পাওয়া যায়। গাধার সাথে সম্মিলনে সৃষ্ট  সঙ্কর প্রাণী খচ্চর।

গর্ভধারণের ৩২০-৩৭০ দিন পর ঘোটকী একটি শাবক প্রসব করে। কদাচিৎ দুটি শাবকও প্রসব করে। জন্মের পর কিছুদিন মায়ের দুধ খায়। পরে এরা তৃণভোজী হয়ে উঠে। খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মুখের সম্মুখভাগে ১২টি কর্তন দন্ত আছে। চোয়ালের পিছনের দিকে রয়েছে ২৪টি পেষণ দাঁত। এদের জীবনকাল ২৫ থেকে ৩০ বৎসর।

সাধারণত ঘোড়ার গতি ৬.৪ মাইল/ঘণ্টা। তবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা যুদ্ধে ব্যবহৃত ঘোড়া প্রজাতি ভেদে ১৩ থেকে ২০ মাইল/ঘণ্টা বেগে দৌড়াতে পারে।

বন্য ঘোড়া দলবদ্ধভাবে বিচরণ করে। বন্য ঘোড়ার শত্রু মূলত সিংহ বা বাঘ জাতীয় প্রাণী। তবে গতি এবং দীর্ঘক্ষণ তীব্র বেগে দৌড়ানোর ক্ষমতার জন্য এর দ্রুত পালাতে সক্ষম হয়। শত্রুকে আঘাত করার সময় এরা পিছনের দুই পা দিয়ে তীব্রভাবে আঘাত করে।